আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, একটি অনলাইন বেটিং চক্রের সন্দেহজনক মানি ট্রেলের তদন্ত সূত্র ধরেই ওই বাইকচালকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত পৌঁছন তাঁরা৷
পিটিআই সূত্রের খবর, বিষয়টি দেখেই তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন এটা আসলে একটা ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’৷ বেআইনি চক্রের কারবারিরা এমন সমস্ত ব্যক্তির KYC ভাড়া করে অ্যাকাউন্ট খোলে এবং বড় অঙ্কের বেআইনি টাকা লেনদেন করে থাকে৷ এমন সমস্ত ব্যক্তির নাম পরিচয় এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, যাঁদের কেউ কোনওদিন সন্দেহ করবে না৷
advertisement
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, এরকম থার্ড পার্টি অ্যাকাউন্ট আসলে বড় কোনও টাকার উৎস লুকনোর জন্যই ব্যবহার করে থাকে কারবারিরা৷
দেখা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ অগাস্ট এবং ২০২৫ এর ১৬ এপ্রিলের মধ্যে ওই বাইক চালকের অ্যাকাউন্টে ৩৩১.৩৬ কোটি টাকা জমা পড়েছে৷ ৮ মাসের মধ্যে এতকোটি টাকার লেনদেন দেখেই সন্দেহ হয় গোয়েন্দাদের৷ তখনই ওই বাইক চালকের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত আরও তথ্য খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তাঁরা৷
দেখেন ওই চালক একটা সাধারণ এলাকার আরও সাধারণ একটা দু’কামরার বাড়িতে থাকে৷ কিন্তু ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটা ফাইভ স্টার জায়গায় বিলাসবহুল একটি ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের একাধিক খরচ সেই অ্যাকাউন্ট থেকে করা হয়েছে৷ ওই চালকের অ্যাকাউন্ট থেকে ওই বিয়ের খাবার, রুম সার্ভিস সহ একাধিক বিল পে করা হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টাকা৷
ইডি আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, গুজরাতের এক তরুণ রাজনীতিকের সঙ্গে ওই বিয়ের অনুষ্ঠানের যোগ পাওয়ার গিয়েছে৷ তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে৷
এদিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই অ্যাপ বাইক চালক জানিয়েছেন, এই সমস্ত লেনদেনের কথা তাঁর জানাই ছিল না৷
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, একাধিক উৎস থেকে ওই অ্যাপ বাইক চালকের অ্যাকাউন্টে পর পর টাকা ঢুকেছে, তারপর সেই টাকা বিভিন্ন অজানা সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে, ঠিক যেমনটা কোনও বেটিং চক্রের লেনদেনের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে৷ একটা লেনদেনের সঙ্গে তো 1xBet umbrella বেটিংয়ের সরাসরি যোগ পাওয়ার গিয়েছে৷
ইডি বর্তমানে দেখতে চাইছে, এই অ্যাকাউন্ট আসলে কে পরিচালনা করত৷ ওই অ্যাপ বাইক চালক এই গোটা বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত কি না, এবং এত বিরাট টাকার লেনদেন থাকা সত্ত্বেও ব্যাঙ্ক কেন অ্যালার্ট হল না৷
এই বেটিং চক্রের মামলায় ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান এবং সুরেশ রায়নার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে৷
