বাজেট ২০২১: স্কুল শিক্ষায় বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের অনুমোদন জরুরি!

বর্তমানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা একটা জরুরি অবস্থার মাঝে দাঁড়িয়ে। তাই ২০২১-২২ অর্থবর্ষের বাজেটে স্কুল শিক্ষার জন্য প্রত্যাশাও অনেক।

বর্তমানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা একটা জরুরি অবস্থার মাঝে দাঁড়িয়ে। তাই ২০২১-২২ অর্থবর্ষের বাজেটে স্কুল শিক্ষার জন্য প্রত্যাশাও অনেক।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: স্বাধীনতার সাত দশক পরেও এই ক্ষেত্রটিতে কাঙ্ক্ষিত সচেতনতা দেখা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্যে যেন সেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাঁদের কথায়, স্কুলশিক্ষার জন্য যে পদক্ষেপ হয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয়। কিন্তু বর্তমানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা একটা জরুরি অবস্থার মাঝে দাঁড়িয়ে। তাই ২০২১-২২ অর্থবর্ষের বাজেটে স্কুল শিক্ষার জন্য প্রত্যাশাও অনেক। এক্ষেত্রে স্কুল শিক্ষায় বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের অনুমোদন একটি উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হতে পারে।

১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কোঠারি কমিশন (Kothari Commission) খানিকটা একই কথা জানিয়েছিল। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নয়নে ও সংশ্লিষ্ট খাতে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে একাধিক সুপারিশ করা হয়েছিল। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, মোট GDP ২.৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করতে হবে শিক্ষা খাতে খরচ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি দেশ। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে মাত্র ৩ শতাংশ খরচ হয়েছিল। আর এই ঘাটতি মেটাতে ভূমিকা নিতে পারে আসন্ন বাজেট। সেই সময়ে ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি চালু করার কথা বলেছিল কোঠারি কমিশন। প্রায় ৩৪ বছর ২০২০ সালে NEP এসেছে। এগুলির পাশাপাশি স্কুল শিক্ষা ক্ষেত্রে FDI একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। এখন দেখার ফেব্রুয়ারির বাজেটে কোন খাতে কত বরাদ্দ হতে পারে। এ বিষয়ে Ampersand Group-এর CEO বিনেশ মেনন (Vinesh Menon) বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রের উপর আলোকপাত করেছেন-

প্রথমেই স্কুল এডুকেশন বাজেটকে বেশ কয়েকটি অংশে ভেঙে দেওয়া উচিৎ। এর জেরে বিভিন্ন খাতে খরচ ও বরাদ্দের বিষয়টিকে স্পষ্ট করা যাবে।

আলাদা আলাদা ক্ষেত্র অর্থাৎ আইডিয়াল কস্ট রেশিও (Ideal Cost Ratio), শিক্ষকদের বেতন, পরিকাঠামো, শিক্ষা ক্ষেত্রের প্রযুক্তিগত দিক, ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার-সহ একাধিক খাতে বরাদ্দকে সুবিন্যস্ত করতে হবে।

স্কুল শিক্ষায় বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা FDI-কে স্বাগত জানানো উচিৎ। এর জেরে EdTech ও Academia-সহ বেশ কয়েকটি সংস্থা ও নানা আন্তার্জাতিক ক্ষেত্রের সঙ্গে স্কুল শিক্ষাকে সংযুক্ত করা যাবে। ফলে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, এক্সপিরিয়েন্সিয়াল লার্নিং সহ বহু ক্ষেত্র আরও মজবুত হবে।

শিক্ষা ক্ষেত্রকে আরও দৃঢ় করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (Public Private Partnership) মডেল লাগু করার লক্ষ্যে এগোতে হবে।

বিভিন্ন ধরনের ICT প্রোজেক্ট অর্থাৎ ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি খাতে খরচের বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করতে হবে।

বিনেশ মেননের কথায়, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা একটি জরুরি পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তড়িঘড়ি এ বিষয়ে জোর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আর এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই স্কুল শিক্ষা ও দেশের শিক্ষাক্ষেত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে ২০২১-২২ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ। কিন্তু কোন খাতে কী বরাদ্দ হচ্ছে, এখন সেটাই দেখার!

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: