হোম লোনের বোঝা থেকে মুক্ত হন তাড়াতাড়ি, রইল উপায়!

ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হতে এই বিশেষ উপায়গুলিতে নজর দেওয়া যেতে পারে।

ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হতে এই বিশেষ উপায়গুলিতে নজর দেওয়া যেতে পারে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: নিজের একটি ভালো বাড়ি থাকুক- এ প্রায় প্রত্যেকেরই স্বপ্ন। তবে এই স্বপ্ন সফল করতে গিয়ে মূল্যও দিতে হয় অনেকটাই। এ ক্ষেত্রে স্বপ্নকে সত্যি করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয় হোম লোনগুলি। তবে হোম লোনের টাকা মেটানো, বড় সুদের বোঝা কিন্তু একটি চিন্তার বিষয়। সবাই চান, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই চাপ থেকে মুক্ত হতে। এ ক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হতে এই বিশেষ উপায়গুলিতে নজর দেওয়া যেতে পারে।

কম সুদের হার এবং লোনের সময়সীমা কমানোর জন্য ব্যাঙ্কের সঙ্গে কথা বলতে হবে

লোন থেকে মুক্ত হওয়ার প্রথম উপায় সময়সীমা কমানো। তাড়াতাড়ি হোম লোনের রিপেমেন্টের জন্য লোনের সময়সীমা কমানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে EMI-র সঙ্গে আরও বেশি টাকা জমা করতে হবে। তবে টাকার পরিমাণ বেড়ে গেলে অনেক সময়ে একটু ঝুঁকিও থাকে। এত পরিমাণ টাকা দেওয়াটা একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাই লোনের সময়সীমা কমানো ছাড়া আরও একটি উপায় আছে। সেটি হল হোম লোনে সুদের হার কমানো। এ ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের সঙ্গে কথা বলতে হবে। একটা বোঝাপড়া করতে হবে। যদি ব্যাঙ্ক রাজি না হয়, তা হলে সুবিধামতো অন্য ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার করা যেতে পারে। যেখানে সুদের হার কম, সেই ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার করা যেতে পারে। এই ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে আবার একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আগের ঋণদাতা ও নতুন ঋণদাতা ব্যাঙ্ককে ফি দিতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ট্রান্সফারের প্রয়োজন পড়ে না। ব্যাঙ্ককে পরিস্থিতি বোঝাতে পারলে কাজ হয়ে যায়। কিন্তু এই কম সুদের হার এবং লোনের সময়সীমা কমানোর সঙ্গে লোনের টাকার সম্পর্কটা কী? জেনে নেওয়া যাক।

একটি উদাহরণ সহযোগে বিষয়টি বোঝা যেতে পারে। ধরা যাক, একজন ২০ বছরের সময়সীমায় ৮.৫ শতাংশ সুদের হারে ৭০ লক্ষ টাকার হোম লোন নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মাসিক EMI হবে ৬০,৭৪৮ টাকা। মূল টাকা (Principal Amount) সহ মোট পেমেন্টের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ১৪,৫৭৯,৫২০ টাকা।

এ বার ধরা যাক, ৪ বছর পর ওই ব্যক্তির ব্যাঙ্ক সুদের পরিমাণ কমিয়ে করল ৭.৫ শতাংশ। এর জেরে EMI-এর পরিমাণ কমে হল ৫৬,৩৯২ টাকা। এতে প্রতি মাসে ৪,৩৫৬ টাকা পর্যন্ত বাঁচানো যেতে পারে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বাঁচবে।

সময় কমানো যেতে পারে। তবে টাকা বেশি লাগবে। এ বার যদি কেউ মাসে ৬৮,৯৩২ টাকার EMI দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, তা হলে লোনের সময়সীমা কমে ১২ বছর হয়ে যেতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল, কম সময়ে বেশি টাকা বাঁচানো যাবে না। কিন্তু সময় বেশি হলে প্রায় ২২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাঁচানো যেতে পারে।

আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়াতে হবে EMI

সমস্ত লোনের মধ্যে সর্বাধিক সময় লেগে যায় হোম লোনে (Home Loan)। এই দীর্ঘ সময়ে নিশ্চয়ই আপনার বেতন বাড়়ছে। যদি আপনি বেতনভুক্ত কর্মী হন বা অন্য কোনও ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর আপনার বেতন বাড়তে থাকে, তা হলে বাকি থাকা ন্যূনতম টাকার (Minimum Amount Due) থেকে বেশি পরিমাণে পে করতে হবে। এটি একটি সহজ ও স্মার্ট উপায় হতে পারে। কারণ এ ক্ষেত্রে মূল টাকা ধীরে ধীরে পরিশোধ হয়ে যায়। এক কথায় বলতে গেলে বেতন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে EMI-এর টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। মাথায় রাখতে হবে, সংশ্লিষ্ট লোন ও সময়সীমার উপরে ভিত্তি করে EMI-তে অল্প বৃদ্ধিও একটি বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। লোনের বোঝা কিছুটা হলেও হালকা হয়।

বেশি পরিমাণ পেমেন্ট করতে ভরসা SIP

অনেক ক্ষেত্রেই হোম লোনের পরিমাণ বিরাট আকার ধারণ করে। আরও বড় চিন্তার বিষয় হল হোম লোনের সুদ। অনেক সময়ে সেটাই লোনের মূল টাকা থেকে বেশি হয়ে যায়। উপরের উদাহরণ অনুযায়ী প্রায় ১৪,৫৭৯,৫২০ টাকা দিয়ে লোনের বোঝা থেকে মুক্ত হতে হয়ে আপনাকে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে সুদ হিসেবে অতিরিক্ত ৭৬ লক্ষ টাকা দিতে হয়।

যাই হোক, লোনের এই সুদের পাহাড় থেকে বাঁচার উপায় আছে। এ ক্ষেত্রে পথ দেখাচ্ছে সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (SIP)। যদি ৭০ লক্ষ টাকার একটি ০.১০ শতাংশের SIP শুরু করা যায়, তা হলে মাসে ৭,০০০ টাকা করে বিনিয়েোগ করতে হবে। ২০ বছরে বিনিয়োগের মোট পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ১৬.৮০ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে অঙ্ক গিয়ে দাঁড়াবে ১.০৪ কোটিতে। এ ক্ষেত্রে যদি বিনিয়োগ করা টাকা বাদ দিয়ে দেওয়া হয়, তা হলেও থাকবে ৮৮ লক্ষ টাকা। সুদ মেটানোর জন্য যা পর্যাপ্ত। এই অ্যামাউন্টই বড়সড় ডাউন পেমেন্ট (Down Payment) ও মূলধন ( Principal Amount) জমা করার সমস্যা মেটাবে।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: