Football World Cup 2018

মুম্বই বিস্ফোরণে দোষী প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও কেন মৃত্যুদণ্ড পেল না আবু সালেম, জানেন?

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Sep 07, 2017 06:17 PM IST
মুম্বই বিস্ফোরণে দোষী প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও কেন মৃত্যুদণ্ড পেল না আবু সালেম, জানেন?
File photo of Abu Salem/Reuters
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Sep 07, 2017 06:17 PM IST

#মুম্বই: পঁচিশ বছরের মাথায় মুম্বইয়ে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের সাজা ঘোষণা করল টাডা-র বিশেষ আদালত ৷ ১৯৯৩-এর মুম্বই বিস্ফোরণের অন্যতম মূল চক্রী প্রমাণিত হওয়ার পরও মৃত্যুদণ্ডের সাজা থেকে বেঁচে গেলেন গ্যাংস্টার আবু সালেম ৷

ওই নাশকতার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আবু সালেম ও করিমউল্লাহ খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে বিশেষ টাডা আদালত। আরও দুই চক্রী তাহির মার্চেন্ট ও ফিরোজ খানকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছে। দশ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রিয়াজ সিদ্দিকিকে। আরেক দোষী মুস্তাফা দোসার অবশ্য আগেই মৃত্যু হয়েছে।

১৯৯৩ মুম্বই বিস্ফোরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত আবু সালেমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। তাকে দু’লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যপর্ণ চুক্তিতে বাধা থাকায় অপরাধী হয়েও আবু সালেমকে ফাঁসির সাজা দেওয়া যায়নি। তার হাজতবাসও পঁচিশ বছরের বেশি হবে না। আবু সালেমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আনা ও সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

বহু টালবাহানার পর ২০০৫ সালে পর্তুগাল থেকে আবু সালেমকে ভারতে ফিরিয়ে আনে পর্তুগাল। প্রত্যার্পণ চুক্তি অনুযায়ী পঁচিশ বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে না আবু সালেমকে। ইতিমধ্যেই ১২ বছর জেল খেটেছে মুম্বই বিস্ফোরণের অন্যতম অভিযুক্ত। যাবজ্জীবন সাজা হলেও আর ১৩ বছর জেলে রাখা যাবে আবু সালেমকে।

১৯৯৩ সালের ১২ মার্চের দুপুর। ভারতের মাটিতে ভয়ঙ্করতম জঙ্গি নাশকতা। দুপুর দেড়টা থেকে তিনটে চল্লিশের মধ্যে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বাণিজ্যনগরী মুম্বই। দু’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মৃত্যুর তাণ্ডব। নিহত হন ২৫৭ জন। আহত হন ৭১৭।

Untitled-1 copy

হামলাকারীদের টার্গেট ছিল মুম্বইয়ের একাধিক জনবহুল এলাকা। এয়ার ইন্ডিয়া বিল্ডিং, বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ, জাভেরি বাজার, হোটেল সি রক ও হোটেল জুহু সেন্টুর, ওয়ার্লি, পাসপোর্ট অফিস-সহ ১৩টি এলাকায় চলে পরপর গাড়িবোমা বিস্ফোরণ। হোটেলে রাখা হয় সুটকেস বোমা।

গোটা বিশ্বকে চমকে দেওয়া এমন নাশকতার প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে শুরু হয় তদন্ত। স্বাভাবিক ভাবেই নাম উঠে আসে ডি কোম্পানির। প্রকাশ্যে আসে টাইগার মেমন ও ইয়াকুব মেমন নামে দুই ভাইয়ের কীর্তি। ২০০৫ সালে বহু টালবাহানার পর পর্তুগাল থেকে আবু সালেমকে ভারতে ফেরাতে সক্ষম হয় নয়াদিল্লি। চব্বিশ বছর আগে গোটা দেশের নিরাপত্তার ভিত টলিয়ে দিয়েছিল মুম্বই বিস্ফোরণ। বৃহস্পতিবার, সেই কাণ্ডের পাঁচ দোষীর সাজা ঘোষণা করল বিশেষ টাডা আদালত।

করিমউল্লাহ খানকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাকে দু’লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে।

তাহির মার্চেন্ট ওরফে টাকলা তাহিরকে ফাঁসির সাজা শোনানো হয়েছে। ষড়যন্ত্র, অস্ত্র ও বিস্ফোরক কেনার টাকা যোগাড়, হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছে ফিরোজ খানকেও। ষড়যন্ত্র, খুন, অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন, ও টাডা আইনে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ফিরোজ। এছাড়া, রিয়াজ সিদ্দিকিকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। টাডা আইনে দোষী সাব্যস্ত হয় রিয়াজ

আরেক দোষী মুস্তাফা দোসার অবশ্য আগেই মৃত্যু হয়েছে। মুম্বই বিস্ফোরণ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল নাশকতার ভয়াবহ ছবিটা। কালা সাবুন বা আরডিএক্স নিয়ে ততটা অভিজ্ঞ ছিলেন না মুম্বইয়ের পুলিশকর্মীরা। সেদিনের ঘটনা এক ঝটকায় চোখ খুলে গিয়েছিল প্রশাসনের।

First published: 03:38:49 PM Sep 07, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर