বাজেট ২০২১: বিনিয়োগ আর ব্যয় হতে চলেছে আগামী অর্থবর্ষের পাখির চোখ, বলছে সমীক্ষা

সম্প্রতি গ্র্যান্ট থর্নটন ভারত সংস্থা একটি সমীক্ষা পরিচালনা করেছে। তার ফলাফল কী বলছে?

সম্প্রতি গ্র্যান্ট থর্নটন ভারত সংস্থা একটি সমীক্ষা পরিচালনা করেছে। তার ফলাফল কী বলছে?

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: যখনই কোনও অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, তখন জনসাধারণ থেকে উদ্যোগপতি- সবারই নজর থাকে দেশের করব্যবস্থার উপরে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে করব্যবস্থা সরকারের রাজস্ব বাড়িয়ে তোলার কাজে সাহায্য করে। এই রাজস্বের পরিমাণ বাড়লে তবেই দেশের নানা উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করা সরকারের পক্ষে সহজসাধ্য হয়। কিন্তু ২০২১-২০২২ অর্থবর্ষে বিষয়টি একটু হলেও আলাদা। কেন না, করোনাকালীন পরিস্থিতি দেশের মানুষের উপার্জনের পথে একটা বাধার সৃষ্টি করেছে। এই কথা মাথায় রেখে উদ্যোগপতিদের বক্তব্য- করের হার যথাসম্ভব সঙ্কুচিত করাটাই ঠিক কাজ হবে। এই মর্মে গ্র্যান্ট থর্নটন ভারত সংস্থা একটি সমীক্ষা পরিচালনা করেছে সম্প্রতি। তার ফলাফল কী বলছে?

গ্র্যান্ট থর্নটন ভারত-এর এই সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোগপতিরা জানিয়েছেন যে দেশের ধুঁকতে থাকা অর্থনৈতিক অবস্থার হাল যদি ফিরিয়ে আনতে হয়, তাহলে বিনিয়োগ আর ব্যয়কেই করে তুলতে হবে পাখির চোখ। এই প্রসঙ্গে উদ্যোগপতিরা জানিয়েছেন যে ভারত যেহেতু কৃষিভিত্তিক দেশ এবং এর অর্থনীতি মূলত কৃষির উপরেই নির্ভর করে থাকে, তাই এই ক্ষেত্রে সরকারকে যতটা সম্ভব বিনিয়োগের পন্থা অবলম্বন করতে হবে। এর পরেই দেশের অর্থনীতির হাল ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে স্বাস্থ্যক্ষেত্র। তাই এই সেক্টর এবং ফার্মাসিউটিক্যাল সেক্টরের উপরেও নজর দিতে হবে সমান পরিমাণে।

সমীক্ষা জানাচ্ছে যে অংশগ্রহণকারী উদ্যোগপতিরা এই তিন ক্ষেত্র, পাশাপাশাপাশি অন্য শিল্পের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৬৭ শতাংশ উদ্যোগপতি শিল্পের পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রে সরকারের সরাসরি বিনিয়োগের পক্ষে মতপোষণ করেছেন। কেন না, তা সম্ভব হলে উৎপাদিত পণ্যের দাম কমানোর বিষয়টি সহজ হয়ে উঠবে। যা দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে পারে।

আবার, সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৫৪ শতাংশ উদ্যোগপতির অভিমত এই যে উপরে উল্লিখিত তিন ক্ষেত্রে সরকারকে যত দূর সম্ভব ব্যয়ের পরিমাণ বাড়াতে হবে। তা হলে এই তিন ক্ষেত্র পুষ্ট হবে এবং কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে ৫৫ শতাংশ উদ্যোগপতিই এই বিষয়ে একমত যে সরকার যা-ই পদক্ষেপ করুক, করের বোঝা বাড়ানো কোনও মতেই চলবে না। এই প্রসঙ্গে গ্র্যান্ট থর্নটন ভারত-এর তরফে বিকাশ বসল জানিয়েছেন যে সরকারের কাছে প্রত্যাশা আপাতত দ্বিমুখী- কর বাড়লে তা দেশের মানুষ এবং শিল্পের উপরে একটা অত্যাচারিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। অতিরিক্ত করের বোঝা সামলে উন্নত গুণমানের শিল্পোৎপাদন যেমন সম্ভব হবে না, তেমনই দেশের মানুষও অতিরিক্ত দাম দিয়ে তা কিনতে পারবেন না। পরিণামে ভারতের আত্মনির্ভর হওয়ার পথটিই অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যাবে।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: