বাজেট ২০২১ : ট্যাক্সে মিলবে ছাড়, জুড়বে কোভিড সেস? জেনে নিন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বাজেট ২০২১ : ট্যাক্সে মিলবে ছাড়, জুড়বে কোভিড সেস? জেনে নিন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
প্রায় ১০ মাসেরও বেশি সময় করোনা বোঝা সেরে ট্যাক্সে ছাড় বা অব্যহতি পাওয়ার আশা করছেন চাকরিপ্রার্থীরা

প্রায় ১০ মাসেরও বেশি সময় করোনা বোঝা সেরে ট্যাক্সে ছাড় বা অব্যহতি পাওয়ার আশা করছেন চাকরিপ্রার্থীরা

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: শুরু হয়ে গিয়েছে বাজেট অধিবেশন। আর দু'দিন পরই সংসদে বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman)। বর্তমানে সেদিকেই তাকিয়ে সকলে। একাধিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর প্রায় ১০ মাসেরও বেশি সময় করোনা বোঝা সেরে ট্যাক্সে ছাড় বা অব্যহতি পাওয়ার আশা করছেন চাকরিপ্রার্থীরা। এদিকে, সব মিলিয়ে এবার করোনা পরবর্তী বাজেটে চমক থাকবে বলে জানিয়েছেন খোদ অর্থমন্ত্রী।

করোনার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক ক্ষেত্র। যার ফলে প্রত্য়ক্ষ এবং পরোক্ষ, দুই ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের দেশের অর্থনীতি। এদিকে করোনার জেরে বেড়েছে সরকারের খরচ। সেই অতিরিক্ত খরচ তুলতে আসন্ন বাজেটে এবার কোভিড-১৯ সেস বসানো নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। জানা যাচ্ছে, এই বিষয়ে আলোচনা চলছে অর্থমন্ত্রকে। ইতিমধ্যে এই নিয়ে বৈঠকও হয়ে গিয়েছে একবার। তবে, এই বর্ধিত কর সেস হিসেবেই নেওয়া হবে কি না সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

করপ্রদানকারী মানুষজন চাইছেন এমন কোনও অতিরিক্ত কর না দেওয়া হোক! এখন সরকার তাদের মুখে হাসি ফোটাবে কি না তা সময়ের অপেক্ষা। তবে, তার আগে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুব সম্ভাবনা রয়েছে ট্যাক্সে কিছুটা হলেও অব্যহতি পাওয়ার, 80C ধারার অধীনে ট্যাক্সে ছাড়ের পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে। যেহেতু ওয়ার্ক ফ্রম হোমে বাড়তি খরচ বাড়ছে, তাই সে কথা ভেবে এই টাকা বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি তাঁদের মতে, বেশি মূল্যের অর্থ বিনিয়োগকারীদের উপরে কোভিড সেস বসানো হতে পারে।


গোল টেলারের প্রতিষ্ঠাতা উদিত গর্গ এই বিষয়ে জানাচ্ছেন, অর্থনীতি চাঙ্গা করতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিবর্তন আনার বিষয়ে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তো হয়ে গিয়েছে। কারণ সরকার চাইছে এমন পরিবর্তন হোক যা অর্থনীতিকে পাকাপাকি ভাবে উন্নয়নের মুখ দেখাবে। রাজকোষ ঘাটতি পূরণ করতে তাই HNI বা কোম্পানিগুলির উপর সেস বসানো হতে পারে।

তবে, তাঁর মতে, নতুন করে HNI বা কোম্পানিগুলির উপর কোভিড সেস না বসিয়ে আগে থেকেই যে সেস চালু আছে তার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। ৪ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করে দিলেই এই সেস থেকে অনেকটা অর্থ কোষাগারে ঢুকতে পারে। আর এটাই মোট রাজস্বের পরিমাণও ৬ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা বাড়াতে পারে।

ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ফলে অব্যহতি

NA Shah Associates-এর অংশীদার অশোক শাহ বলেন, ওয়ার্ক ফ্রম হোমের ফলে চাকরিজীবীদের একাধিক খরচা বেড়ে গিয়েছে। যেমন- ইলেক্ট্রিসিটি বিল বা ইন্টারনেট খরচা তাদের পকেট থেকে যাচ্ছে। ফলে এই দিকটা মাথায় রেখে কিছুটা করে ছাড় দেওয়া হতে পারে। কারণ ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি দেশ এই বিষয়টি বুঝে ট্যাক্সে ছা়ড় দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়াকে সামনে রেখে বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছেন তিনি।

কর প্রদানকারীরা যা দাবি করতে পারে-

১) কাজের জায়গা পরিষ্কার রাখার খরচ

২) ফোন ও ইন্টারনেটের খরচ

৩) কম্পিউটারের খরচ বা প্রিন্টার, কালি, কাগজ, পেন ও ইত্যাদির খরচ

৪) ইলেক্ট্রিক খরচ

৫) বাড়িতে প্রিন্টার কেনা, কম্পিউটার কেনা, অফিসের জন্য অতিরিক্ত ফোন বা বিভিন্ন কাগজ-পত্র রাখার জন্য আসবাবপত্রের খরচ

এমন কিছু দাবি কর প্রদানকারীরা করতে পারে যা অস্ট্রেলিয়ায় করা যায়নি-

১) কাজের সময় চা-কফির ব্যবস্থা

২) বাচ্চাদের জন্য বাড়িতে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেওয়া। অনলাইনে পড়ার খরচের বেড়ে যাওয়া, মোবাইলের খরচ ইত্যাদি বেড়ে যাওয়া

৩) বাড়ি ভাড়ার খরচা বেড়ে যাওয়া

ট্যাক্স স্ল্যাবে পরিবর্তন

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, এমন বাজেট জনগণ দেখবে যা আগে কখনও দেখেননি। ফলে মধ্যবিত্তরা আশা করছেন, ট্যাক্সে ছাড় বা ট্যাক্স থেকে সুবিধা পাওয়া। অব্যহতি পাওয়া ইত্যাদি।

এছাড়াও ছাড়ের পরিমাণ বাড়ানোর আশাও করছেন অনেকে।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: