আমফান এ রাজ্যে আসুক বা না আসুক ৷ দুই বঙ্গেই আগামী কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টির পূ্র্বাভাস রয়েছে ৷ উত্তরবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে ৷ আগামী ২ ঘণ্টায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে উত্তর বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ৷ সোমবার থেকে রাজ্যে ‘আমফান’-র প্রভাব পড়তে পারে বলে হাওয়া অফিস সূত্রে খবর ৷ মঙ্গলবার থেকে রাজ্যজুড়েই বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে ৷ উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বাড়বে বৃষ্টি ৷ ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা পূর্ব মেদিনীপুরেও ৷ বৃষ্টির সঙ্গে বইবে ঝোড়ো হাওয়া ৷ বুধবার থেকে রাজ্যে বৃষ্টি বাড়বে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর ৷
advertisement
সামগ্রিক ভাবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কেমন হবে বা সেটি বর্ষার উপরে কতটা কী প্রভাব ফেলবে, তা নিশ্চিত ভাবে জানতে না-পারলেও বৈশাখের শেষ লগ্নে গ্রীষ্মের প্রখর চেহারা দেখা যাচ্ছে। বিকেলের দিকে গাঙ্গেয় বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঝড়বৃষ্টি হলেও দিনে রোদের তেজ ভালই মালুম হচ্ছে। তবে আবহবিদদের অনেকে বলছেন, এ বার গ্রীষ্মের তেমন তেজ নেই। মে মাসের মাঝামাঝি এসেও এ-পর্যন্ত তাপপ্রবাহের দেখা মেলেনি। আগামী কয়েক দিনেও তেমন কোনও আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছে না।
আজ, শুক্রবার গভীর নিম্নচাপ রূপে মধ্য ও দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করবে এটি। শনিবার সন্ধ্যায় মধ্য ও দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরেই গভীর নিম্নচাপ পরিণত হবে ঘূর্ণিঝড়ে। শক্তি সঞ্চয় করে এই ঘূর্ণিঝড় উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে রবিবার পর্যন্ত। তারপর এই ঘূর্ণিঝড় অভিমুখ পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হবে।
১৮ ও ১৯ মে অর্থাৎ সোম ও মঙ্গলবার এই ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান হবে উত্তর বঙ্গোপসাগর। উত্তর বঙ্গোপসাগরে শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড় কোন দিকে এগোবে তার প্রতি নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম আমফান দিয়েছে থাইল্যান্ড। সোমবার থেকে এ রাজ্যে আমফানের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করবে । মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি শুরু হবে রাজ্যে। মঙ্গলবার, ১৯ মে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের জেলাগুলিতে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হবে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলের অংশে। সঙ্গে হালকা ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা। এই বৃষ্টির পরিমাণ ও ব্যাপকতা বাড়বে বুধবার। সোমবার থেকে এ রাজ্যে আমফানের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করবে ।
ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ৭০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বুধবারে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু জেলায়। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশার মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সমুদ্র উত্তাল হবে। যারা গভীর সমুদ্রে আছেন, মূলত উত্তর বঙ্গোপসাগরের দিকে সেই মৎস্যজীবীদের সোমবার সকালের মধ্যেই ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
