Budget 2021: স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বাড়তে পারে বরাদ্দের পরিমাণ

Budget 2021: স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বাড়তে পারে বরাদ্দের পরিমাণ
লকডাউনে বা করোনা পরিস্থিতিতে সব চেয়ে বেশি যে ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা হল স্বাস্থ্যক্ষেত্র

লকডাউনে বা করোনা পরিস্থিতিতে সব চেয়ে বেশি যে ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা হল স্বাস্থ্যক্ষেত্র

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হতে চলেছে ২৯ জানুয়ারি অর্থাৎ শুক্রবার থেকে। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১-এ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman) সংসদে পেশ করবেন ২০২১-২২ অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট। তার আগে অর্থমন্ত্রকের একাধিক ক্ষেত্রে একের পর এক বৈঠক চলছে। মনে করা হচ্ছে, প্যানডেমিক পরিস্থিতি ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেই কথা মাথায় রেখেই বাজেট আসতে চলেছে।

    লকডাউনে বা করোনা পরিস্থিতিতে সব চেয়ে বেশি যে ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা হল স্বাস্থ্যক্ষেত্র। সব চেয়ে বেশি যে ক্ষেত্রে কাজ হয়েছে বা খরচ হয়েছে সেটিও এই ক্ষেত্রটিই। ফলে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেই কথা মাথায় রেখে আসন্ন বাজেটে এই ক্ষেত্রে বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হতে পারে। মনে করা হচ্ছে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে হার।

    বিশেষজ্ঞদের কথায়, প্যানডেমিকের আগে পর্যন্ত দেশে অন্যতম অবহেলিত ক্ষেত্র ছিল স্বাস্থ্যক্ষেত্র। যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় এসেছে, কেউই এই ক্ষেত্রকে সে ভাবে গুরুত্ব দেয়নি। তবে, এই ক্ষেত্রেই ২০২০ সালে সব চেয়ে বেশি খরচ হয়েছে। কারণ বেড়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচ। এই বিষয়ে নীতি আয়োগের সদস্য ভি কে পাল ২০১৯ সালে বলেন, দেশের মোট GDP-র ১.৫ শতাংশ খরচ হয় স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে। তবে, গত কয়েক দশকে এতে সামান্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। তবুও বিশ্বের অন্যান্য দেশের নিরিখে এই ক্ষেত্রে আমাদের দেশের বরাদ্দ অনেকটাই কম।


    তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে অর্থাৎ গত বছরের বাজেটে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে মোট ৬৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৬২ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা। তবে, করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আসন্ন বাজেটে এই খাতে এর চেয়ে অনেক বেশি টাকা বরাদ্দ করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    Sunday Guardian-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বাজেটে সব চেয়ে কম বরাদ্দ পাবলিক হেলথকেয়ার সেক্টরের তালিকায় বিশ্বে প্রথম সারিতে রয়েছে আমাদের দেশ। এই তালিকায় এর সঙ্গেই রয়েছে ইউনাইটেড কিংডম, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, ফিনল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। যারা তাদের দেশের মোট GDP মাত্র ৯ শতাংশ এই খাতে বরাদ্দ করে। এদিকে জাপান, কানাডা, জার্মানি ও সুইৎজারল্যান্ডের মতো দেশগুলি দেশের মোট GDP-র ১০ শতাংশ এই খাদে বরাদ্দ করে। কিন্তু তুলনা করলে দেখা যাবে, ইউনাইটেড স্টেটস GDP-র ১৬ শতাংশ অর্থ পাবলিক হেলথ কেয়ারে বরাদ্দ করে। এই তালিকায় সব চেয়ে পিছনে রয়েছে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এই দুই দেশ মোট GDP-র ৩ শতাংশ মাত্র পাবলিক হেলথ কেয়ারে বরাদ্দ করে।

    তবে, নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সরকার পাবলিক হেলথ কেয়ারে বরাদ্দ বাড়ানোর দিকেই নজর দিচ্ছে। এবং বর্তমানে যা বরাদ্দ করা হয় এই খাতে ২০২৫ সালের মধ্যে GDP-র ২.৫ শতাংশ আরও বরাদ্দ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।

    মণিপাল হসপিটালের MD ও CEO দিলীপ জোশ এ বিষয়ে PTI-কে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পাবলিক হেলথ কেয়ারে বর্তমানে ১.২ শতাংশ বরাদ্দকে বাড়াতে হবে এবং তা করতে হবে ২.৫ শতাংশ। আগামী তিন বছরের মধ্যেই এই লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। আশা করি ২০২১-২২ বাজেটে এই পদক্ষেপে পা বাড়াবে সরকার। তাঁর মতে, করোনা পরিস্থিতিতে যে ভাবে নিরলস ভাবে কাজ করে প্যানডেমিক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকেরা, তাতে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দিকে নজর দেওয়ার সময় এসেছে।

    এবিষয়ে SRL ডায়াগনস্টিকের CEO আনন্দ কে বলেন, স্বচ্ছ ভারত, আয়ুষ্মান ভারত, ন্যাশনাল ডিজিটাল হেলথ মিশন বা মিশন কোভিড সুরক্ষা-র মতো প্রকল্পের দ্বারা সরকারের তরফে দেশের জনগনের স্বাস্থ্যের দিকটিকে মুখ্য করা হচ্ছে, কিন্তু এই ক্ষেত্রটিকে আরও মজবুত করতে এই ক্ষেত্রে বেশি অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন এবং অবশ্যই তার জন্য সকলে তাকিয়ে আসন্ন বাজেটের দিকে।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published:

    লেটেস্ট খবর