Home /News /bankura /
Bankura: ডোকরা শিল্পীদের মনোবল বাড়াতে তৈরি হচ্ছে মডেল শিল্পতালুক

Bankura: ডোকরা শিল্পীদের মনোবল বাড়াতে তৈরি হচ্ছে মডেল শিল্পতালুক

title=

ডোকরা হল হারানো ঢালাই পদ্ধতিতে তৈরি একটি প্রাচীন শিল্পকর্ম। যা শিল্পের ইতিহাসে প্রায় চার হাজার বছরের পুরনো বলে মনে করা হয়। ডোকরা শিল্পীদের মনোবল বাড়াতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে মডেল শিল্প তালুক।

  • Share this:

    বাঁকুড়া : ডোকরা হল হারানো ঢালাই পদ্ধতিতে তৈরি একটি প্রাচীন শিল্পকর্ম। যা শিল্পের ইতিহাসে প্রায় চার হাজার বছরের পুরনো বলে মনে করা হয়। ডোকরা শিল্পীদের মনোবল বাড়াতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে মডেল শিল্প তালুক। বাঁকুড়া রানীগঞ্জ সড়কপথে 9 নম্বর রাজ্য সড়কের পাশেই বাঁকুড়া শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে বাঁকুড়া দু নম্বর ব্লকের অন্তর্গত বিকনা গ্রাম। আর সেই গ্রামেই রয়েছে ডোকরাপাড়া। এই গ্রামে প্রায় ১৫০ বছরের বছর বা তার আগে এই ডোকরা শিল্পের কাজ শুরু হয়। বাঁকুড়ার বিকনা গ্রামে কর্মকার সম্প্রদায়ের মানুষেরা বেশিরভাগই ডোকরা শিল্পের সাথে যুক্ত। এই গ্রামের রয়েছে ডোকরা শিল্পের উপর নির্ভরশীল প্রায় ৯০ থেকে ৯৬ টি পরিবারের বসবাস এবং সেই পরিবারের প্রায় ২৫০ জন শিল্পী এই পেশার সাথে যুক্ত। এই গ্রামে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঠুকঠুক আওয়াজে শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় শিল্পকলা ফিরে আসে প্রাণ। তাদের শিল্পকলার মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন বিভিন্ন শিল্প। পিতলের ক্যানভাসে শিল্পীরা তৈরী করেন হাতি, ঘোড়া, সরস্বতী, লক্ষী,গণেশ বা দশভূজার রূপ।

    তবে একটা সময় ছিল যখন শিল্পীদের কাজের বরাত সেইভাবে ছিল না। সেই সময় চরম ভোগান্তিতে দিন কাটিয়েছেন তারা। অনেকে আবার আর্থিক প্রতিকুলতার কারণে এই পেশার সাথে যুক্ত না হয়ে বেছে নিয়েছিলেন অন্য পথ । এই বিকনা গ্রামের এক শিল্পী যুদ্ধ কর্মকার ১৯৮৮ সালে ডোকরার শিল্পকলা বানিয়ে পেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কার।যদিও সেই সময় এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থেকে রুজি রোজগার খুব একটা সম্ভব ছিল না। তবে সে সব এখন অতীত। এখন কিছুটা হলেও ঘুরেছে সময়। পাশে দাঁড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। প্রায় 50 টি পরিবারের হাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে বসবাসের জন্য পাট্টা। প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে এই ডোকরা পড়াকে একটা মডেল শিল্প পাড়া বানিয়ে তোলার কাজ চলছে।

    আরও পড়ুনঃ Paschim Bardhaman: বিরল দৃশ্য! লোকাল টানছে কার্গো ইঞ্জিন

    রাজ্য ও রাজ্যের বাইরের থেকে আগত সমস্ত ক্রেতাদের জন্য তৈরি হয়েছে গেষ্ট হাউস। এখন প্রত্যহ লেগেই রয়েছে এই গ্রামে বিদেশীদের আনাগোনা।এখন চরম ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে শিল্পীদের। বিভিন্ন দেশ-বিদেশ থেকে মিলছে তাদের কাজের বরাত। তাদের তৈরি করা জিনিস এবার রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে পাড়ি দিচ্ছে বিদেশেও। আগে তারা যেমন বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি তৈরীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন, এখন বিভিন্ন কানের দুল, পেন্ডেন্ট, হাতের বালা গয়নার বাক্সর মত জিনিস তারা তৈরি করছেন এই ডোকরা শিল্প এর মধ্য দিয়ে। এই শিল্পের মূল উপাদান হলো মাটি, ধুনো, পেতল, মোম, কাঠ-কয়লা ইত্যাদি।

    আরও পড়ুনঃ Paschim Medinipur: মেদিনীপুরে ৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস মূখ্যমন্ত্রীর

    ডোকরার ছাঁচটি তৈরি করা হয় মাটি দিয়ে । তার উপর প্রাকৃতিক মোমের আস্তরন লাগানো হয় । তার উপর আবার মাটির আবরন দেওয়া হয় । এর পর এটিকে গরম করা হয়। গরমে সরু পথ দিয়ে মোম গলে বেরিয়ে যায় আর সেপথে তরল ধাতু মিশ্রন ঢেলে দেওয়া হয় । এরকমভাবে ৭টি ধাপে শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পায় শিল্পকলা। তাদের শিল্পকলায় তৈরি হারের লকেট শুরু হয় 75 টাকা থেকে এবং বিভিন্ন ছোট বড় মূর্তি শুরু হয় 100 টাকা থেকে। কোভিডের কালোছায়া কাটিয়ে শিল্পীরা ফিরে পেয়েছেন প্রাণ। বেড়েছে এই শিল্পকলার চাহিদাও। আগে কাঁচামালের দাম কম থাকায় জিনিসপত্রের দাম এর 40 থেকে 45 শতাংশ লাভ থাকত এবং সরকারি অর্ডারে 50% লাভ থাকতো। কাঁচামালের দাম বেশি হওয়ায় এখন লাভের অংশ অনেকটাই কম। ভিন্ন সাইজ এবং ডিজাইন এর উপর নির্ভর করে ডোকরার তৈরি সামগ্রীর দাম। এই শিল্প গ্রামে শিল্পতালুক গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারিভাবে নেওয়ায় খুশি ডোকরা শিল্পীমহল।

    JOYJIBAN GOSWAMI
    First published:

    Tags: Bankura, South Bengal

    পরবর্তী খবর