করোনা ভ্যাকসিনের আশায় বুক বাঁধছে দেশবাসী, কিন্তু স্বাস্থ্য বিমা কি খরচ দেবে ?

কিন্তু বর্তমানের এই স্বাস্থ্য বিমা ভ্যাকসিনেশনের কস্ট ও অ্যাডভার্স রিয়্যাকশনকে সামাল দিতে পারবে কি না, তা কারও জানা নেই

কিন্তু বর্তমানের এই স্বাস্থ্য বিমা ভ্যাকসিনেশনের কস্ট ও অ্যাডভার্স রিয়্যাকশনকে সামাল দিতে পারবে কি না, তা কারও জানা নেই

  • Share this:

#কলকাতা: সংক্রমণের ভয় পেরিয়ে দেশে ভ্যাকসিন আসার আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছে মানুষজন। ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। বিশ্বের নানা প্রান্তে পরীক্ষামূলক ভাবে ভ্যাকসিন প্রয়োগ চলছে। কিন্তু এই সবের মাঝেই কোভিড ভ্যাকসিনের (Covid 19 Vaccine) পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়গুলিও প্রকাশ্যে আসছে। আর এই সমস্ত বিষয় আমাদের বর্তমান স্বাস্থ্য বিমাকে (Health Policy) প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অনেকের মনেই জিজ্ঞাসা, সাধারণ মানুষের ভ্যাকসিনেশনের এই খরচ বহন করবে কে? যদি কোনও বিপরীত পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা হলে তার খরচ বহন করবে কে? বিমাকারীদের একাংশও একই কথা জানাচ্ছেন। তাঁদের কথায়, সকলেই চাইছেন ভ্যাকসিন নিয়ে নিরাপদে থাকতে, কিন্তু বর্তমানের এই স্বাস্থ্য বিমা ভ্যাকসিনেশনের কস্ট ও অ্যাডভার্স রিয়্যাকশনকে (Adverse Reactions) সামাল দিতে পারবে কি না, তা কারও জানা নেই।

বর্তমানে কী পরিস্থিতি?

করোনা-আক্রান্ত (Corona) হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সাধারণত ট্র্যাডিশনাল স্বাস্থ্য বিমাগুলিই (Health Insurance Policies) কাজ করছে। তা ছাড়া করোনার জন্য সাড়ে তিন মাস, সাড়ে ছয় মাস ও সাড়ে নয় মাস পর্যন্ত কভারেজের বিশেষ কিছু স্বাস্থ্য বিমা (Health Insurance) রয়েছে। রাজ্যগুলিতে একটি নির্দিষ্ট রেটও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠছে হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে। অনেকের অভিযোগ- রেট চার্ট মানছে না হাসপাতালগুলি। আর এখানেই অ্যাডভার্স রিয়্যাকশন নিয়ে গভীর চিন্তা দানা বাঁধছে। বিমাকারীদের কথায়, অনেক করোনারোগীর ক্ষেত্রে হাসপাতালের বিলের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রায় ১ লক্ষ থেকে ১.২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও পুরো টাকা জমা করার জন্য একাধিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ভ্যাকসিন ইনসিওরেন্সের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাকি রইল ভ্যাকসিন ট্রায়াল। এ ক্ষেত্রে ট্রায়ালের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাই যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করছে। তাই করোনা ভ্যাকসিন এলে, স্বাস্থ্য বিমার (Health Insurance) সাহায্যে তার কতটা মোকাবিল করা যাবে, তা এখনও অষ্পষ্ট।

একবার ভ্যাকসিন লঞ্চ হয়ে গেলে তার পর কী হবে?

প্রথম পর্যায়ে যাঁদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের প্রবণতা বেশি অর্থাৎ বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা ও শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়লে একটি ম্যান্ডেটরি কভারেজ (Mandatory Coverage) দেওয়া যেতে পারে। এমনই জানাচ্ছেন বিমাকারীরা। তবে ওই কভারেজ সাধারণ স্বাস্থ্য বিমা (Health Insurance)-এর থেকে ১৫-২০ শতাংশ বেশি দামি হবে। এ ক্ষেত্রে গুরুতর প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে, বিমাকারীরা পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন। সে ভাবেই হেল্থ ক্লেইমের (Health Claim) বিষয়টি সুনিশ্চিত হবে। যেহেতু এই ভ্যাকসিন নতুন ও পরিস্থিতিও সম্পূর্ণ ভিন্ন, তাই এই পলিসি কভারেজ পর্যাপ্ত হবে না বলে জানাচ্ছেন বিমাকারীরা।

প্রথম প্রথম শোনা যাচ্ছিল, পুরো দেশ Covid-19 ভ্যাকসিন পাবে। তবে সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কিছু বিবৃতি আবার অন্য কথা বলছে। স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণের (Rajesh Bhushan) বক্তব্যে দিন কয়েক আগেই স্পষ্ট হয়েছে যে, বর্তমান সরকার কখনও পুরো দেশ ভ্যাকসিনেশনের কথা বলেনি। তাই এখনও বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি। পরিস্থিতি অন্য রূপও নিতে পারে। সেই অনুযায়ী বিমা, বিমা থেকে রিটার্ন, তার প্রিমিয়াম, কভারেজ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আসতে পারে।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: