চাকরি থেকে ব্যবসা, ‘ভুকা’র কোপেই দুনিয়া জুড়ে অনিশ্চয়তা !

চাকরি থেকে ব্যবসা, ‘ভুকা’র কোপেই দুনিয়া জুড়ে অনিশ্চয়তা !
  • Share this:

#কলকাতা: ‘ভুকা দুনিয়া’। দুনিয়ার বহু মানুষের কাছেই দিনে প্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করাটাই সমস্যা। আবার সেই বিশ্বেই তাবড় প্রযুক্তিবিদ, বড় কর্পোরেটকে মাথা ঘামাতে হচ্ছে ভুকা দুনিয়ার অনিশ্চয়তা নিয়ে। ব্যবসা হোক কিংবা পড়াশোনা বা বাড়িতে বসে নেটে সিনেমা দেখা -- সবেতেই নাকি এই ভুকা।

কী এই ভুকা? ওয়ার্ল্ড ডিজনির প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডানকান ওয়ার্ডলের দাবি, গোটা বিশ্বেই অনিশ্চয়তার এমন এক আবহ, যা আগেও কখনও দেখা যায়নি। ইনফোকম ২০১৯ সম্মেলনে এসে বিষয়টি ব্যাখ্যা করলেন ডানকান।

ভোলাটাইল, আনসার্টেন, কমপ্লেক্স, অ্যামবিগুয়াস ওয়ার্ল্ড অর্থা‍ৎ ভুকা। অর্থাৎ চরম এক অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যাওয়া। এরিকসন গ্লোবালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অমিতাভ রায়েরও দাবি, এই অনিশ্চয়তাই অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

ভারত, চিন-সহ গোটা বিশ্বে আর্থিক মন্দার পিছনেও নাকি এই ভুকা! কী রকম? ডিজিটাল প্রযুক্তি কী ভাবে মানুষের ভাল করতে পারে, তার উদাহরণ ভুরিভুরি। তা কাজে লাগে উন্নত মানের স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে। ঠিক সময়ে বীজ বুনে ঠিক দামে ফসল বেচে মুনাফা ঘরে তুলতে পারেন চাষি। আটকানো যেতে পারে হার্ট অ্যাটাকও! কিন্তু ডিজিটাল দুনিয়ায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক্স, মেশিন লার্নিংয়ের মতো প্রযুক্তির হাত ধরতে না পেরে যাঁরা ছিটকে যাচ্ছেন, তাঁদের কী হবে? চালকবিহীন গাড়ি এলে কী হবে পৃথিবীর ১.২ কোটি ড্রাইভারের? সেলাইয়ের কাজ যন্ত্র কেড়ে নিলে কোথায় যাবেন দরজিরা? এটাই বুঝে ওঠা যাচ্ছে না। অর্থাৎ আগামীদিনে চাকরিটাই থাকবে কিনা, ব্যবসা হবে না কিনা বা হলেও কীভাবে হবে, তাঁ আঁচ করা সম্ভব নয়। অন্তত এই ২০১৯ সালে দাঁড়িয়ে। আর তাতেই বিনিয়োগ থমকে। পাশ করে বেরিয়েও চাকরি মিলছে না। অ্যাক্সেঞ্চার টেকনোলজিসের গ্রুপ চিফ এগ্‌জিকিউটিভ ভাস্কর ঘোষের দাওয়াই, সংকট কাটাতে উপযুক্ত দক্ষতা অর্জনে। বিশেষজ্ঞ সুধাংশু পালসুলের দাবি,বাচ্চার কান্না থামাতে মোবাইলের কেরামতি নয়, আস্থা থাকুক কোলে তুলে আদরে। সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞ মিশা গ্লেনিও অকপটে জানালেন, ডিজিটাল দুনিয়াতেও মনের ছোঁয়া জরুরি। সেটা নেই বলেই সমস্যার মোকাবিলা করা যাচ্ছে না। গ্লেনির বক্তব্য, আগামী পাঁচ বছরে গোটা বিশ্বে প্রায় ১২.৭ কোটি চাকরি যেমন খোয়া যাবে, তেমনই কিন্তু একই সঙ্গে ২০ কোটিরও বেশি নতুন কাজের সৃষ্টি হবে।

বদলে যাচ্ছে ব্যাঙ্কিং, ফিনান্স ও পার্সোনাল ইউটিলিটি ক্ষেত্রও। শুধু অনলাইন ব্যাঙ্কিং নয়, সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ উঠে আসছে। স্টেট ব্যাঙ্কের এমডি অরিজিৎ বসু জানাচ্ছেন, তাঁদের ৪৩ কোটি গ্রাহকের মধ্যে আট কোটি গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নেন। ফলে প্রযুক্তি নির্ভর পরিষেবার পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার মতো প্রান্তিক জায়গায় সাধারণ ব্যাঙ্কিং পরিষেবার প্রয়োজন এখনও যথেষ্ট রয়েছে। তাই চলতি অর্থবর্ষে তাঁরা সারা দেশে আরও ৫০০টি শাখা খুলছেন। একই সঙ্গে ঢেলে সাজানো হচ্ছে সুরক্ষা ব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খালি শিক্ষাব্যবস্থায় কিছুটা বদল দরকার। তা হলেই অন্যদের পিছনে ফেলে এগিয়ে যাবে ভারত।

First published: December 6, 2019, 10:10 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर