বেনারসে বড় হওয়া, বেনারসেই তাই শেষকৃত্য, এটাই চেয়েছিলেন গিরিজা দেবী

Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Oct 25, 2017 09:13 AM IST
বেনারসে বড় হওয়া, বেনারসেই তাই শেষকৃত্য, এটাই চেয়েছিলেন গিরিজা দেবী
Girija-Devi-GettyImages
Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Oct 25, 2017 09:13 AM IST

#কলকাতা: এক ঝটকায় থেমে গেল গোটা একটা যুগ ৷ থেমে গেল তাল, সুর, ঠুমরি ৷ পতন ঘটল ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বেনারস ঘরানার উজ্জ্বল তারকার ৷ শহরের হৃদস্পদন আটকে প্রয়াত প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী গিরিজা দেবী ৷

পিস হাভেনে রাখা হয়েছে শিল্পীর মরদেহ ৷ ১১টা নাগাদ নিয়ে যাওয়া হবে সংগীত রিসার্চ অ্যাকাডেমিতে৷ সেখানেই শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন তাঁর অনুরাগীরা ৷ বিকেল ৫টায় ফের পিস হাভেনে নিয়ে আসা হবে শিল্পীর মরদেহ ৷ বৃহস্পতিবার ভোরে ভোরের বিমানে বেনারসে রওনা ৷ গিরিজা দেবীর শেষকৃত্য হবে বেনারসে ৷ পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ ঠুমরীর সম্রাজ্ঞী বলা হত প্রয়াত শিল্পীকে

হৃদরোগে প্রয়াত প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীত শিল্পী গিরিজা দেবী। বেনারস ঘরানার এই শিল্পী আজ সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ কলকাতার বিএমবিড়লা হার্ট রিসার্চ সেন্টারে ভর্তি হন বুকে ব্যথা নিয়ে। রাত আটটা চল্লিশ মিনিট নাগাদ তাঁর জীবনাবসান হয়েছে।

গিরিজা উমার বিসর্জনের একমাসও হয়নি। চলে গেলেন গিরিজা দেবী। ঠুমরি সম্রাজ্ঞীর হৃদস্পন্দন থেমে গেল মঙ্গলবার রাত পৌনে নটা নাগাদ। বি এম বিড়লা হাসপাতালে। খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন সবাই। পরিবার জানিয়ে দিল, প্রবাদপ্রতীম শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পীর শেষ ইচ্ছা ছিল তাঁর সাধের বেনারসেই হোক তাঁর শেষকৃত্য।

১৯২৯ এর আটই মে বেনারসে জন্মেছিলেন। বেনারসের ধুলোয় বড় হওয়া, গঙ্গায় সাঁতার কাটা, ঘোড়ায় চড়া চঞ্চলমতি ছোট্ট গিরিজা বাবা অন্ত প্রাণ। চার বছর বয়সে বাবা রামদেও রাই ই বসিয়ে দিয়েছিলেন পন্ডিত সূর্যপ্রসাদ মিশ্রর সামনে। তারপর ইতিহাস। পরে সরজুপ্রসাদ মিশ্র এবং তারও পরে চাঁদ মিশ্রের কাছে তালিম নিয়েছিলেন। গিরিজা দেবী হয়ে উঠলেন বেনারস ঘরানার কিংবদন্তি শিল্পী। ঠুমরির সম্রাজ্ঞী। আটষট্টি বছরের সঙ্গীত জীবনে গেয়েছেন অসংখ্য খেয়াল-টপ্পা। গেয়েছেন কাজরী, চৈতি, হোলি। পেয়েছেন পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ সম্মাননা, সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার। পৃথিবীর সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে দিয়েছে সাম্মানিক ডিলিট উপাধি। যাঁরা মঞ্চে তাঁর সৃষ্টি শোনার সুযোগ পেয়েছেন, তাঁরা জানেন গিরিজা দেবী শুরু করতেন রাগ যোগকোষে বিলম্বিত বন্দিশে "এ ঝাঁঝরিয়া বানাকে এ মায়ি ক্যায়সি কর আও তেরে পাস" দিয়ে। তারপরেই দ্রুত বন্দিশে ধরতেন "বহুত দিন বিতি আজহুনা আয়ে মোরি শাম।" এরপর মিশ্র তিলোকামোদ.. এবং একের পর এক শুধু ভেসে যাওয়া। এরই মাঝে কখনও হয়তো স্বরচিত দাদরা "পুরব দেশসে আয়ে গোরিয়া যাদুয়া ডর গ্যয়ি রে.."

১৯৪৬ সালে ব্যবসায়ী মধুসূদন জৈনের সঙ্গে বিয়ে। তাঁর প্রেরণায় আরও এগিয়ে চলেন গিরিজা দেবী। গিরিজা দেবীর সঙ্গীত সাধনায় ছেদ পড়েছিল একবারই। ১৯৭৫ সালে মধুসূদন জৈনের মৃত্যুর পর ছ মাস সঙ্গীত সাধনা থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন গিরিজা দেবী। আমৃত্যু সঙ্গীতের সাধনাই করে গিয়েছেন। তাই তাঁর চলে যাওয়ার পর রয়ে গেল অপার শূন্যতা।

First published: 09:13:01 AM Oct 25, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर