২৬/১১ মু্ম্বই হামলা: ভয়াবহ ঘটনার যন্ত্রণা আর দগদগে ক্ষত সাবেরাকে মুক্তি দেয়নি আজও

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Nov 26, 2017 07:17 PM IST
২৬/১১ মু্ম্বই হামলা: ভয়াবহ ঘটনার যন্ত্রণা আর দগদগে ক্ষত সাবেরাকে মুক্তি দেয়নি আজও
সাবেরা খান, মুম্বই হামলায় আহত
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Nov 26, 2017 07:17 PM IST

 #মু্ম্বই: ন'বছর আগের একটা ভয়াবহ ঘটনা। এখনও স্মৃতিতে দগদগে ক্ষত। এখনও চোখ বন্ধ করলেই শিউড়ে ওঠা। এখনও ট্রমা বয়ে চলেছেন নিত্যদিন । ছাব্বিশ এগারোর মুম্বই হামলার বিস্ফোরণ দেখেছিলেন চোখের সামনে। বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত পা সম্পূর্ণভাবে সারেনি আজও । তিনি সাবেরা খান। ছোটদের আরবী পড়িয়েই এখন দিন কাটে। কেন্দ্রে ক্ষমতার অদল বদল ঘটেছে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি মতো মেলেনি চিকিৎসায় সাহায্য। সন্ত্রাসবাদের ক্ষত সাবেরার কাছে যতটা না শারীরিক, তার থেকেও বেশি মানসিক।

ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টেছিল নিয়ম মেনেই। আর পাঁচটা দিনের মতোই হয়েছিল ভোর। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বরে এতটুকুও ব্যস্ততা কম ছিল না বাণিজ্যনগরীতে। সন্ধের আলো ঝলমলে মুম্বই জানত না, কী অপেক্ষা করছে রাতে। ভারতে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি আর গ্রেনেড বিস্ফোরণ। মুম্বই স্টেশনের কাছেই তখন ছিলেন সাবেরা খান। বারুদের ভারী গন্ধ তখনও নাকে এসে পৌঁছয়নি। টিউশন পড়িয়ে ট্যাক্সি করে বাড়ি ফিরছিলেন সাবেরা। আর তারপর......? ভয়াবহ ঘটনার যন্ত্রণা আর দগদগে ঘা সাবেরাকে মুক্তি দেয়নি। আজও।

এরপর ছন্দে ফিরেছে মুম্বই। হারিয়েছে সাবেরার জীবনের ছন্দ। চিকিৎসার খরচের পাহাড় কাঁধে। খরচের দীর্ঘ তালিকা সামলাতে সামলাতে শরীরের যন্ত্রণাকে হারিয়ে দিয়েছে মনের ব্যথা।

প্রতিশ্রুতি মিলেছিল। সাহায্যের। আশ্বাস মিলেছিল। পাশে থাকার। কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি সাবেরার কাছে ভিত্তিহীন। দেনায় হাবুডুবু খাওয়া সাবেরার গলায় ক্ষোভ, সরকারের প্রতিশ্রুতি আটকে কাগজে কলমেই ।

মুম্বইয়ের হাওয়ায় বারুদের গন্ধ আর নেই। ন'বছর পরে সাবেরার ছোট্ট ঘরের বাতাসটা কিন্তু আজও ভারী। ষাট ঘণ্টার লড়াইয়ে জঙ্গি দমন হয়েছিল। জীবনের লড়াইটা এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন সাবেরা। এরকম অনেকেই আছেন, যারা কিনা সাবেরার মতই সেদিনের বীভৎস ঘটনার ক্ষত বয়ে চলেছেন। এখনও । হিংসার সঙ্গে মনুষত্ব্যের লড়াই। আর সব হারানোর বেঁচে থাকার লড়াই। এই দুই লাইন কখনও মিলবে না। প্রতি ক্ষণে চলবে সমান্তরালভাবে। বইবে জীবনও।

First published: 07:17:14 PM Nov 26, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर