বাজেট ২০২১: নতুন সেস, করদাতাদের উপরে বাড়তি বোঝার আশঙ্কা!

বাজেট ২০২১: নতুন সেস, করদাতাদের উপরে বাড়তি বোঝার আশঙ্কা!
সূত্রে খবর, উচ্চ আয়করের আওতায় আসেন এমন করদাতাদের উপরেই এই কোভিড সেস বসানো হতে পারে।

সূত্রে খবর, উচ্চ আয়করের আওতায় আসেন এমন করদাতাদের উপরেই এই কোভিড সেস বসানো হতে পারে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ২০২১-২২ অর্থবর্ষের বাজেট নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। এক্ষেত্রে কোভিড-১৯ সেস বসানো নিয়েও নানা আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। তাহলে কি আয়করে সারচার্জের (অধিভার) পরিমাণও বাড়বে? আপাতত দেশের বড় বড় কর্পোরেট একজিকউটিভ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী-সহ সকল সফল উদ্যোগপতিদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে। তার মানে আবার করদাতাদের উপরে বাড়তি বোঝার আশঙ্কা প্রবল। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, ভ্যাকসিনেশন-সহ করোনা মোকাবিলার খরচা তুলতে এই পথেই হাঁটতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman)। আসুন জেনে নেওয়া যাক বিশদে!

এনিয়ে বিশদে আলোচনা করেছেন বিশেষজ্ঞ টিনা এডউইন (Tina Edwin)। তাঁর কথায়, যদি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এইরকম কোনও সেস বা অতিরিক্ত করের ঘোষণা করা হয়, তাহলে ফের করের বোঝা বাড়বে। অন্য দিকে ভোগাবে সারচার্জও। সাধারণত বিষয়টি প্রত্যাশিত নয়। তবে বিপরীত ক্ষেত্রে অর্থাৎ এই কোভিড পরিস্থিতিতে এই ধরনের ঘোষণা করতেই পারে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। কারণ ইতিমধ্যেই প্রচুর খরচ হয়েছে। তাই রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে রীতিমতো লড়ছে সরকার। আর এই পরিস্থিতিতে সারচার্জ বা সেস নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। এই সূত্রে চতুর্দশ অর্থ কমিশনের প্রসঙ্গ তুলে আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট অর্থ কমিশন ৩২ শতাংশ থেকে ৪২ শতাংশে বাড়িয়ে দিয়েছিল রাজ্যের শেয়ার।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ১ জুলাই GST লাগু হয়। এক্ষেত্রে অধিকাংশ সেসগুলিকে GST-এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মাঝে আবার রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে GST কমপেনসেশন সেস চালু হয়। সংশোধনের পর আবার পাঁচবছর পর্যন্ত বাড়ানো হয় এই GST কমপেনসেশন সেসও। কিন্তু নতুন কোনও সেস চাপানো হলে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।


সেসের বোঝা

শোনা যাচ্ছে, নানা ধরনের কোভিড প্রোগ্রাম, কর্মসূচি, কোভিড ১৯ কিটস, হেল্থ ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ভ্যাকসিনেশন প্রোগ্রাম-সহ একাধিক ক্ষেত্রে প্রচুর টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। দেশের জনসংখ্যা অনেকটাই বেশি। তাই বরাদ্দ অর্থ ও ব্যয়ের পরিমাণও পাহাড় প্রমাণ। আর এই ঘাটতি পূরণ করতে সেস বসানো হতে পারে। সূত্রে খবর, উচ্চ আয়করের আওতায় আসেন এমন করদাতাদের উপরেই এই কোভিড সেস বসানো হতে পারে। এ ছাড়া কিছু পরোক্ষ বা ইনডাইরেক্ট সেসও বসানো হতে পারে। নির্দিষ্ট একটি টার্নওভার থাকলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিকেও এই সেস দিতে হবে। কয়েকটি প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, টিকাকরণে প্রাথমিক ভাবে খরচের পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি থেকে ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এক্ষেত্রে সেস বাবদ যে অর্থ আদায় হবে তার সমস্তটাই কেন্দ্র নিজের কাছে রাখবে। রাজ্যের সঙ্গে এটি ভাগ করা হবে না। এই সূত্র ধরে পেট্রোল, ডিজেলের উপরেও কর চাপানো হতে পারে। এক্ষেত্রে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে সবমিলিয়ে এই সেস বাবদ ৩,০৪,৪৮৫ কোটি টাকা আসতে পারে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে এই সংগ্রহের পরিমাণ অনেকটাই কম। তথ্য বলছে, ডিসেম্বরের শেষে GST কমপেনসেশন সেসের মোট সংগ্রহ হয়েছে ৫৯,০৮১ কোটি টাকা। বাজেট এস্টিমেটের মাত্র ৫৩.৫ শতাংশ এটি।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪-১৫ সাল থেকে ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে নানা ধরনের সেস থেকে মোট সংগ্রহ বেড়েছে ২৫৬ শতাংশের কাছাকাছি। ২০১৪-১৫ সালে সারচার্জ সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ৫৮,৭৯৭ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ সালে তা বেড়ে হয়েছে ২,০৯,৫৭৭ কোটি টাকা। শুধুমাত্র ২০১৬-১৭ থেকে ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে যায় সংগ্রহের পরিমাণ। ২০১৪-১৫ সাল থেকে ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে গ্রস ট্যাক্স রেভিনিউতে সেসের শেয়ারের পরিমাণও ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে চলে যায়।

সারচার্জও (অধিভার) বাড়তে পারে

কোভিড সেসের সঙ্গে বাড়তে পারে সারচার্জের বোঝাও। যা করদাতাদের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের কথায়, ২০১৪-১৫ সাল থেকে ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে সারচার্জ বেড়েছে ৩৪৭ শতাংশের কাছাকাছি। ২০১৪-১৫ সালে সারচার্জ সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ৩১, ৮৭৯ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১,৪২,৫৩০ কোটি টাকা। সেই অনুযায়ী আশা করা হয়েছিল ২০২০-২১ সালে সারচার্জ সংগ্রহের পরিমাণ বেড়ে হবে ১,৭৬,২৭৭ কোটি টাকা।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: