করোনাকালে ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে BNPL স্কিম, তবে সচেতন না হলে পড়তে হবে বড় ঋণের ফাঁদে!

করোনাকালে ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে BNPL স্কিম, তবে সচেতন না হলে পড়তে হবে বড় ঋণের ফাঁদে!

কী এই BNPL স্কিম? কতটা নিরাপদ এই প্ল্যাটফর্ম?

কী এই BNPL স্কিম? কতটা নিরাপদ এই প্ল্যাটফর্ম?

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: করোনা পরিস্থিতিতে অধিকাংশ সময় ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে কেটেছে। প্রতিটি ই-কমার্স সাইট থেকে শুরু করে অনলাইন মাধ্যমের ব্যবহার বেড়েছে। সেই সূত্র ধরে ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বাই নাউ পে লেটার (Buy Now Pay Later) স্কিম। কী এই BNPL স্কিম? কতটা নিরাপদ এই প্ল্যাটফর্ম? বিশেষজ্ঞদের কথায়, BNPL ব্যবহারের সময়ে সচেতন না হলে বড়সড় ঋণের ফাঁদে পড়তে হতে পারে। কিন্তু কেন? আসুন জেনে নেওয়া যাক খুঁটিনাটি!

কী ভাবে কাজ করে BNPL?

ক্রেডিট কার্ডের বিকল্প হিসেবে কাজ করে BNPL। এই Buy-Now-Pay-Later স্কিমের ক্ষেত্রে একাধিক ফিনটেক ফার্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রথমে এই ধরনের ফার্মে এনরোল করতে হয়। তার পর একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মেয়াদে কেনাকাটা ও বিল জেনারেটের সমস্ত কাজ হয়। এক্ষেত্রে যদি মেয়াদ পেরিয়ে যায়, তাহলে নানা ধরনের অতিরিক্ত চার্জ লাগে। অনেক ফার্ম আবার হাই-কস্ট পার্চেজ স্কিমগুলিকে নো-কস্ট ক্রেডিট স্কিমে বদলে দিতে পারে। যার মেয়াদ হয় ৩-৬ মাস। এই ফিনটেক ফার্মগুলি হল Amazon Pay, ePayLater, Kissht, LazyPay, Simpl, Slice, ZestMoney-সহ অন্যান্য সংস্থা।

BNPL ব্যবহার করতে গিয়ে একসঙ্গে একাধিক ফিনটেক ফার্মের মাধ্যমেও সাইন-আপ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ক্রেডিট প্রোফাইলের উপরে নির্ভর করে ক্রেডিট লিমিটের পরিমাণ হয় ১০০-৫০,০০০ টাকা। Flipkart, Amazon, BigBasket-সহ একাধিক ই-কমার্স ওয়েবসাইটেও থাকে এই BNPL অপশন। একই ভাবে Zomato, Swiggy-র মতো নানা ধরনের ফুড ডেলিভারি অ্যাপ এবং Goibibo, Cleartrip-এর মতো ট্রাভেল অ্যাপেও থাকে BNPL অপশন।

BNPL-এ খরচ কত?

একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। ধরা যাক, Simpl app-এর সাহায্যে কোনও ব্যক্তি জিনিসপত্র কিনলেন। এক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ভাবে ১৫ দিনের মধ্যে বিল জেনারেট হয়। এবার ওই ব্যক্তি যদি ডিউ ডেটের মধ্যে বিল জমা করতে না পারেন, তাহলে GST সহ প্রায় ২৫০ টাকা পর্যন্ত একটি লেট পেনাল্টি লাগে।

অন্যান্য অ্যাপেও একই পরিস্থিতি। যদি কোনও জিনিস কেনার সময়ে ছয় মাসের বেশি EMI অপশন নেওয়া হয়, তাহলে ২১ শতাংশ বার্ষিক সুদ চার্জ করা হয় Kissht অ্যাপের তরফে। খানিকটা একই পরিস্থিতি তৈরি হয় LazyPay অ্যাপেও। এক্ষেত্রে একটি সেটলমেন্ট ডেট থাকে। সেই তারিখ অনুযায়ী পুরো বিল দেওয়া যেতে পারে। অথবা কয়েকটি EMI-তে ভেঙে বিল জমা করা যেতে পারে।

অতিরিক্ত চার্জে বাড়তে পারে উদ্বেগ

এই ধরনের ক্রেডিট স্কিমে সাধারণত খুব একটা চার্জ লাগে না। টাকার পরিমাণ কম হয়। তবে যদি নজর দেওয়া না হয় অর্থাৎ কখনও ভুল করে ক্রেডিট বিল চেক না করা হয়, তাহলে একটা বড় অঙ্কের ঋণের সম্মুখীন হতে পারেন ব্যবহারকারীরা। যা জোগাড় করা কষ্টসাধ্য হতে পারে। এমনই জানাচ্ছেন rectifycredit.com-এর ডিরেক্টর অপর্ণা রামচন্দ্র (Aparna Ramachandra)।

তাঁর কথায়, এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে ব্যক্তির ক্রেডিট স্কোরের উপরেও প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে এই করোনা পরিস্থিতিতে প্রচুর মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। অনেকেই মাসিক ইনস্টলমেন্ট দিতে পারেননি। আর ডিউ ডেট পেরিয়ে যাওয়ার জেরে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকার ঋণের পাহাড় জমেছে। প্রভাব পড়েছে ক্রেডিট স্কোরের উপরেও। যা ভবিষ্যতে কোনও লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে খারাপ প্রভাব ফেলে। পরে কষ্ট করে লোন পাওয়া গেলেও সুদের হার অনেকটা বেশি হয়ে যায়।

সাবধানতা অবলম্বন খুব জরুরি

এই ধরনের ক্রেডিট পরিষেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সব সময়ে সচেতন থাকতে হবে। সত্যি কথা বলতে গেলে, এটি এক ধরনের ঋণের ফাঁদ। এক্ষেত্রে ১৫-৩০ দিনের মধ্যে বিল জেনারেট হয়। অনেক সময়ে কেনাকাটায় EMI ভিত্তিক পেমেন্ট অপশনের সুবিধাও থাকে। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। বিল জেনারেট সম্পর্কে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে। রিপেমেন্ট ডিউ ডেটের আগে প্রয়োজনীয় টাকা নিজের কাছেই রাখতে হবে। কারণ যদি সময়মতো রিপেমেন্ট না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর ক্রেডিট হিস্ট্রির উপরে প্রভাব পড়বে। প্রয়োজনে লেট বা ডিফল্ট চার্জ দিতে হয়। যা বাড়াতে পারে সুদের বোঝা। এর জেরে ভবিষ্যতে কোনও ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়। তাই সবার আগে নিজের মাসিক উপার্জনের দিকে নজর দিতে হবে। তার পরই এই ধরনের ক্রেডিট স্কিম নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে!

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published:

লেটেস্ট খবর