বাজেট ২০২১: স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করতে, পড়াশোনা মান বাড়াতে ও উন্নয়নের জন্য জোর দেওয়া হবে খেলায়?

বাজেট ২০২১: স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করতে, পড়াশোনা মান বাড়াতে ও উন্নয়নের জন্য জোর দেওয়া হবে খেলায়?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যানডেমিকের কথা মাথায় রেখে এবার বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বেশি বরাদ্দ করতে পারে সরকার। কিন্তু এখানেই উঠে আসে আরেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র- খেলা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যানডেমিকের কথা মাথায় রেখে এবার বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বেশি বরাদ্দ করতে পারে সরকার। কিন্তু এখানেই উঠে আসে আরেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র- খেলা।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: আর কিছুক্ষণেই সংসদে পেশ হতে চলেছে ২০২১-২২ অর্থবর্ষের বাজেট। প্রায় এক বছর প্যানডেমিক পরিস্থিতি কাটিয়ে কোন দিকে যেতে চলেছে দেশের অর্থনীতি। কী সুবিধা মানুষ পেতে চলেছেন, চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ীদের কপালেই বা কী আছে, বর্তমানে সেই দিকেই তাকিয়ে সকলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্যানডেমিকের কথা মাথায় রেখে এবার বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বেশি বরাদ্দ করতে পারে সরকার। কিন্তু এখানেই উঠে আসে আরেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র- খেলা। বিশেষ করে যুব সমাজে খেলার প্রয়োজনীয়তা ও এই খাতে অর্থ বরাদ্দ। কারণ খেলা কিন্তু সুস্থ থাকতে, পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে ও সর্বোপরি শিশুর সার্বিক বিকাশে সাহায্য করে। যুব সমাজকেও সক্রিয় রাখে।

খেলা ও স্বাস্থ্য

খেলা শুধুই আমাদের ফিট রাখতে বা পেশি মজবুত করতে সাহায্য করে এমন নয়। খেলা আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, খেলার পড়াশোনার উপরও যথেষ্ট ভালো প্রভাব রয়েছে। যারা খেলা করে, খেলা ভালোবাসে, তারা পড়াশোনায়ও মনোনিবেশ করতে পারে। তাই এই ক্ষেত্রে প্যানডেমিকের কথা মাথায় রেখে খেলাকেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন অনেকে। এক্ষেত্রে কোনও একটা এলাকায় কোনও টুর্নামেন্ট তৈরি করা বা এলাকা ভিত্তিক কোনও খেলা চালু করা যেতে পারে। তাঁদের মত, এই খেলাগুলি স্বাস্থ্য ভালো রাখার তাগিদেই সরকার শুরু করতে পারে এবং বাজেটে যদি স্বাস্থ্য খাতেও বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ায় তাতেও এক্ষেত্রে চলবে। খেলায় জোর দিলে ওবেসিটি, ডায়াবেটিস বা এই ধরনের রোগ থেকে অনেকে মুক্তি পাবে এবং বাচ্চাদের বেড়ে ওঠাও ভালো হবে।


স্বাস্থ্য ও পড়াশোনা

পড়াশোনার উপর খেলার প্রভাব কতটা, তা বুঝেছে সরকার আর তার প্রভাব পড়েছে নয়া শিক্ষা ব্যবস্থা ২০২০-র উপরে। NEP-তে তাই বলা হয়েছে, ১) খেলা স্কুলছুটের সংখ্যা কমায় ও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে। ২) শিক্ষা সবার জন্য, এটাতে গুরুত্ব দেয়। ৩) খেলার মাধ্যমে বাচ্চাদের পড়ানোও খুব সহজ হয় ও বাচ্চারাও খেলার ছলে পড়তে পছন্দ করে। পড়ার প্রতি অনীহা জন্মানোর প্রবণতা কমে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তিনটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার এই তিন বিষয়ে নজর দিয়েছেন। কিন্তু এই তিনটি বিষয় কার্যকর করতে দেশে, এই খাতে বেশি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন রয়েছে। খেলো ইন্ডিয়া ও ফিট ইন্ডিয়া মুভমেন্টের দ্বারাও খেলা বিষয়টি নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। এবং প্রত্যেকটি বিদ্য়ালয়ে যে ধরনেরই পরিকাঠামো আছে, তাতেই এই মুভমেন্টগুলি শুরু করা যেতে পারে.

উন্নয়ন

লিঙ্গ ভেদ কমাতে পারে যেকোনও খেলা। আমাদের দেশে এখনও এই সমস্যা রয়েছে ফলে খেলার মাধ্যমে এটি দূর করা যেতে পারে। NEP-তে খেলা বিষয়টিকে আধিক্য দেওয়া হয়েছে ঠিকই কিন্তু এটি কার্যকর করতে গেলে বেশ কিছু পদক্ষেপ করতে হবে। যেমন - ফিজিক্যাল এডুকেশনে কেরিয়ার নির্দিষ্ট করতে হবে। অর্থাৎ ট্রেনার বা কোচরা যেন চাকরি পায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। মহিলারা, যাঁরা ক্রীড়া ক্ষেত্রে নিজেদের কেরিয়ার গড়তে চান, তাদের চাকরির ব্যবস্থা করা। যাতে দেশের আরও অনেক মহিলা এই কেরিয়ারে আসতে চাইবে। পাশাপাশি মহিলারা যেখানে অনুশীলন করবে, সেই জায়গার সুরক্ষা নিশ্চিত করা। স্কুল, কলেজে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা তৈরি করা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। এছাড়াও বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্পে ক্রীড়াকে যোগ করা যেতে পারে।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published:

লেটেস্ট খবর