Union Budget 2021: আর্থিক ভারসাম্য রক্ষায় ডলার কেনায় জোর অর্থমন্ত্রকের? কী বলছে সমীক্ষা...

Union Budget 2021: আর্থিক ভারসাম্য রক্ষায় ডলার কেনায় জোর অর্থমন্ত্রকের? কী বলছে সমীক্ষা...
করোনার জেরে সারা বিশ্বেই টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই দেশ যেহেতু তৃতীয় বিশ্বের অন্তর্গত, সেহেতু এর ক্ষেত্রে ধাক্কাটাও অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।

করোনার জেরে সারা বিশ্বেই টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই দেশ যেহেতু তৃতীয় বিশ্বের অন্তর্গত, সেহেতু এর ক্ষেত্রে ধাক্কাটাও অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক বছর হয়ে গেল সুবিধের নয়। এর মধ্যে দিয়েই যতটা সম্ভব আয় এবং ব্যয়ের মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করে ভারত। প্রতি বছরের বাজেটেই চেষ্টা থাকে রাজস্ব ঘাটতি মিটিয়ে নেওয়ার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে অন্য বছরে যা-ও বা কাজটা সহজ ছিল, ২০২১-২০২২ অর্থবর্ষের বাজেটে তা হবে না। আগামী বাজেটে আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা করা বেশ কঠিন এক বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু কেন এই কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

উত্তরের আশায় আপাতত যে একটি বিষয় সারা বিশ্বে তুলকালাম ফেলে দিয়েছে, তার কথাই তুলে আনতে হবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের জেরে মোটামুটি সারা বিশ্বেই একটি টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থির সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই দেশ যেহেতু তৃতীয় বিশ্বের অন্তর্গত, সেহেতু এর ক্ষেত্রে ধাক্কাটাও অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। ফলে, প্রশ্ন উঠে আসছে বার বার- যদি ব্যয়ের পরিমাণ বাড়াতেই হয়, তাহলে সেই লক্ষ্যে কী রকমের পদক্ষেপ করতে পারে সরকার?

এক্ষেত্রে পদক্ষেপের ক্ষেত্রগুলোকে সহজেই চিহ্নিত করা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে অপরিকল্পিত লকডাউনের ফলে দেশের অনেক বাণিজ্য পুরোপুরি ভাবে বসে গিয়েছে। কী গ্রামাঞ্চলে, কী শহরাঞ্চলে তৈরি হয়েছে এক সুবিশাল কাজের অভাবের জায়গা। উপার্জন বন্ধ হয়ে গিয়েছে এক বিশাল জনসংখ্যার। ফলে, কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এবারের বাজেটে সরকারকে কাজ করতে হবে। তবে উপার্জনশীলদের উপরে আয়করের অতিরিক্ত বোঝা বাড়ালে চলবে না। নয় তো বিষয়টা তাদের ক্রয়ক্ষমতায় সঙ্কোচন ডেকে আনবে, আখেরে বসিয়ে দেবে দেশের অর্থনীতিকে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যখাতেও সরকারের ব্যয়ের পরিমাণ আগামী বাজেটে না বাড়ালেই নয়!


কিন্তু বলা যতটা সহজ, তাকে কাজে পরিণত করাটা মোটেই তেমন নয়! ব্যয় না হয় বাড়াতে হবে সরকারকে, কিন্তু তার হাতে টাকা কই? বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই দিক থেকে আগামী অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman) দুই উদ্যোগ নিতে পারেন। এর মধ্যে প্রথমটি হল নানা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণ। এর মাধ্যমে সরকারের হাতে কিছু টাকা আসবে, যা ব্যয়ের খাতে প্রয়োগ করা যায়।

যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে সেই পরিমাণটাও প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে সীতারমনকে হাত পাততে হবে ফেডেরাল রিজার্ভের কাছে। সেই সম্ভাবনা যে রয়েছে, সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এক ইঙ্গিতে তা স্পষ্ট হয়েছে। কেন না, ফেডেরাল রিজার্ভ থেকে ডলার কেনার ব্যাপারে চিন্তাভাবনার কথা এর আগে জানিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। কিন্তু এখানেও সমস্যা রয়েছে। রাজস্ব ঘাটতির লক্ষ্যে ব্যয়ের কথা মাথায় রেখে ডলার কিনে না হয় তাড়াতাড়ি সেটা পূরণ করা গেল। কিন্তু এর পরেই দেশীয় মুদ্রার তরলতা মুদ্রাস্ফীতি ডেকে আনতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাঁরা আরও বলছেন যে এই পথে নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সরকারের রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উপরে চাপ সৃষ্টি না করাটাই ঠিক হবে। আবার, খুব বেশি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা যেমন বিক্রি করা যাবে না, তেমনই দেশের মানুষদের উপরে অতিরিক্ত করও চাপানো যাবে না। তার বদলে ইনফ্রাস্ট্রাকচারে মন দিলে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Published by:Shubhagata Dey
First published: