Home /News /alipurduar /
Alipurduar: রোজ হাতির হানা! ভিটেমাটি বেচে অন্যত্র চলে গেলেন গ্রামবাসী!

Alipurduar: রোজ হাতির হানা! ভিটেমাটি বেচে অন্যত্র চলে গেলেন গ্রামবাসী!

title=

হাতির হানায় অতিষ্ট হয়ে ভিটেমাটি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন সন্তোষ বিশ্বাস ও তার পরিবার।ডুয়ার্স জুড়ে হাতির হানা নতুন কিছু নয়।

  • Share this:

    #আলিপুরদুয়ার : হাতির হানায় অতিষ্ট হয়ে ভিটেমাটি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন সন্তোষ বিশ্বাস তার পরিবার।ডুয়ার্স জুড়ে হাতির হানা নতুন কিছু নয়। অনেক বছর ধরেই হাতি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে হানা দেয়। কিন্তু বিগত দু চার বছর ধরে ডুয়ার্সের জনবসতি এলাকায় হাতির হানা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। হাতির হানায় ফসলের ক্ষতি, ঘর বাড়ি ভাঙ্গা,ফল ফলাদি গাছ উপরে ফেলা এখন যেন নিত্য ঘটনা হয়ে গিয়েছে। এতসব সহ্য করেও বাসিন্দারা জীবনযাপন করে চলেছেন।কিন্তু বিগত কয়েক দিনের হাতির আক্রমণের ধরণ দেখে জীবন হানির ভয় চেপে বসেছে অনেকের মনে ।তাই হাতির হানার আতঙ্কে পূর্ব পুরুষের ভিটেমাটি বিক্রি করে অন্যত্র বসবাস করতে চলেছেন ছিপরা বর্মন পাড়ার সন্তোষ বিশ্বাস। সচরাচর এমন ঘটনা শোনা যায় না। কিন্তু এবার এমনটাই ঘটেছে। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের লাগোয়া আলিপুরদুয়ার ব্লকেরছিপড়া বর্মন পাড়ার বাসিন্দা পেশায় কৃষক সন্তোষ বিশ্বাস জানান, প্রতি বারেই আটটা দশটা হাতি হানা দেয় তাদের গ্রামে। সব ধরনের ফসলের ক্ষতি তো করেই, বাড়ি ঘরও ভাঙ্গচুর করে। ওনার দুবিঘা চাষের জমি বেগুন, পটল, লাউ, কুমরো চাষ করলেও লাভের মুখ দেখতে পান না।

     

     

    তাছাড়া গত কয়েক বছরে তিন বার ঘর বাড়ি ভেঙ্গেছে হাতি।হাতি হানায় এক প্রকার অতিষ্ঠ, ভীত সন্তস্ত্র সন্তোষবাবু গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দুবিঘা জমি প্রতিবেশীর কাছে প্রায় ছয় লক্ষ টাকায় বিক্রি করেছেন। কিছু টাকা অগ্রিম নিয়েও নিয়েছেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে তেলিপাড়া গ্রামে বাড়ি তৈরির কাজ শুরুও করে দিয়েছেন। গত এক বছর ধরে হাতির ভয়ে তিনি বাড়িতেই থাকেন না। সন্ধ্যা হলেই পাশের বাড়ি , না হয় তেলিপাড়া এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে রাত কাটাতেন। কয়েক মাস আগে মনস্থির করেন অন্যত্র চলে যাবেন।

    আরও পড়ুনঃ রাখীবন্ধন উৎসব উপলক্ষ্যে স্কুলে বসেই রাখী তৈরি পড়ুয়াদের

     

     

    জমি জমা ঘর বাড়ি বিক্রি করেই তেলিপাড়ায় পাকাপাকিভাবে বসবাস করতে বাড়ির জমিও কিনেছেন জানান তিনি ।সন্তোষ বিশ্বাস জায়গা জমি ঘর বাড়ি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যাচ্ছে বিষয়ে প্রতিবেশীদের মনেও কষ্ট। ওই গ্রামের বাসিন্দারা জানান,গত কয়েক বছর ধরে হাতি হানা বেড়ে যাওয়াতেই এই পরিবেশ তৈরি হয়েছে ।কিন্তু সন্তোষ চলে গেলেও তারা যেতে পারবেন না। তাদের বক্তব্য ভিটেমাটি ছেড়ে গেলে পরিবারের মুখে অন্নের যোগান দেবেন কিভাবে।

    আরও পড়ুনঃ গাড়ির মধ্যে এগুলো কী! তল্লাশি চালাতে চোখ কপালে পুলিসের!

     

     

    যদি হাতির পায়ে মৃত্যু লেখা থাকে ,তাহলে সেটাই মেনে নেবেন তারা। নিজের প্রাণ বাঁচাতে কৃষি কাজ ছেড়ে সন্তোষ এবার পরিণত হতে চলেছে দিনমজুর। তাতেও তার আক্ষেপ নেই এক বেলা খেয়ে থাকলেও রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে অন্তত পারবেন।বনদফতর সূত্রে খবর,ভুটানে প্রাচীর তোলার কাজ শুরু হওয়ায় হাতিগুলি ওই জঙ্গলে যেতে পারছেনা।যারফলে গ্রামে আক্রমণের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

     

     

     

    Annanya Dey

    Published by:Soumabrata Ghosh
    First published:

    Tags: Alipurduar, Wild elephant

    পরবর্তী খবর