শর্ট টার্ম ইনভেস্টমেন্টে পা বাড়ানোর আগে মাথায় রাখতে হবে এগুলো, নয় তো ঠকতে হতে পারে

শর্ট টার্ম ইনভেস্টমেন্টের পথে হাঁটার আগে কিছু বিষয়ে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি

শর্ট টার্ম ইনভেস্টমেন্টের পথে হাঁটার আগে কিছু বিষয়ে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি

  • Share this:

ইনভেস্টেমেন্ট, ইনসিওরেন্স নিয়ে প্রত্যেকেরই একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে। একটি ফিনান্সিয়াল গোল থাকে। ধরা যাক, কেউ আগামী তিন বছরের মধ্যে ফরেন হলিডের প্ল্যান করছেন বা একটি বাড়ি কেনার জন্য ডাউন পেমেন্টের জোগাড় করছেন। এগুলির জন্য কিন্তু যথাযথ প্ল্যানের দরকার। এ ক্ষেত্রে অনেকেই স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগের কথা ভাবেন। আর সেই সূত্রেই উঠে আসে শর্ট টার্ম ইনভেস্টমেন্টের প্রসঙ্গ। তবে এই শর্ট টার্ম ইনভেস্টমেন্টের পথে হাঁটার আগে কিছু বিষয়ে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

শর্ট টার্ম ইনভেস্টমেন্টের সমস্যাগুলি:

শর্ট টার্মে সেভিং হলেও, বেশ কিছু বিষয়ে নজর দিতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুদের হার কম হয়। ফিক্সড ডিপোজিটেও সুদের হার বেশ কম। গত বছরের তুলনায় এ বছরের পরিস্থিতি আরও খারাপ। ২০১৯ সালে রেপো রেট ছিল ৬ শতাংশ, সেই জায়গায় আজ ৪ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সালের মার্চে এক বছরের ফিক্সড ডিপোজিটে ৬.৮ শতাংশ সুদ দিত SBI। এখন সেই জায়গায় সুদের হার ৪.৯ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে এমারজেন্সি ফান্ডও একটি বড় বিষয়।

বিনিয়োগের সময় উচ্চ আশার বদলে বাস্তবসম্মত ভাবতে হবে:

সুদের হার কমছে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। এই রকম পরিস্থিতিতে বাস্তবসম্মত চিন্তাভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ফিস্কাল ডেফিসিটও। তাই বিনিয়োগ করতে ক্ষতি নেই, কিন্তু এই শর্ট টার্ম ইনভেস্টমেন্টের উপরে ভিত্তি করেই নিজেদের রিটার্ন টাকা নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে বিনিয়োগকারীদের। তাই শর্ট টার্মে অতিরিক্ত রিটার্নের আশা বা পরিকল্পনাহীন বিনিয়োগের বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে ফিনান্সিয়াল গোল অনুযায়ী ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান করা উচিৎ। যদি টার্গেট অ্যামাউন্ট হাই হয়, তা হলে অল্প সেভিংসে কোনও লাভ নেই।

কোথায় বিনিয়োগ করা উচিৎ?

যদি ইনকাম ট্যাক্সের পরিমাণ কম হয়, তা হলে ট্র্যাডিশনাল ইনভেস্টমেন্টের পথে হাঁটাই শ্রেয়। এ ক্ষেত্রে ভালো ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিট করা যেতে পারে। এতে ভালো সুদের হারও মেলে। কোনও প্রাইভেট সেক্টর বা ছোট ফিনান্স ব্যাঙ্কেও ফিক্সড ডিপোজিট করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ১৫ মাসের ফিক্সড ডিপোজিটে ৬.৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদের হার দেয় DCB ব্যাঙ্ক। এক বছরের ফিক্সড ডিপোজিটের জন্য ৭.২৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদের হার দিতে পারে উৎকর্ষ স্মল ফিনান্স ব্যাঙ্ক। তবে বিশেষজ্ঞ জয়দীপ সেনের কথায়, হাই ইন্টারেস্ট রেটের সঙ্গে হাই ক্রেডিট রিস্কের বিষয়টিও যুক্ত।

যদি বেশি পরিমাণ আয়কর দিতে হয় এবং বাজারের গতিবিধি নিয়ে একজন ওয়াকিবহাল থাকেন, তা হলে বন্ড ফান্ডে বিনিয়োগের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ২-৩ বছরের জন্য শর্ট টার্ম বন্ড ফান্ড বা এক বছরের কম সময়ের মধ্যেও আল্ট্রা শর্ট টার্ম বন্ড ফান্ডে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। প্রয়োজনে আরবিটরেজ ফান্ডেও টাকা রাখা যেতে পারে। তবে মিউচুয়াল ফান্ডের স্কিম পোর্টফোলিও, ক্রেডিট প্রোফাইলগুলির উপরে নিয়মিত নজর রাখতে হবে।

তাই শর্ট টার্ম গোলের কথা মাথায় রেখে প্ল্যানিং করলে রিস্ক কম। মাথায় রাখতে হবে, যে কোনও সময়ে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তাই নিজের ঝুঁকির সম্ভাবনা নিজেকেই কমাতে হবে। সমস্ত দিক ভাবনা-চিন্তা করেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: