বাজেট পেশের আগে বন্ধ হচ্ছে Scooters India, সম্মতি দিল কেন্দ্র

প্রচুর টাকা ক্ষতির পর এই সংস্থাটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রচুর টাকা ক্ষতির পর এই সংস্থাটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: পাকাপাকি ভাবে বন্ধ হতে চলেছে প্রায় পাঁচ দশক পুরনো স্কুটার ইন্ডিয়ার দরজা। এক সপ্তাহ আগেই রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাটি বন্ধ করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার অর্থনীতি বিষয়ক কমিটি বা CCEA। এবার সম্মতি দিল সরকার। প্রচুর টাকা ক্ষতির পর এই সংস্থাটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্কুটার ইন্ডিয়াকে বেশ কয়েকবার বিক্রির চেষ্টা করে কেন্দ্র। ২০১৮ সালে এই নিয়ে একটি নোটিস জারি করে আবেদনপত্রও চাওয়া হয়। কিন্তু তখন সে ভাবে কারও কাছ থেকে উত্তর পাওয়া যায়নি। এই বার মন্ত্রীসভার ছাড়পত্র মেলায় ও সরকারের অনুমোদন পাওয়ার পর হেভি ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড পাবলিক এন্টারপ্রাইজ মন্ত্রকের তরফে ফের গোটা প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে।

সংস্থার তরফে সরকারকে জানানো হয়েছে, সংস্থা পুরোপুরি বন্ধ করতে তাদের ৬৫.১২ কোটি টাকার ঋণ লাগবে। এবং কর্মীদের ভলান্টিয়ারি রিটায়ারমেন্ট স্কিম (VRS) ও ভলান্টিয়ারি সেপারেশন স্কিম (VSS)-এ অর্থ দেওয়া হবে। বর্তমানে সংস্থায় ১০০ জন কর্মী রয়েছেন।

জানা যাচ্ছে, স্কুটার ইন্ডিয়া এই ব্র্যান্ড নামটি আলাদা করে বিক্রি করা হচ্ছে। এর অধীনেই বিজয় সুপার, ল্যামব্রেটা, বিক্রম ও ল্যামব্রো-র মতো ব্র্যান্ড রয়েছে।

সংস্থাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ১৪৭.৪৯ একর জমি উত্তরপ্রদেশ স্টেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অথরিটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এর সঙ্গে জড়িত সমস্ত অংশীদারকে বিষয়টি ইতিমধ্য়েই জানানো হয়েছে।

স্কুটার ইন্ডিয়ার পথচলা অনেক পুরনো। ১৯৭২ সালে গঠিত হয় এই সংস্থাটি। যার প্রথমদিকে লক্ষ্য ছিল প্রচলিত ও বিকল্প, দু’ধরনের জ্বালানি নির্ভর তিন চাকার গাড়ি তৈরি করা। ১৯৭৫ সাল থেকে সেই ভাবনা বদলে তারা স্কুটার তৈরি শুরু করে। দেশে বিজয় সুপার, বিদেশে ল্যামব্রেটা ব্র্যান্ডের স্কুটার তৈরি শুরু করে। তবে ১৯৯৭ সাল থেকে শুধুই বিক্রম ও ল্যামব্রো ব্র্যান্ডের তিন চাকার গাড়ি তৈরির ব্যবসা চালিয়ে যায় তারা। কিন্তু ধীরে ধীরে ব্যবসায় অবনতি হয়। ক্ষতির মুখে পড়তে শুরু করে সংস্থাটি এবং এমন অবস্থা দাঁড়ায় যে এটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবং তার পরই তোড়জোড় শুরু হয়।

প্রথমদিকে সে ভাবে কেউ আগ্রহ না দেখালে শেষে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তই নেওয়া হয় সংস্থার তরফে। এমন এক সংস্থার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই অনেক মন্তব্য করছেন। অনেকের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই সংস্থার তৈরি গাড়ির সঙ্গে। ফলে অনেকে আবেগপ্রবণও হয়ে পড়েছেন এই খবর পাওয়ার পর!

Published by:Ananya Chakraborty
First published: