Macher Jhol Review: সম্পর্ক, স্বপ্ন, নস্ট্যালজিয়া আঁকড়ে বাঙালির হাবুডুবু-র গল্প !

না কিছু জিনিস বাঙালি আর ছাড়তে পারল না ৷ বরং নিজেকে আরও যেন আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিচ্ছে সেই ‘কিছু’ জিনিসের মধ্যে ৷

Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Aug 20, 2017 08:23 PM IST
Macher Jhol Review:   সম্পর্ক, স্বপ্ন, নস্ট্যালজিয়া আঁকড়ে বাঙালির হাবুডুবু-র গল্প !
Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Aug 20, 2017 08:23 PM IST

#কলকাতা: না কিছু জিনিস বাঙালি আর ছাড়তে পারল না ৷ বরং নিজেকে আরও যেন আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিচ্ছে সেই ‘কিছু’ জিনিসের মধ্যে ৷ যা প্রথমে প্রতিদিনের অভ্যাস, যা পরে গিয়ে দেশ, দেশান্তরের পরিচয় বাহক ! ওই যে ঠিক মাছের ঝোল ! বাঙালি মানেই তো তাই ৷ ফুটন্ত তেল, আদা, জিরে বাটা, মাছ ভাজার শব্দ, ঘ্রাণ আর সঙ্গে হলুদ মোছা মায়ের আঁচলের গন্ধ ! সঙ্গে সেই বাড়ির সিঁড়ির তলার রান্নাঘর ৷ হাজার হাজার কথাবার্তা, কাচের শিশিতে রাখা বড়ি, প্রেসার কুকারের সিটি আর ছাল ওঠা বাঙালির পুরনো বাড়ির ফিকে হওয়া গল্প ৷ মুঠো করে নিয়ে এই গল্প দেশ থেকে দেশান্তরে পাড়ি দিয়েই তো সেই ভিডিও কলে, মা-বাবাকে দেখা ! আর একটাই কথা, মায়ের হাতের রান্না খুব মিস করছি ! আর সেই মিস করাকেই একেবারে অন্যভাবে তুলে ধরলেন প্রতীম ডি গুপ্ত ৷

পরিচালক প্রতীম ডি গুপ্ত-র নতুন ছবি ‘মাছের ঝোল’ হতেই পারে টলিউডের প্রথম ফুড ফিল্ম ৷ হতেই পারে ঝকঝকে সিনেম্যাটোগ্রাফিতে মাঝের ঝোলের স্বাদ দেওয়া ৷ কিন্তু আদতে ‘মাছের ঝোল’, যা গল্প বলে যায় তা চেনা গল্প ৷ আর যে গল্পে বাঙালি আটকে রয়েছে শিকড় ধরে! আর এখানেই হয়তো পরিচালক প্রতীম ডি গুপ্ত বাজি মেরেছেন ছক টানা গল্পে থেকেও, আবার ছক বেরানোর গল্প বলে ৷

বাবা চেয়েছিলেন ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হোক ৷ মোটা টাকা বেতন পেয়ে, আরামের জীবন ৷ আর চাকরি পেতেই, পাত্রী খুঁজে বিয়ে ৷ ব্যস, সংসারের মধ্যে চেনা বাঙালি ঘরের ছেলে আটকে যাওয়া ৷ আর অন্যদিকে ছেলে চায় শ্যেফ হতে ৷ সব বাঁধা ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দিতে ৷ তবে বাবার উপদেশ, চোখ রাঙানিতে সেই স্বপ্ন আটকে যায় কিছু বছর ! তারপর...দুম করে সব ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া, পিছনে না ফিরে তাকানো ৷ সদ্য সংসারকেও চিরবিদায় !

প্রতীমের ‘মাছের ঝোল’ ছবির গল্প মূলত এই জায়গা থেকেই শুরু, তবে সব ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া দেবদত্ত সেন ওরফে ঋত্বিকের সাফল্য, নামডাক থেকেই পর্দায় অবতরণ ৷ একদিকে ফরাসী প্রেমিকা আর মনের কোণে, স্বপ্নে পুরনোকে হাতছানি ৷ কিছুটা কনফিউজড, কিছুটা একগুঁয়েমি ৷ কিন্তু আদতে তো সেই বাঙালিই তো ৷ পিছু টান ডাক দিলে, যাবে কোথায়? তাই প্রতীমের দেবদত্ত-ও পারল না ৷ ফিরে এল সেই স্মৃতির কাছেই ৷ আর একে একে ফেলে যাওয়া অতীত গুলোর সামনে এসে দাঁড়ানো ৷

প্রতীম এই গল্পকেই ‘মাছের ঝোল’-এর সঙ্গে রেঁধেছেন ৷ হসপিটালের বেডে শুয়ে থাকা মায়ের ‘সেই’ মাছের ঝোল খাওয়ার ইচ্ছে ! অনেকটা শেষ ইচ্ছে-র মতো শোনায় ৷ ‘সেই’ মাছের ঝোল, যা কিনা ছোটবেলায় অপটু হাতে মাকে রেঁধে খাইয়েছিলে ছোট্ট ছেলে ৷ আর ‘সেই’ মাছের ঝোল রাঁধতে গিয়েই বার বার নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প বেঁধেছেন প্রতীম ৷

Loading...

তাহলে কী প্রতীমের ‘মাছের ঝোল’ সম্পর্কের গল্প বলে ? নাকি শুধুই নস্ট্যালজিয়া ? নাকি স্বপ্ন পূরণের গল্প? আসলে প্রতীম এই তিন জিনিসেরই মিশ্রণ ঘটিয়েছেন তাঁর মাছের ঝোলের মশলায় ৷ সঙ্গে মিশিয়েছেন এক ছক ভাঙা গল্পের ৷ মা-ছেলের সম্পর্ক, এক অসম্পুর্ণ দাম্পত্য, সবই যেন প্রতীমের মাছের ঝোলের একেকটা মশলা ৷ আর সবশেষে কমলালেবুর রস মিশিয়ে আসলে গল্পের ছক বদলেছেন পরিচালক ! আর তাই তো নস্ট্যালজিয়ায় আটকে না রেখে নায়ককে ফ্রেঞ্চ প্রেমিকার কাছেই ফিরিয়ে দিয়েছেন প্রতীম ৷

প্রতীম তাঁর তৃতীয় নম্বর ছবিতেও বুঝিয়ে দিলেন, স্মার্ট গল্প কীভাবে বলতে হয় ৷ তাই তো চেনা, প্রেডিক্টেবল গল্প হলেও ‘মাছের ঝোল’ একেবারে টাটকা অনুভব দেয় ৷

তবে এখানে গল্পের বাছাইয়ের থেকেই মূল চরিত্রে ঋত্বিকের মতো অভিনেতাকে বেছেই আর্ধেক সাফল্যকে পকেটে পুরে ফেলেছেন প্রতীম ৷ শুধু শ্যেফের জামাই পরেননি, চরিত্রেও ঢুকে পড়েছেন পাকাপোক্তভাবে৷ তাই হয়তো পাওলি দাম, মমতা শঙ্কর এই ছবিতে অল্প হলেও দুর্বল হয়ে পড়েন ঋত্বিকের কাছে ৷ বাহবা দিতে হয় ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফার শুভঙ্কর ভাঁড়কে ৷ অনুপমের সুরে ‘আমাকে দত্তক নিয়ে নাও’ ছবির মেজাজ ধরে রাখে ৷

শেষমেশ বলা যায় প্রতীমের ‘মাছের ঝোল’ শুধুই একটা রূপক ৷ আসলে ফেলে আসা মুহূর্তকে, ফের সেইভাবে পাওয়ার বা চেষ্টার গল্প বলে এই ছবি ৷ আবার কখনও নস্ট্যালজিয়াকে আঁকড়ে ধরেই ছক বেঁধে বেরনের বার্তা দেয় ৷ ঠিক যেমন ‘সেই’ মাছের ঝোল !

First published: 08:23:07 PM Aug 20, 2017
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर