corona virus btn
corona virus btn
Loading

সাবধান! হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আপনার গতিবিধির উপর নজর রাখছে এই অ্যাপগুলি!

সাবধান! হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আপনার গতিবিধির উপর নজর রাখছে এই অ্যাপগুলি!

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কতক্ষণ অনলাইন রয়েছেন, কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করছে সমস্ত কিছু ট্র্যাক করতে থাকে। এর মাঝেই শুরু হয় তথ্যচুরি।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: হোয়াটসঅ্যাপের মালিকানা নেওয়ার পর থেকেই এর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে বারবার পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে ফেসবুক। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল যে নিরাপদে রয়েছে, সেই বিষয়টিও সুনিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে এই সংস্থা। তবে এখনও বাজারে এমন কিছু ট্র্যাকিং অ্যাপ রয়েছে, যেগুলি খুব সহজেই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি করতে পারে। এমনকি এই কাজের জন্য হোয়াটসঅ্যাপের সেফটি স্ট্রাকচারও ভাঙতে হয় না এই ট্র্যাকিং অ্যাপগুলিকে। সম্প্রতি এমনই তথ্য তুলে ধরেছে এক সংবাদমাধ্যম। সব চেয়ে চিন্তার বিষয়, এখনও এই অ্যাপগুলি গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল স্টোরে উপলব্ধ রয়েছে। তাই সজাগ থাকুন।

স্টকারওয়্যার অ্যাপগুলি গুগল প্লে ও অ্যাপল অ্যাপস্টোরেও পাওয়া যায়:

আসলে এই স্টকারওয়্যার অ্যাপগুলি হোয়াটসঅ্যাপের অনলাইন সিগন্যালিং ফিচার ব্যবহার করে এবং এর মাধ্যমে জানার চেষ্টা করে কখন কে অনলাইন রয়েছে। প্রথম প্রথম হয়তো অল্পবিস্তর তথ্য মেলে, কিন্তু দিনের পর দিন এ ভাবে ট্র্যাকিং করতে করতে এই আউটসাইডার অ্যাপগুলি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের একটি বিস্তারিত প্রোফাইল তৈরি করে ফেলে। ধীরে ধীরে নানা তথ্য, গোপনীয়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলিকে চুরি করতে শুরু করে। এ বিষয়ে ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন (ইএফএফ)-এর সিনিয়র সিকিওরিটি রিসার্চার জানাচ্ছেন, এই হোয়াটসঅ্যাপ ট্র্যাকিং অ্যাপগুলি কোনও কাজেই আসে না। তবুও গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে।

কী ভাবে কাজ করে এই অ্যাপগুলি:

এই অ্যাপ্লিকেশনগুলি খুব সহজেই মন জয় করে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের। এ ক্ষেত্রে এরা কিছু লোভনীয় ফাঁদ পাতে। এরা বিজ্ঞাপন দেয় এই বলে যে, অ্যাপ্লিকেশনগুলি ব্যবহার করলে অন্যরা কখন ঘুমোচ্ছে, কখন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছে, এমনকি কার সঙ্গে কথা বলছে সেটাও বোঝা যাবে। এ ক্ষেত্রে এই অ্যাপগুলি বহুজনের অ্যাক্টিভিটি লগকে কাজে লাগিয়ে কে কার সঙ্গে কথা বলছে, সেটা জানার চেষ্টা করে। এই ট্র্যাকিং অ্যাপ যারা ব্যবহার করছে, তারা অন্যদের গতিবিধি জানার জন্য এই অ্যাপে বন্ধুবান্ধবের ফোন নম্বর এন্ট্রি করে। তার পর ওই অ্যাপ টার্গেট অর্থাৎ যার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে, তার গতিবিধি ট্র্যাক করতে থাকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কতক্ষণ অনলাইন রয়েছেন, কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করছে সমস্ত কিছু ট্র্যাক করতে থাকে। এর মাঝেই শুরু হয় তথ্যচুরি।

এই অ্যাপগুলি নিজেদের হেল্পিং টুল হিসেবে দাবি করে। যেমন, অনেক সময় বাচ্চা-বাচ্চা ছেলে-মেয়েদের উপর নজর রাখার জন্য বাবা-মায়ের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যাপ হিসেবে নিজেদের মার্কেটিং করতে শুরু করে অ্যাপগুলি। আর এই ফাঁকেই তথ্যচুরির জাল বুনতে থাকে। এই স্পাইওয়্যার অ্যাপ্লিকেশনগুলিকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যেতে পারে। অনেক অ্যাপের ক্ষেত্রে তো গুগল প্লে স্টোরে কয়েক লক্ষ ডাউনলোডের চোখ ধাঁধানো পরিসংখ্যানও দেওয়া থাকে। তাই ব্যবহারকারীদের ঠকাতে এই অ্যাপগুলির বেশি সময় লাগে না।

এখনও ফেসবুকের অ্যান্টি-অ্যাবিউজ সিস্টেমে রয়েছে এই অ্যাপগুলি:

সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই চ্যাটিং অ্যাপ্লিকেশন তাদের ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা সর্বদা রক্ষা করে তারা। ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল ফটো, লাস্ট সিন এবং অ্যাবাউট স্ট্যাটাস সমস্ত কিছুই সুরক্ষিত রাখছে তারা। হোয়াটসঅ্যাপের অটোমেটেড অ্যান্টি অ্যাবিউজ সিস্টেম এই হ্যাকিং অ্যাপগুলিকে চিহ্নিত করতে সমর্থ এবং সেগুলি ব্লক করতেও পারে। এর আগেও এই ধরনের অ্যাপ ব্লক করা হয়েছে। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপের অনুরোধ, অন্যান্য অ্যাপস্টোরগুলিও যেন এই অ্যাপগুলির প্রতি নজর রাখে এবং প্রয়োজনে সেগুলিকে সরানোর জন্য কড়া পদক্ষেপ করে।

তবে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত অনলাইন ফিচারগুলি বন্ধ করার কোনও রকম সুবিধা দেয়নি ব্যবহারকারীদের। তাই সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে এই অ্যাপগুলি থেকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনও উপায় নেই। ফেসবুকের প্রচেষ্টার পরও এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশনগুলি বেশি মাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে এবং খুব সহজেই যে কোনও অ্যাপ স্টোরে পাওয়া যায়। এ নিয়ে এক সংবাদ মাধ্যম ইতিমধ্যে এই হ্যাকিং অ্যাপ্লিকেশনগুলির ডেভেলপারদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু কারও কোনও বক্তব্য মেলেনি।

প্রসঙ্গত, যে স্টকারওয়্যার অ্যাপগুলির প্রয়োজনীয় সম্মতিপত্র নেই, সম্প্রতি সেগুলির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে গুগল। এই অ্যাপগুলি যে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের ট্র্যাক করছে, সেই মর্মেও একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাই ভুল করেও এই ধরনের ফাঁদে পা দেবেন না।সতর্ক থাকুন। নিজের গোপনীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করুন।

Published by: Dolon Chattopadhyay
First published: September 23, 2020, 11:38 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर