মুম্বই গেটের সামনে গোলাপে-মোমবাতিতে আজও স্মরণ ২৬/১১

মুম্বই গেটের সামনে গোলাপে-মোমবাতিতে আজও স্মরণ ২৬/১১

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Nov 26, 2017 06:58 PM IST
মুম্বই গেটের সামনে গোলাপে-মোমবাতিতে আজও স্মরণ ২৬/১১
26/11 Mumbai Attacks Anniversary
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Nov 26, 2017 06:58 PM IST

 #মুম্বই: মুম্বই হামলার নয় বছর। ২০০৮ সালের আজকের দিনেই বাণিজ্য নগরী মুম্বইতে জঙ্গি হামলা হয়। একশো ছেষট্টি জনের মৃত্যু। ৬০ ঘণ্টার লড়াই। ফিরে দেখা ন'বছর আগের মুম্বই হামলা।

ভারতের বুকে সবথেকে বড় সন্ত্রাসবাদী হামলা। তাজ হোটেল, ওবেরয় ট্রাইডেন্ট হোটেল, নরিম্যান হাউস, লিওপোল্ড ক্যাফে, সিএসটি স্টেশন-সহ একাধিক জায়গায় নাশকতা চালায় পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা।

২৬ নভেম্বর, ২০০৮

হঠাৎই এলোপাথাড়ি গুলি। পর পর বিস্ফোরণ। সে দিনই সন্ত্রাসের ভয়াবহ চেহারাটা ভারতবাসীর কাছে স্পষ্ট হয়। প্রথম বারের মত। ইন্ডিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচে মজে ছিল বাণিজ্যনগরী। রাতের মুম্বই। আলো ঝলমলে-সদাব্যস্ত। প্রথম হামলা লিওপোল্ড কাফেতে।

প্রথমে গ্রেনেড বিস্ফোরণ। পরে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি। মৃত্যু হয় বহু নিরীহ মানুষের। প্রায় একই সময়ে তাজ হোটেলের কাফেতেও হামলা চালায় দুই জঙ্গি। হামলা হয় ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাসেও। সেখানেই হামলা চালায় আজমল কাসভ।

Loading...

পরপর হামলায় হতচকিত হয়ে পড়ে মুম্বই পুলিশ। কেন? কোথায়? কারা হামলা চালাল? তা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায়।

টিভিতে গোটা ঘটনার লাইভ সম্প্রচার হচ্ছিল। দূরে, পাকিস্তানে বসে তা দেখছিল জঙ্গিদের হ্যান্ডলাররা। সেই মত আসছিল নির্দেশও। মুম্বই হামলা থেকে শিক্ষা নিয়ে, জঙ্গি হামলার সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ হয় ভারতীয় টেলিভিশনে।

হামলার প্রথম দিনই মুম্বইয়ের কামা হাসপাতালের সামনে জঙ্গিদের গুলিতে মৃত্যু হয় এটিএস প্রধান হেমন্ত কারকরের। সঙ্গে ছিলেন এসিপি অশোক কামতে ও ইন্সপেক্টর বিজয় সালাসকর। এই দিন রাতেই গ্রেফতার করা হয় কাসভকে। তাজ হোটেলে বহু মানুষকে পণবন্দি করে জঙ্গিরা।

২৭ নভেম্বর, ২০০৮

সকালে মুম্বই পৌঁছয় ২০০ জন এনএসজি কমান্ডো। মুম্বই পুলিশের হাত থেকে শহরকে জঙ্গি মুক্ত করার দায়িত্ব নেন কমান্ডোরা। তিনটি দলে ভাগ হয়ে কমান্ডোরা তাজ হোটেল, ওবেরয় ট্রাইডেন্ট হোটেল ও নরিম্যান হাউস ঘিরে ফেলেন। শুরু হয় অপারেশন ব্ল্যাক টর্নেডো।

গুলি-বিস্ফোরণ। মুম্বইতে তখন বারুদের গন্ধ। জ্বলছে আগুন। প্রাণপন লড়াই চালাচ্ছেন কমান্ডোরা। ৬৬ ঘণ্টা পর শেষ হয় অপারেশন ব্ল্যাক টরনেডো। মুম্বই পুলিশ এক জঙ্গিকে খতম করে। বাকি আট জনকে মারে কমান্ডোরা। জীবিত অবস্থায় কাসভকে গ্রেফতার করা হয়। এরপরই স্পষ্ট হয় পাকিস্তানের যোগ থাকার বিষয়টি। মাস্টারমাইন্ড হিসাবে উঠে আসে জকিউর রহমান লকভি ও হাফিজ সইদের নাম।

ক'দিন আগেই হাফিজকে গৃহবন্দি থেকে মুক্তি দিয়েছে পাক আদালত। ১৬৬ জনের মৃত্যু। কত-শত মানুষের প্রিয়জন হারানোর বেদনা। জখম আরও অনেকে। ২৬/১১ মুম্বই হামলা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও উন্নত হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। হামলার মোকাবিলায় সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, নজরদারি সরঞ্জাম ও কুইক রেসপন্স কমান্ডো টিম গড়ে তোলা হয়েছে৷ মুম্বই গেটের সামনে গোলাপে-মোমবাতিতে আজও স্মরণ ২৬/১১।

First published: 06:58:05 PM Nov 26, 2017
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर