বাজেট ২০২১: দেশের অর্থনৈতিক হাল ফেরাতে প্রয়োজন কর সংস্কার, বলছেন প্রাক্তন অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা অরবিন্দ বীরমণি!

সরকারের কোষে রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়টি সব সময়েই প্রফিট এবং মার্জিনের সাপেক্ষে বিচার করা হয়, এক্ষেত্রে ওয়েজেস আর লেবার নিয়ে কোনও আলোচনাই হয় না।

সরকারের কোষে রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়টি সব সময়েই প্রফিট এবং মার্জিনের সাপেক্ষে বিচার করা হয়, এক্ষেত্রে ওয়েজেস আর লেবার নিয়ে কোনও আলোচনাই হয় না।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: শাসনব্যবস্থা জনসাধারণের পক্ষে একমাত্র তখনই সুখকর হয়ে উঠেছে, যখন অর্থমন্ত্রীরা প্রয়োজন মতো কর আদায় ব্যবস্থায় সংস্কারসাধন করেছেন। আবার, করের অতিরিক্ত বোঝা দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে করে তোলে ভঙ্গুর, সে কথারও সাক্ষ্য ইতিহাস সময়ে সময়ে দিতে ভোলেনি। সেই দিকে লক্ষ্য রেখে এবং বিশেষ করে করোনাকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারের প্রাক্তন প্রধান অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা অরবিন্দ বীরমণি (Arvind Virmani) কেবল বলছেন একটাই কথা- দেশের অর্থনীতির শুষ্ক খাতে জোয়ার আনতে বলিষ্ঠ কর সংস্কারের পদক্ষেপ প্রয়োজন!

খবর বলছে যে বীরমণি সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েটেড চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া-র একটি ভার্চুয়াল অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেখানেই ২০২১-২০২২ কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে তিনি তাঁর সুচিন্তিত মতামত পেশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে কর সংস্কারের লক্ষ্যে সবার আগে নজর দিতে হবে ডায়রেক্ট ট্যাক্স কোডে। যদি একবিংশ শতকের আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলতে হয়, তা হলে পুরনো কর-নিয়মগুলো আঁকড়ে থাকলে চলবে না। সেই জন্যই এই সময়ের উপযোগী করে কর ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে বলে জানিয়েছেন বীরমণি।

এই প্রসঙ্গে যে শুধু সরকারের সদিচ্ছাই যথেষ্ট নয়, সে কথাটিও বলতে ভোলেননি বীরমণি। তিনি দাবি করেছেন যে গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স কাউন্সিলকে এই ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। GST প্রক্রিয়া যত সরল হবে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও তত উন্নত হবে বলে মতামত দিয়েছেন তিনি। এক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ ক্ষেত্রে GST ১৫ শতাংশ হওয়া উচিৎ বলে জানিয়েছেন বীরমণি।

সরকারের প্রাক্তন প্রধান অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা ছাড়াও এই অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেছিলেন DBS Bank-এর ইকোনমিস্ট রাধিকা রাও (Radhika Rao)। সরকারের কোষে কী ভাবে আর্থিক সমৃদ্ধি আসতে পারে, সে বিষয়ে মুখ খুলেছেন তিনিও।

সরকারের কোষে রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়টি সব সময়েই প্রফিট এবং মার্জিনের সাপেক্ষে বিচার করা হয়, এক্ষেত্রে ওয়েজেস আর লেবার নিয়ে কোনও আলোচনাই হয় না। কিন্তু বাজেট এমনই হওয়া উচিৎ যা ইনকাম আর ওয়েজেসকে সমর্থন জোগাবে, সাফ বক্তব্য রাধিকার। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত না গ্রামীণ জীবনের সর্বাঙ্গীন উন্নতি না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা সম্ভব নয় বলেও মতামত পোষণ করেছেন তিনি।

পাশাপাশি রাধিকা তুলে ধরেছেন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তিনি সরকারের বাণিজ্য আর বিনিয়োগ নীতির সমালোচনা করে বলেছেন যে আমদানি ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপের বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে। তাঁকে সমর্থন করেছেন বীরমণিও। তিনি জানিয়েছেন, যে সব ক্ষেত্রে এই দেশ দ্রব্য উৎপাদনে দক্ষ, সেক্ষেত্রে আমদানি করা জিনিসের উপরে কড়া শুল্ক ধার্য করা উচিৎ। বিশেষ করে চিনা পণ্যের প্রসঙ্গে এই নীতি আরোপে জোর দিয়েছেন বীরমণি।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: