মহালয়াতে এরা ফিরে আসে, আঁকড়ে থাকে নস্টালজিয়ায় !

সকাল থেকেই মিত্তির বাড়িতে তুমুল শোরগোল ৷ বড় গিন্নি থেকে ছোটকা সবাই এ ঘর ও ঘর ঘুরছে ৷ দাদু সকাল থেকে চিলচিৎকার শুরু করেছে ৷ ‘

Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Sep 19, 2017 12:07 PM IST
মহালয়াতে এরা ফিরে আসে, আঁকড়ে থাকে নস্টালজিয়ায় !
Mahalaya
Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Sep 19, 2017 12:07 PM IST

#কলকাতা: সকাল থেকেই মিত্তির বাড়িতে তুমুল শোরগোল ৷ বড় গিন্নি থেকে ছোটকা সবাই এ ঘর ও ঘর ঘুরছে ৷ দাদু সকাল থেকে চিলচিৎকার শুরু করেছে ৷ ‘ওরে তোরা বড় চারখানা ব্যাটারি আনবি, নাকি বুড়ো বয়সে আমি যাব বাজারে !’ অন্য ঘরে পাপাই কিন্তু বিন্দাস বেলা ১২টা নাগাদ ঘুম থেকে উঠে, চায়ে চুমুক দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ঘাটছে ৷ আর বোঝার চেষ্টা করছে, হচ্ছেটা কি?

অমনি পাপাইয়ের ফেসবুকে ভেসে এল ‘মহালয়া ফটোশোপ’ ! ব্যস, একে একে দুই, আর দুইয়ে দুইয়ে চার ৷ আজ রাত পোহালেই তো ভোরে মহালয়া ৷ আর সেই মহালয়া নিয়েই সকাল থেকে শোরগোল ৷

mahalaya-8_092711065359

মিত্তির বাড়িতে প্রতিবারই একই অবস্থা ৷ এককালে পুজো হতো ৷ এক কালে আলপনা পরত উঠনে ৷ আমপাতা ঝুলত বারান্দা থেকে ৷ ঠাকুর তৈরি হতো ঠাকুর দালানে ৷ আজ এ সব হয় না ৷ শুধু দাদুর ঘর থেকে ভেসে আসে মহালয়ার গান ৷ আর বাড়ির বড়রা সকালেই বেরিয়ে পড়ত তিল তর্পনে ! আর সেই মহালয়ার জন্যই সকাল সকাল পুরনো আলমারি থেকে পুরনো বাসনপত্র, দাদুর আমলের রেডিও-র সেকি যত্ন-আর্তি ৷

উঠোনে বসে কাজের দিদির তেঁতুল দিয়ে বাসন মাজা শুরু ৷ বড় তামার পাত্রের পাশে নড়ে চড়ে উঠছে পুরনো কোশাকুসি ৷ জ্যাঠু সকালেই বেরিয়ে পড়েছে হাওড়ার ফুল মার্কেটে, গাঁদা, পদ্ম না আনলেই নয়৷ বাড়ির পাশ থেকে নয়, ম্যানেজ হয়ে যাবে শিউলি ৷ ভোরে যখন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র গলা ছাড়বেন, চারিপাশে তখন পুজোর সাজ ৷ ধূপকাঠির গন্ধ আর কুয়াশা মাখা ঠান্ডা হাওয়া ৷ এ বাড়ির এই চল ছোটো থেকেই ৷ আর তাই তো নস্টালিজিয়ায় আটকে সাত থেকে সতেরো, সতেরো থেকে এখন সাতাশ ৷ বাড়ির দেওয়া বদলেছে ৷ পুরনো মানুষ নেই ৷ নতুন মানুষ এসেছে ৷ কিন্তু নিয়মনীতি চলছেই ৷ চলছে সেই পুরনো রেডিও, পুরনো তামার পাত্র ৷ আর সেই পুরনো মহালয়ার গান ৷

67fa2e60196c29c5255816371abdd1e7

মোবাইল এসেছে ৷ ফিচার ফোন থেকে টাচ ফোন ৷ এসেছে হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, স্কাইপ ৷ ডিজিটাল মাধ্যমে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটছে ভাবনারা ৷ তবুও বিশেষ দিনে সেই আটকে পড়া পুরনো খাতা-কলমে ৷ নতুনত্বের সঙ্গেই ফের যেন পুরনোকে ধরে আঁকড়ে থাকা ৷ ঠিক যেন ভোর চারটের মহালয়ার গান !

এই সবই যেন বার বার চিৎকার করে বলে উঠছে আমরা সবাই বাঙালির নস্টালজিয়া৷ যত দিন যায় ততই পিছনে সরতে থাকি আমরা৷মাঝে মাঝে ফাঁক ফুকর দিয়ে বেরিয়ে পড়লেও সমবেদনার ছাপ৷ আমরা ইতিহাস৷আমরা পুরনো আমরা অ্যান্টিক৷ আমাদের ব্যবহার শুধুই দিন মাপা৷ কিম্বা কোনও পিরিয়ড সিনেমায় এক্সট্রার পাঠ৷ তবে দুঃখ নেই৷ নতুনের খেলা এরকমই৷অবিরাম চলতে থাকে৷যারা এখন ইন, তারাও ক্ষণিকের মাত্রা৷ একটু জায়গা রেখও ভাই৷হয়ত কয়েকদিন বাদে তোমার পাশেই জায়গা নেবে তারাও৷কিম্বা আমরা জায়গা ছেড়ে দিয়ে একেবারেই উড়ে যাবও মিউজিয়ামের বন্ধ কাচে মোরা বাক্সে৷পাশে লেখা থাকবে সাল, তারিখ, দিন, ক্ষণ৷

তবে এটা ভেবেই শান্তি তখনও মনে পড়ব বিশেষ কিছু দিনে৷অত্যন্ত ততদিন, যতদিন না কোনও মেশিন আবিষ্কার হচ্ছে নস্টালজিয়া মোছার ৷

First published: 05:15:29 PM Sep 18, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर