দেশে ভোজ্য তেলের দাম বাড়িয়েছে করোনাভাইরাস, কারণটা কী?

দেশে ভোজ্য তেলের দাম বাড়িয়েছে করোনাভাইরাস, কারণটা কী?

Photo-File

জানানো হয়েছে যে আগামী তিন মাসে দেশে ভোজ্য তেলের দাম আরও ৩০ টাকা বাড়বে।

  • Share this:

#হায়দরাবাদ: দেশে সক্রিয় হচ্ছে করোনাভাইরাসের (Coronavirus) নয়া স্ট্রেন। আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন মানুষ। দীর্ঘ প্রায় এক বছরের স্থবিরতা ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের দিকে এগোনোর সময়েই আচমকা ছন্দপতন নিয়ে চিন্তিত খোদ সরকার। পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলায় টিকাকরণের পাশাপাশি লকডাউনের বিকল্প যে আর কিছুতে নেই, তা ইতিমধ্যে প্রমাণ হয়েছে। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠে যে থেকে যায় শূন্যতা এবং তার ভার বহনে নাজেহাল হতে হয় সাধারণ নাগরিকদের, সে বিষয়ের সাক্ষী ইতিহাস। তেমনই এক দুর্দশার প্রতিভূ হয়ে ধরা দিল ভোজ্য তেলের আকাশছোঁওয়া দাম।

এক সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে যে করোনাভাইরাসের সূত্রে দীর্ঘ দিন জারি থাকা লকডাউনের জেরে দেশে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশ। ১০ মাস আগে ২০২০ সালের এপ্রিলে গ্রেড এক সূর্যমুখী তেলের এক লিটারের প্যাকেটের দাম ছিল ৯০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে। অন্য দিকে এক লিটার বাদাম তেল ও পাম ওয়েলের (Palm Oil) দাম গত ১০ মাসে যথাক্রমে ৯৫ ও ৭৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ ও ১১৫ টাকা হয়েছে বলে এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে। জানানো হয়েছে যে আগামী তিন মাসে দেশে ভোজ্য তেলের দাম আরও ৩০ টাকা বাড়বে।

ভোজ্য তেল সংস্থাগুলির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী করোনাভাইরাসের জেরে লকডাউন ও তার পরবর্তী সময়ে মানুষের চাহিদায় পরিবর্তন এসেছে। দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ রান্নার জন্য পাম তেল ছেড়ে সূর্যমুখী তেল বেশি কিনছেন। দেশের হোটেলগুলির রান্নাতে পাম তেল ব্যবহারের চল ছিল বেশি। তবে লকডাউনে সেই চাহিদাও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকখানি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী দেশে প্রায় পাঁচ মিলিয়ন বা ৫ কোটি টন ভোজ্য তেলের ঘাটতি রয়েছে। তার মধ্যে ২ কোটি টন পাম, এক কোটি টন সূর্যমুখী ও ২ কোটি টন বাদাম তেলের পরিসংখ্যান অন্তর্ভূক্ত। মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়া সহ অন্যান্য যে যে দেশ থেকে ভারত ভোজ্য তেল কিনত, সেখান থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। করোনাভাইরাসের করণে উৎপাদন বন্ধ বলে খবর।

ভোজ্য তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে পাম ও সূর্যমুখী তেলের উপর থেকে ইমপোর্ট ডিউটি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে সরকার। ভারতীয় তেল কোম্পানিগুলিকে পাম ও সূর্যমুখী তেল কেনার জন্য ৩২ ও ৩৮ শতাংশ ইমপোর্ট ডিউটি দিতে হয়। যা ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি। দেশের ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধির আরও একটি কারণ হিসেবে এই ফসল চাষে কৃষকদের অনীহাকেও দায়ী করা হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী ২০১৪ সাল পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানায় ৬০ লক্ষ একরে বিভিন্ন ভোজ্য তেলের বীজ বপন করা হত। বর্তমানে তা কমে ২০ লক্ষ একরে নেমেছে বলে জানানো হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে বাদাম তেলের চাষ প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছে।l

Published by:Debalina Datta
First published: