মুর্শিদাবাদে বিজয়পুর রেশম শিল্পীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু করল EDII

মুর্শিদাবাদে বিজয়পুর রেশম শিল্পীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু করল EDII

গ্রামীণ শিল্পীদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে মুর্শিদাবাদের তিনটি গ্রামে আরও উন্নত মালবেরি রেশম চাষ সম্ভব হবে বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা ৷

  • Share this:

#মুর্শিদাবাদ: শিল্পদ্যোগীদের বাণিজ্যিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জন্য জাতীয় স্তরে বহু বছর ধরে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান হল Entrepreneurship Development Institute of India (EDII)। এবার তাদের উদ্যোগেই পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বিজয়পুরে মোট ৫৫০ জন রেশম শিল্পীকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তিন বছর ধরে চলবে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। Khadi Village Industries Commission এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রকের SFURTI উন্নয়ন যোজনার অধীনে তা বাস্তবায়িত হবে।

গ্রামীণ শিল্পীদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে মুর্শিদাবাদের তিনটি গ্রামে আরও উন্নত মালবেরি রেশম চাষ সম্ভব হবে বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা ৷

মুর্শিদাবাদ জেলা বহুকাল ধরেই রেশম উৎপাদনের জন্যে বিখ্যাত। কিন্তু এখানকার বেশিরভাগ রেশম চাষিই আর্থ-সামাজিক ভাবে খুব পিছিয়ে। এরা প্রধানত সুতো তৈরি ও বুননেরই কাজ করে। ইডিআইআই - এর হস্তক্ষেপে এই সমস্ত রেশম শিল্পীদের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে এবং রেশম চাষকে একটি পেশা হিসেবে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হবে। যে ৫৫০ জন শিল্পীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে তাদের মধ্যে ২২৬ জনই মহিলা। এবং শিল্পীদের ৪০ শতাংশই তফশিলি সম্প্রদায়ভুক্ত।

ইডিআইআই-এর ক্লাস্টার ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার সুবীর রায় বলেন, “গ্রামীণ শিল্পীদের ক্ষমতায়ণ করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। রেশম শিল্পীরা চিরাচরিতভাবে সুতো তৈরি ও বুননের কাজই এতোদিন করতেন। একটি সুবিধাকেন্দ্র তথা কমন ফেসিলিটি সেন্টার গড়ে তুলে তাদের আরও পেশাদারভাবে উৎপাদনের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যেমন, ডিজাইনিং, প্রিন্টিং, ফ্যাশন বস্ত্র তৈরি করা ইত্যাদি”। সুবীর রায় আরও বলেন, “রেশম শিল্পীদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে পারলে তাঁদের আয়ও বাড়বে। বর্তমানে এই রেশম শিল্প তালুকে বছরে হয় ২ কোটি টাকা মূল্যের ব্যবসা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তা বেড়ে অন্তত ৮ কোটি টাকা হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। রেশম শিল্পীরা এখন মাসে সাড়ে ৩ হাজার টাকা আয় করেন। তা বেড়ে তখন হবে মাসে ১০ হাজার টাকা।”

প্রথম পর্যায়ে ৫৫০ জন নতুন শিল্পীকে বেছে নেওয়া হয়েছে। যাঁদের সিল্কের শাড়ি ও বস্ত্র তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়াও এই শিল্প তালুকের অনুসারী হিসাবে আগামী পাঁচ বছরে রেশম শিল্পজাত পণ্য উৎপাদনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে আরও ২৫০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। ইডিআইআই এই শিল্পীদের বাজারের সঙ্গে পরিচয় ঘটিয়ে দেবে। অর্থাৎ পাইকারি বাজারের সঙ্গে এই শিল্প তালুকের যোগাযোগের ব্যবস্থা করবে। সেই সঙ্গে প্রথম সারির রফতানি প্রতিষ্ঠান ও ই-কর্মাস পোর্টালদের সঙ্গেও এই শিল্প তালুকের সেতুবন্ধের ব্যবস্থা করবে ইডিআইআই। বিদেশে রেশম বস্ত্র রফতানি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী এবং আন্তঃরাজ্য বাজারের সঙ্গে বিপণনের যোগসূত্র হিসাবে কাজ করবে এই শিল্প তালুক।

First published: 01:45:06 PM Dec 16, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर