ঋতু পরিবর্তন হয় এদের জন্য, চক্রে এরাই প্রধান, আপনার রাশিও কি এমনই?

বলা হয়, রাশিচক্রের মধ্যে মৌলিক বা প্রধান হল মেষ (Aries), কর্কট (Cancer), তুলা (Libra) এবং মকর (Capricorn)।

বলা হয়, রাশিচক্রের মধ্যে মৌলিক বা প্রধান হল মেষ (Aries), কর্কট (Cancer), তুলা (Libra) এবং মকর (Capricorn)।

  • Share this:

#কলকাতা: যদি ভূবিজ্ঞানের দিক থেকে দেখতে হয়, তাহলে পৃথিবীর নিজের কক্ষপথে সূর্যকে পরিক্রমণ সহজ ভাবে বললে ঋতু পরিবর্তনের মূল কারণ। আবর্তন গতির জন্য ভূপৃষ্ঠের যেখানে যে ভাবে সূর্যের আলো পড়ে, তার উপরে নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট স্থানের শীত-গ্রীষ্মের বিষয়। আবার যদি রাশিবিজ্ঞান বা জ্যোতিষশাস্ত্রের দিক থেকে বিচার করা যায়, তাহলেও এক্ষেত্রে নবগ্রহের অন্যতম এবং গ্রহপতি সূর্যের সরণকে ব্যাখ্যা করতে হয় ঋতু পরিবর্তনের কারণ হিসাবে। সূর্য বছরে যখন যে চার রাশিতে গমন করেন, সেই অনুসারে একেকটি ঋতু চিহ্নিত হয়। আর এই চারটি রাশিই চক্রের মধ্যে মৌলিক বা প্রধান বা ইংরেজিতে বললে কার্ডিনাল (Cardinal) রাশির তকমা পায়।

বলা হয়, রাশিচক্রের মধ্যে মৌলিক বা প্রধান হল মেষ (Aries), কর্কট (Cancer), তুলা (Libra) এবং মকর (Capricorn)। সূর্য মেষ রাশিতে অবস্থান করলে বসন্তের সূচনা হয়, কর্কটে অবস্থানে অধিষ্ঠান করে গ্রীষ্ম। তেমনই সূর্যের তুলা রাশিতে অবস্থানে শরৎ এবং মকরে অবস্থানে শীতের আগমন ঘোষিত হয়। তবে ভূপৃষ্ঠের কোনও স্থান উষ্ণ বা শীতল হওয়ার নেপথ্যে যেমন পৃথিবীর আবর্তন গতি কাজ করে, তেমনই সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত চারটি সময় থাকে এই চার মৌলিক রাশির অধীনে, বলা হয় যে দিনের সেই সময়ে সংশ্লিষ্ট রাশির জাতক-জাতিকারা সর্বাধিক সক্রিয় থাকেন।

উদয়ের পরে সূর্য যে বিন্দুতে দিগন্তরেখা অতিক্রম করেন, মেষ অবস্থান করে সেই বিন্দুতে, একে ইংরেজিতে বলা হয় Ascendant, মোটামুটি ভাবে সকাল ৯টা পর্যন্ত এটি স্থায়ী হয়। সূর্য যখন আকাশের তুঙ্গবিন্দুতে অধিষ্ঠান করে, সেই সময়কে ইংরেজিতে বলা হয় Medium Coeli বা Midheaven, দুপুর ১২টা এর সময়কাল, এই সময়ে তুঙ্গবিন্দুতে আধিপত্য করে মকর। সূর্য যখন অস্তায়মান, সেই সময়ে প্রাবল্য থাকে তুলার, একে ইংরেজিতে বলে Descendant, সময়কাল বিকেল ৩টে। আর সূর্য যখন অস্তাচলে দিগন্তরেখা অতিক্রম করে, সেই বিন্দুতে অবস্থান করে কর্কট, একে ইংরেজিতে বলে Imum Coeli, সময়কাল সন্ধ্যা ৬টা।

এই চার মৌলিক বা প্রধান রাশির জাতক-জাতিকাদের চিহ্নিত করা যায় যে কোনও কাজে নেতৃত্বদানের ক্ষমতা এবং স্বেচ্ছায় উদ্যোগী হওয়ার লক্ষণ থেকে। তবে অনেক সময়েই এঁরা লক্ষ্যপূরণে সমর্থ হন না স্বভাবগত অস্থিরতার কারণে, সেক্ষেত্রে চক্রের স্থায়ী রাশির সঙ্গে এঁদের সম্পর্ক উন্নতির সহায়ক হয়। দেখে নেওয়া যাক একেক করে জন্মদিন মিলিয়ে তাঁদের প্রাধান্যের বৈশিষ্ট্য এবং চারিত্রিক নেতিবাচকতা, যা সাফল্যের পথে অন্তরায় হয়ে ওঠে।

মেষ: মার্চ ২১ থেকে এপ্রিল ১৯। এই রাশির জাতক-জাতিকার স্বভাবের মূল উপাদান আগুন, তাই এঁদের কার্ডিনাল ফায়ার সাইন (Cardinal Fire Sign) বলা হয়। প্রবল উদ্যম এঁদের যে কোনও কাজে নেতৃত্ব দিতে সাহায্য করে, স্বভাবের দিক থেকে এঁরা স্বাধীনচেতা হন। তবে এঁদের আত্মসংযমের অভাব রয়েছে, সেটুকুর ভারসাম্য রাখতে পারলেই এঁরা জীবনে উন্নতি করতে পারবেন।

কর্কট: জুন ২১ থেকে জুলাই ২২। এই রাশির জাতক-জাতিকার স্বভাবের মূল উপাদান জল, তাই এঁদের কার্ডিনাল ওয়াটার সাইন (Cardinal Water Sign) বলা হয়। সংবেদনশীল স্বভাব, আবেগের প্রাবল্য, অন্যকে ভালো রাখার ইচ্ছা এঁদের কোনও বিষয়ে উদ্যোগী করে তোলে। এই দিক থেকে পরিবারের সঙ্গে এঁদের সম্পর্ক ভালো হয়। তবে এই অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতাই এঁদের সমস্যার মূল, একে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে জীবন মসৃণ হবে।

তুলা: সেপ্টেম্বর ২৩ থেকে অক্টোবর ২২। এই রাশির জাতক-জাতিকার স্বভাবের মূল উপাদান বায়ু, তাই এঁদের কার্ডিনাল এয়ার সাইন (Cardinal Air Sign) বলা হয়। স্বভাবের বিশ্লেষণী ক্ষমতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুণ, বিচারমূলক মনোবৃত্তি এঁদের কর্মোদ্যমের প্রধান উপাদান রূপে কাজ করে। রাশিচিহ্নের মতোই এঁরা যে কোনও পরিস্থিতিতে ভারসাম্য রাখতে জানেন, সমস্যাবহুল পরিস্থিতিতে সকলের উপযোগী সমতা ফিরিয়ে আনতে পারেন। তবে ভিতরে ভিতরে এঁরা খুব একটা আশাবাদী হন না, এই ইতিবাচকতার অভাব মেটাতে পারলে এঁদের জীবন সর্বাঙ্গীণ ভাবে সুখের হতে পারে।

মকর: ডিসেম্বর ২২ থেকে জানুয়ারি ১৯। এই রাশির জাতক-জাতিকার স্বভাবের মূল উপাদান মাটি, তাই এঁদের কার্ডিনাল আর্থ সাইন (Cardinal Earth Sign) বলা হয়। উদ্যম এঁদের স্বভাবজাত, পৃথিবী যেমন সব কিছু ধরে রাখে, এঁরাও তেমনই সব বিষয়ে নিজের কর্তৃত্ব স্থাপন করতে চান এবং সহজাত প্রতিভাবলে অন্যদের নিজের যুক্তি বোঝাতে সক্ষম হন। তবে বেশিরভাগ সময়েই এঁরা এমন অনেক লক্ষ্য স্থির করেন যা শেষ পর্যন্ত সফল হয় না, যা নিজের হতাশা এবং অন্যের আশাভঙ্গের কারণ হয়। এঁদের স্বভাবের আরেকটি বড় দোষ হল সংবেদনশীলতার অভাব, অন্যের প্রতি যথোচিত মনোযোগী হলে এঁদের স্বীকৃতি সমাজে বাড়বে বই কমবে না।

First published: