corona virus btn
corona virus btn
Loading

সাত সপ্তাহে অষ্টম বিনিয়োগ, জিও-তে ৫৬৮৩.৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ADIA-র

সাত সপ্তাহে অষ্টম বিনিয়োগ, জিও-তে ৫৬৮৩.৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ADIA-র
জিও-তে এবার বিনিয়োগ করল ADIA৷ PHOTO- FILE

গত সাত সপ্তাহে এই নিয়ে অষ্টম বিনিয়োগ এল জিও-তে৷ এ দিনের পর বিনিয়োগের মোট পরিমাণ বেড়ে হলো ৯৭,৮৮৫.৬৫ কোটি টাকা৷

  • Share this:

#মুম্বই: শেষ সাত সপ্তাহের মধ্যে অষ্টম বিনিয়োগ এলো জিও প্ল্যাটফর্মস-এ৷ এবার জিও-র ১.১৬ শতাংশ অংশীদারিত্বের জন্য ৫৬৮৩.৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করল আবু ধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি ৷

গত সাত সপ্তাহে এই নিয়ে অষ্টম বিনিয়োগ এল জিও-তে৷ এ দিনের পর বিনিয়োগের মোট পরিমাণ বেড়ে হলো ৯৭,৮৮৫.৬৫ কোটি টাকা৷

জিও-তে যে বিনিয়োগকারীরা সাম্প্রতিক সময়ে লগ্নি করেছে তাদের মধ্যে রয়েছে ফেসবুক (৪৩,৫৭৩.৬২ কোটি টাকা), সিলভার লেক পার্টনার্স (৫৬৫৫.৭৫ কোটি টাকা), ভিস্তা ইক্যুইটি পার্টনার্স (১১,৩৬৭ কোটি টাকা), জেনারেল অ্যাটলান্টিক (৬৫৯৮.৩৮ কোটি টাকা), কেকেআর (১১,৩৬৭ কোটি টাকা), মুবাডালা (৯০৯৩ কোটি টাকা), সিলভার লেক (৪,৫৪৭ কোটি টাকা)-র এবং আবু ধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি বা ADIA-র এ দিনের ৫৬৮৩.৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ৷ এই সমস্ত বিনিয়োগের সর্বমোট পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াল ৯৭,৮৮৫.৬৫ কোটি টাকা বা ১২.৯৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার৷ বিশ্বের কোনও সংস্থায় এই প্রথম একটানা এমন বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ এলো৷ বিশেষত করোনা মহামারির জেরে গোটা বিশ্ব জুড়ে চলা লকডাউন এবং আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রে এক অনন্য নজির তৈরি করল জিও৷ এর থেকেই স্পষ্ট ভারতের ডিজিটাল বাজার এবং জিও-র ব্যবসায়িক পরিকল্পনার উপরে কতটা আস্থা রয়েছে বিনিয়োগকারীদের৷

বিশ্বের দরবারে ভারতের ডিজিটাল বাজার এবং তার কী ক্ষমতা, তা যে সফল ভাবে জিও তুলে ধরেছে, তা ফের প্রমাণিত হল৷ পাশাপাশি, ভারতীয় বাজারকে জিও কতটা ভাল বোঝে, সেটিও সুস্পষ্ট হলো৷ করোনা পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল মাধ্যমের আরও বেশি করে ব্যবহার এবং প্রত্যেক ভারতীয়ের জন্য AI, Blockchain, AR/VR, Big Data-র মতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তিও বাড়তে চলেছে৷ জিও-তে একটানা অষ্টম বিনিয়োগের নেপথ্য এই কারণগুলিই কাজ করেছে৷

সম্প্রতি জিও-তে আসা অন্যান্য প্রাইভেট ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্টগুলর এবং ADIA-এর বিনিয়োগের মূল্যায়ণ সমান৷ যার ইক্যুইটি ভ্যালুয়েশন ৪.৯১ লক্ষ কোটি এবং এন্টারপ্রাইস ভ্যালুয়েশন ৫.১৬ লক্ষ কোটি৷

১৯৭৬ সাল থেকেই আবু ধাবি সরকারের হয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করে আসছে আবু ধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি৷ দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে সম্পদ তৈরি করতে পারে, এমন বিনিয়োগেই আগ্রহ দেখায় তারা৷ দু' ডজনরেও বেশি শিল্প ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত বিনিয়োগ করে গোটা বিশ্বে সম্পদ তৈরি করেছে ADIA৷

জিও-তে আসা সর্বশেষ এই বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর মুকেশ অম্বানী বলেন, 'দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সফলভাবে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘ মেয়াদি সম্পদ সৃষ্টির পর ADIA জিও প্ল্যাটফর্মসে-এর অংশীদার হওয়ায় আমি খুব খুশি৷ ভারতকে বিশ্বমঞ্চে ডিজিটাল ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার জায়গায় নিয়ে যাওয়া এবং সার্বিক উন্নতির সুযোগ তৈরি করাই হবে এই অংশীদারিত্বের মূল উদ্দেশ্য৷ ভারতের ক্ষমতা এবং আমাদের কৌশলের প্রতি আস্থাই এই বিনিয়োগের মাধ্যমে আরও একবার প্রতিষ্ঠিত হলো৷'

ADIA-এর প্রাইভেট ইক্যুইটি বিভাগের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হামাদ শাহওয়ান আলধাহেরি বলেন, 'ভারতের ডিজিটাল বিপ্লবে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে জিও প্ল্যাটফর্মস, যাদের মূল উদ্দেশ্যই সামাজিক এবং আর্থিক ক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহারের যে প্রভাব পড়ছে, তার লাভ ওঠানো৷ মাত্র চার বছরেই যেভাবে জিও প্ল্যাটফর্মস-এর ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাজারে শীর্ষ স্থান দখল করেছে, তা ব্যবসায়িক কৌশলের সঠিক রূপায়ণেরই পরিচয়৷ জিও-তে আমাদের বিনিয়োগ গোটা বিশ্বে বাজারের নেতৃত্ব প্রদানকারী সংস্থা এবং নিজেদের প্রমাণ করেছে এমন অংশীদারদের পাশে থেকে আঞ্চলিক এবং ক্ষেত্রভিত্তিক পারদর্শীতা প্রদান করার জন্য ADIA-এর দৃষ্টিভঙ্গিকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে৷'

গোটা দেশজুড়ে সস্তায় উচ্চমানের ডিজিটাল পরিষেবা দেওয়াই জিও-র লক্ষ্য৷ এই মুহূর্তে সংস্থার ৩৮.৮০ কোটি গ্রাহক রয়েছে৷ ব্রডব্যান্ড, স্মার্ট ডিভাইস, ক্লাউড অ্যান্ড এজ কম্পিউটিং, বিগ ডেটা অ্যানালিটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর মতো বিবিধ পরিষেবায় পা রেখেছে জিও৷ জিও-র লক্ষ্যই হলো দেশের ১৩০ কোটি মানুষ এবং ছোট বড় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং কৃষকদের কাছে পৌঁছে যাওয়া যাতে তাঁরা সর্বাত্মক উন্নতির সুফল ভোগ করতে পারেন৷ রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বেসরকারি ক্ষেত্রে ভারতের বৃহত্তম সংস্থা৷ যার বাৎসরিক সম্মিলিত লেনদেনের পরিমাণ ৬৫৯,২০৫ কোটি টাকা৷ নগদ মুনাফার পরিমাণ ৭১,৪৪৬ কোটি টাকা এবং ৩১ মার্চ ২০২০-তে শেষ হওয়া আর্থিক বছরে মোট লাভের পরিমাণ ৩৯,৮৮০ কোটি টাকা৷

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর সুবৃহৎ কর্মকাণ্ড হাইড্রোকার্বন উত্তোলন থেকে উৎপাদন, পেট্রোলিয়াম পরিশোধন এবং মার্কেটিং, পেট্রোকেমিক্যালস, রিটেল এবং ডিজিটাল ক্ষেত্রে বিস্তৃত রয়েছে৷ বিশ্বের সর্ববৃহৎ পাঁচশোটি প্রতিষ্ঠানের যে তালিকা Fortune তৈরি করেছে, তাতে শীর্ষ ভারতীয় সংস্থা হিসেবে স্থান পেয়েছে RIL৷ রাজস্ব এবং মুনাফা উভয় মানদণ্ডেই সেই তালিকায় ১০৬ নম্বর স্থানে রয়েছে RIL৷ ২০১৯ সালের Forbes Global 2000 ক্রমতালিকায় ভারতীয় সংস্থাগুলির মধ্যে শীর্ষে থেকে ৭১তম স্থানে রয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড৷ ২০১৯ সালের সেরা কর্মস্থল হিসেবে ভারতীয় সংস্থাগুলির মধ্যে LinkedIn-এর বিচারে ১০ নম্বর স্থানে রয়েছে RIL৷

জিও প্ল্যাটফর্ম লিমিটেড রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন একট সহযোগী সংস্থা যারা সর্বশ্রেষ্ট 4G LTE প্রযুক্তির বিশ্বমানের all-IP ডেটা স্ট্রং নেটাওয়ার্ক গড়ে তুলেছে৷ ভবিষ্যতে যা সহজেই ৫জি, ৬জি এবং তার পরেও আরও উন্নত প্রযু্ক্তিতে উন্নত করা যাবে৷

ভারতীয় টেলিকম বাজারে পা রাখার পর এই ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে৷ সারা দেশেই জিও গ্রাহকরা যে কোনও নেটওয়ার্কে বিনামূল্যে ভয়েস কল করতে পারেন৷ গোটা বিশ্বের মধ্যে ভারতে সর্বশ্রেষ্ঠ গুণমান এবং সস্তার ডেটা সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে জিও৷

 
Published by: Debamoy Ghosh
First published: June 8, 2020, 5:51 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर