বাজেট ২০২১: প্যানডেমিকে সাহায্য করতে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা বাজেটেও দেখতে চান IMF প্রধান!

বাজেট ২০২১: প্যানডেমিকে সাহায্য করতে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা বাজেটেও দেখতে চান IMF প্রধান!
মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দিতে এই কয়েক মাসে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দিতে এই কয়েক মাসে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১-২২ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ হতে চলেছে। ব্যবসায়ী থেকে চাকরিজীবী সকলেরই নজরে রয়েছে বাজেটের একাধিক বিষয়ের উপরে। তবে, সর্বোপরি কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২১-এ প্রভাব ফেলতে পারে প্যানডেমিক পরিস্থিতি এবং এই পরিস্থিতির কথায় মাথায় রেখেই সাজানো হতে পারে বাজেটের সাত-পাঁচ, এমনই বলছেন, ইন্ডিয়ান মানিটরি ফান্ডের প্রধান অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ (Gita Gopinath)।

তাঁর মতে, বিনিয়োগ, বরাদ্দকৃত অর্থ, ব্য়য় এবং স্বাস্থ্য খাত, এই সবেতেই পরিবর্তন আনতে পারে প্যানডেমিক। এবং আসন্ন বাজেটে তার প্রভাব দেখা যেতে পারে।

মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দিতে এই কয়েক মাসে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যা সরকারের একটা ভালো দিক বলে জানাচ্ছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, বাজেট নিয়ে অর্থমন্ত্রীকে কী সুপারিশ করা যেতে পারে! উত্তরে তিনি বলেন, কী ভাবে বাজেট ও বাকি বিষয় কাজ করতে পারে, তা বার বার দেখা এবং যদি তার জন্য অন্য কোনও সাহায্য় লাগে, তা চেয়ে নেওয়া দরকার।


তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে ক্যাপিটাল আয় বাড়ানোর জন্য ভালো সময় ব্যাঙ্ক ও নন-ব্যাঙ্কিং ফিনানসিয়াল কোম্পানিগুলির। আর মাথায় রাখতে হবে, প্যানডেমিক পরিস্থিতি চলে গেলে কিন্তু নন-পারফর্মিং লোনের পরিমাণ বাড়বে। এমনকি RBI-ও সেই পরিকল্পনাই করার কথা ভাবছে।

তবে, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির সরকারের সাহায্য লাগতে পারে। এসব কিছু মাথায় রেখে পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার স্পেন্ডিংয়ে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

গোপীনাথ বলেন, পাবলিক ইনভেস্টমেন্টে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এবং স্বাস্থ্য খাতের দিকে নজর দিতে হবে। তাঁর কথায়, প্য়ানডেমিক পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর পরিস্থিতি বোঝা গিয়েছে। এবং দেখা যাচ্ছে, এই সময়টায় সব চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যখাতেই খরচা হয়েছে মানুষের। তাই সরকারি সাহায্য দিতে এই খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়াতে হবে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প জারি রাখার চেষ্টা করতে হবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে।

অর্থনীতি চাঙ্গা করতে GST-র দিকে নজর দিতে হবে এবং বেশ কিছু ক্ষেত্র থেকে GST তোলার চেষ্টা করতে হবে।

গোপীনাথ ডাইভেস্টমেন্টের কথাও উল্লেখ করেন এর সঙ্গে। বলেন, ডাইভেস্টমেন্ট নিয়ে কথা হয়েই থাকে কিন্তু এর সঠিক প্রয়োগ কখনওই হয় না। এই দিকটা লক্ষ্য রাখা দরকার।

সম্প্রতি দ্য ইন্টারন্যাশনাল মানিটরি ফান্ডের তরফে একটি নথি প্রকাশ করা হয়। যাতে, তাদের তরফে জানানো হয়, ভারতের অর্থনৈতিক উন্নতির ক্ষেত্রে ২০২১-এ ৮ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ২০২২-এ তা বেড়ে হতে পারে ১১.৫ শতাংশ। অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে একাধিক বিষয় শিথিল করার কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা।এই বিষয়ে গোপীনাথ আরও বলেন, কোভিডের ফলে দেশের বেশ কিছু ক্ষেত্রে বেকারত্ব বেড়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বেকারত্ব বেড়েছে। যদিও অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ায় তাও এই বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হবে। এবং বেকারত্ব কমানোর চেষ্টা করতে হবে।

একটি প্রশ্নের উত্তরে IMF-এর প্রধান বলেন, লকডাউনের ফলে প্রথম ফিসক্যাল পর্যায়ে যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে ঠিকই। কিন্তু পরের ফিসক্যাল পর্যায়ে কিন্তু বিষয়টিতে পরিবর্তন হয় এবং দ্রুত পরিস্থিতি পালটাতে শুরু করে। মোবালিটি রিটার্নও চোখে পড়ার মতোই হয়। তাঁর কথায়, ভারতের বেশ কিছু জায়গায় ন্যাচারাল হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হওয়া এই মোবিলিটি রিটার্ন বাড়ানোয় সাহায্য করেছে।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: