বাজেট ২০২১: করোনার পর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত করতে এই কয়েকটি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি!

বাজেট ২০২১: করোনার পর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত করতে এই কয়েকটি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি!
বাজেট ২০২১

আরও মজবুত করে তুলতে হবে দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যকে। আর সেই আশায় এখন আসন্ন বাজেটের দিকে দেশের স্বাস্থ্যক্ষেত্র।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: করোনাকালে গভীরভাবে উপলব্ধি করা গিয়েছে দেশের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের অবদানকে। দাঁতে দাঁত চেপে মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও লড়াই জারি। তবে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, উৎপাদন, ট্যাক্স রিফর্ম, জনস্বাস্থ্যের পরিকাঠামো-সহ একাধিক বিষয়ে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। আরও মজবুত করে তুলতে হবে দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যকে। আর সেই আশায় এখন আসন্ন বাজেটের দিকে দেশের স্বাস্থ্যক্ষেত্র।

এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন KPMG-এর লাইফ সায়েন্স সেক্টরের প্রধান ও মুখ্য উপদেষ্টা সঞ্জয় সিং (Sanjay Singh)। কয়েকটি ক্ষেত্রের উপরে জোর দিতে চেয়েছেন তিনি। এগুলি হল-

ট্যাক্স রিফর্ম


চিকিৎসা ক্ষেত্রে নানা ধরনের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেক্টরে খরচ বাড়াতে হবে। চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রের সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নে নজর দিতে হবে। আর এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই করে বড়সড় ছাড়, আয়কর কমানো বা ট্যাক্স রিফর্মে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

জনস্বাস্থ্যের পরিকাঠামো

দেশের জনস্বাস্থ্যকে দৃঢ় করে তুলতে হবে। জনস্বাস্থ্য খাতে যে ব্যয় হয়, তা কিন্তু খুব একটা বেশি নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এই ব্যয়ের পরিমাণ দেশের GDP-র ১.৩ শতাংশের কাছাকাছি। লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২০২৫ সালের মধ্যে GDP-এর ২.৫ শতাংশের কাছে পৌঁছাবে এই ব্যয়। আর সেই সূত্রেই প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা, জন ঔষধি, আয়ুষ্মান ভারত-সহ একাধিক যোজনার প্রসঙ্গ উঠে আসে। আর এই বিষয়গুলিতে সবার আগে নজর দিতে হবে সরকারকে।

টিকাকরণ

করোনা থেকে এখনও পুরোপুরি রেহাই মেলেনি। সংক্রমণ নিম্নমুখী। এর মাঝেই শুরু হয়েছে ভ্যাকসিনেশন। এক্ষেত্রে ভারতের মতো বৃহৎ জনসংখ্যার দেশে টিকাকরণ অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ। তাই ভ্যাকসিনেশন নিয়েও নানা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভ্যাকসিনের স্টোরেজ, ডিস্ট্রিবিউশন, ট্রান্সপোর্টেশন-সহ একাধিক খাতে বরাদ্দ নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে হবে।

ওষুধপত্র

স্বাস্থ্য পরিষেবাকে চাঙ্গা করে তুলতে ওষুধপত্র-সহ একাধিক হেল্থ প্রোডাক্টে অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ বাড়াতে হবে। ওষুধ ও ড্রাগসগুলির ট্যাক্স স্ল্যাব নিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

টেলিমেডিসিন সেক্টর

আসন্ন বাজেট থেকে টেলিমেডিসিন সেক্টরেও অর্থ বরাদ্দের আশা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সহজলভ্য করে তুলতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। ই-সঞ্জীবনী, টেলি মিডিয়াম-সহ নানা কনসালটেশনের ক্ষেত্রকে আরও মজবুত করতে হবে। এক্ষেত্রে ন্যাশনাল ডিজিটাল হেল্থ মিশনের খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও একটি যথাযথ রোডম্যাপ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

MSME ক্ষেত্র

দেশের ক্ষুদ্র, ভারী, মাঝারি শিল্পগুলিকে ক্রমাগত সাহায্য করে যেতে হবে। দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে MSME সেক্টরকে আরও সবল তুলতে হবে। এতে উৎপাদনের পাশাপাশি রপ্তানিও বাড়বে। তাই দেশের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের যুক্ত MSME সেক্টরের কথা ভেবে একাধিক প্রকল্প নিতে হবে।

স্বাস্থ্য বিমা

করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিমার বিষয়টি ভালোভাবে উপলব্ধি করেছেন মানুষজন। এই সময়ে হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে পাহাড়প্রমাণ খরচ বহন করতে হয়েছে। এর জেরে সংক্রমণকালে একাধিক অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষ। এক্ষেত্রে হেল্থ ইনসিওরেন্স স্ট্রাকচারে রদবদল আনতে হবে। পর্যাপ্ত কভারেজ ও আকর্ষণীয় নানা পলিসি আনার বিষয়ে পর্যালোচনা করতে হবে।

GST স্ট্রাকচারের পুনর্বিবেচনা

বর্তমানে API-এর ক্ষেত্রে যে ইনভার্টেড GST স্ট্রাকচার রয়েছে, তা নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটেও নজর দিতে হবে।

Published by:Pooja Basu
First published:

লেটেস্ট খবর