ওবামার জমানার পথ ধরেই নয়া যুগের দিকে এগোচ্ছে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক

Jun 27, 2017 05:00 PM IST | Updated on: Jun 27, 2017 05:00 PM IST

#ওয়াশিংটন: ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নরেন্দ্র মোদি। হোয়াইট হাউসে এই দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকের দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা বিশ্ব। কি হল বৈঠকে, কোন কোন ইস্যুতে আলোচনা করলেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান? আগামী দিনের জন্যই বা বার্তা কি বার্তা থাকল?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে প্রথমবার হোয়াইট হাউসে কোনও রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অতিথির নাম নরেন্দ্র মোদি। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার বাইরে একাধিক ইস্যুতে নতুন সম্পর্কের ইঙ্গিত মিলল। স্পষ্ট হল, ওবামার জমানার পথ ধরেই নয়া যুগের দিকে এগোচ্ছে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক।

ওবামার জমানার পথ ধরেই নয়া যুগের দিকে এগোচ্ছে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক

সন্ত্রাস। ভারত হোক বা আমেরিকা - দুই দেশই বারবার সন্ত্রাসে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। গত কয়েক বছরে সন্ত্রাসের চেহারা আমূল বদলে গিয়েছে। তৈরি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পুরোদস্তুর যুদ্ধ চলছে। আইএসের মতো সংগঠনের মোকাবিলায় একযোগে কাজ করার প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছে বারবার। সন্ত্রাসদমনে একযোগে কাজ করার বিষয়টি তাই প্রাধান্য পেয়েছে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনায়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন,‘উই দ্য পিপল। আমি ও নরেন্দ্র মোদি - দুজনই এই কথার অর্থ খুব ভালোভাবে জানি। আমরা সন্ত্রাসের রূপ চিনি। সন্ত্রাস দমনে দুই দেশই বদ্ধপরিকর। আমরা সেই পথেই হাঁটব। ভারত-আমেরিকা একযোগে সেই পথে হাঁটবে ৷’

ভারত-আমেরিকা দুই দেশই সন্ত্রাসের শিকার। যৌথ বিবৃতিতেই রয়েছে সেই ঘোষণা। সন্ত্রাস মোকাবিলায় তথ্য বিনিময় থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের পথে হাঁটবে দুই দেশ। যা সন্ত্রাস মোকাবিলায় দুই দেশের দায়বদ্ধতার পরিচয় বলেই মনে করা হচ্ছে। শুধু সন্ত্রাস নয়, আর্থিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত দুই দেশের

ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বছরে ১১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে দুগুণ করার প্রস্তাব

আমেরিকায় ভারতীয় সংস্থাগুলোর মোট লগ্নি এক হাজার ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে

ভারতে ব্যবসা করা মার্কিন সংস্থাগুলোর সংখ্যা গত ৫ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে

যৌথ বিবৃতিতে সরাসরি পাকিস্তানের নাম করে সন্ত্রাসের অভিযোগ আনা হয়নি। তবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনও দেশই যাতে নিজেদের জমি সন্ত্রাসে মদত দিতে ব্যবহার না করে, তা নিশ্চিত করা হবে। এই বার্তাই পাকিস্তানের কাছে যথেষ্ট ইঙ্গিতবাহী। সন্ত্রাসে মদতের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান কি, এতেই তা স্পষ্ট হয়েছে

শুধু দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা কূটনীতি নয়, সম্পর্কের উষ্ণতাতেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে অন্য বার্তা মিলেছে মোদি- ট্রাম্প বৈঠকে। ট্রাম্প কন্যাকে ভারতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়াকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান নরেন্দ্র মোদি। সূত্রের খবর, সেই আমন্ত্রণ নিয়ে খুব তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেবে মার্কিন প্রশাসন।

সামাজিক, আর্থিক ও প্রতিরক্ষা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও একযোগে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত-আমেরিকা। তৈরি হচ্ছে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ। ওবামা জমানায় যে ভাবে দ্বি্পাক্ষক সম্পর্কে আমূল বদল এনেছিল দুই দেশ, তা বজায় থাকবে বলেই একমত হয়েছেন মোদি ও ট্রাম্প।

মোদি - ট্রাম্প বৈঠক থেকে দুই - দেশই উপকৃত হবে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তন আসবে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে। সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েই শেষ হয়েছে বৈঠক। উই দ্য পিপল -- এই বিখ্যাত আপ্তবাক্যের মূল সূরই যেন শোনা গেল দুই রাষ্ট্রপ্রধানের গলায়।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES