সুকমায় মাও হামলার তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

Apr 26, 2017 01:17 PM IST | Updated on: Apr 26, 2017 01:17 PM IST

#সুকমা: সুকমায় মাওবাদী হামলা নিয়ে কোনও আগাম গোয়েন্দা সতর্কতা ছিল না ছত্তিশগড় প্রশাসনের কাছে। উলটে জওয়ানদের বক্তব্য, গ্রামবাসীদের মারফত মাওবাদীরা জওয়ানদের অবস্থান জানতে পারে। সুকমা হামলার মাস্টারমাইন্ড হিড়মা ও অর্জুনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ৮ মে মাওবাদী প্রভাবিত রাজ্যেগুলির সঙ্গে বৈঠক করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।

সুকমার জঙ্গলের ভিতর সোমবার প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে মাওবাদী ও আধা সামরিক বাহিনীর গুলির লড়াই। শুরু থেকেই জওয়ানের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল মাওবাদীরা। কাজে লাগানো হয়েছিল গ্রামবাসীদের। আচমকাই কয়েকশো মাওবাদী ঘিরে ধরে জওয়ানদের। শুরু হয় গুলি-বন্দুকের ধুন্ধুমার লড়াই।

সুকমায় মাও হামলার তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

Picture For Representation

গ্রামবাসীদের দেখতে পাঠিয়েছিল মাওবাদীরা বলে সন্দেহ জওয়ানদের ৷ হামলার সময় দুপুরের খাওয়ার খাচ্ছিলেন জওয়ানরা। প্রস্তুত ছিলেন না। তাই কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিহত হন অনেকে। প্রত্যেকেই সিআরপিএফ-এর ৭৪ নম্বর ব‍্যাটালিয়নের জওয়ান। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে প্রত‍্যাঘাত করেন সিআরপিএফ জওয়ানরাও।

সুকমা হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ইতিমধ্যেই হিড়মা ও অর্জুন নামের দুই মাওবাদী নেতাকে চিহ্নিত করেছেন গোয়েন্দারা। দক্ষিণ বস্তারের নেতা হিড়মার নেতৃত্বেই সোমবার হামলা হয়। মঙ্গলবার সুকমায় নিহত জওয়ানদের শেষশ্রদ্ধা জানান রাজনাথ সিং। আহত জওয়ানদের দেখতে হাসপাতালেও যান তিনি।

ছত্তিশগড়ের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে মাওবাদী দমন কৌশলে বদল আনতে চায় কেন্দ্র।

কৌশল বদলের ইঙ্গিত

- ৮ মে মাওবাদী প্রভাবিত রাজ্যগুলিকে নিয়ে বৈঠক

- বৈঠকে থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

- মাওবাদী সমস্যা মোকাবিলায় কীভাবে তা নিয়ে আলোচনা হবে

ছত্তিশগড় হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাজনাথ সিং বলেন, ‘জওয়ানদের বলিদান ব্যর্থ যাবে না ৷ মাওবাদী হামলা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি ৷ গ্রামবাসীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে মাওবাদীরা ৷ ঠান্ডা মাথায় খুন করেছে মাওবাদীরা ৷ ওদের ঠেকাতে আমাদেরও কৌশল বদলাতে হবে ৷ উন্নয়ন স্তব্ধ করতে চায় মাওবাদীরা ৷’

দু'মাসের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ছত্তিশগড়ে হামলা চালালো মাওবাদীরা। দু'বারই প্রচুর অস্ত্র লুঠ করে নিয়ে পালায় মাওবাদীরা।

গত দশ বছরে বিভিন্ন ঘটনায় গোটা দেশে মাওবাদীদের হাতে খুনের সংখ্যাটা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। কখনও খুন হয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা। কখনও মাওবাদীদের নিশানায় সাধারণ মানুষ। বেশ কয়েকটি রাজ্যে মাওবাদীদের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। সব থেকে বেশি প্রভাব রয়েছে ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ওড়িশা, অন্ধপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে। এক নজরে লাল সন্ত্রাসের সালতামামি।

১২ মার্চ, ২০১৭

ছত্তিশগড়ের সুকমায় ১২ সিআরপিএফ জওয়ান খুন

১১ মার্চ, ২০১৪

ছত্তিশগড়ের সুকমায় ১৫ নিরাপত্তারক্ষী খুন

২৫ মে, ২০১৩

ছত্তিশগড়ে কংগ্রেসের মিছিলে মাওবাদী হামলায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি-সহ ২৫ জন খুন ৷ নিহত হন কংগ্রেস নেতা মহেন্দ্র কর্মা

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১০

পশ্চিম মেদিনীপুরে শিলদা ইএফআর ক্যাম্পে মাওবাদী হামলা ৷ নিহত ২৪ জওয়ান

৬ এপ্রিল, ২০১০

ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়ায় ৭৫ সিআরপিএফ জওয়ান খুন, নিহত ১ পুলিশ আধিকারিকও

২৯ জুলাই, ২০১০

ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুরে ২৬ সিআরপিএফ জওয়ান খুন

২২মে, ২০০৯

মহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলিতে ১৬ পুলিশ কর্মী খুন

৮ অক্টোবর, ২০০৯

মহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলিতে থানায় হামলা, ১৭ পুলিশকর্মীর মৃত্যু ও জখম আরও অনেকে

২৯ জুন, ২০০৮

ওড়িশায় ৩৮ জওয়ান খুন

১৬ জুলাই ২০০৮

- ওড়িশার মালকানগিরিতে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ

- বিস্ফোরণে পুলিশের গাড়ি উড়িয়ে দেওয়া হয়

- ২১ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়

১৫ মার্চ, ২০০৭

ছত্তিশগড়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা

- ৫৫ জন খুন হন

- ২৪ জন রাজ্য পুলিশরে ও বাকি ৩১ জন স্পেশাল ফোর্সের

২৭ অক্টোবর, ২০০৭

- ঝাড়খণ্ডের গিরিডিতে মাওবাদী হামলা

- প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে অনুপ বাবুলাল-সহ ১৭ জন খুন

গোটা দেশে মাওবাদী হামলায় নিহতের সংখ্যা তিন হাজার ৷ কখনও টার্গেট নিরাপত্তারক্ষীরা, কখনও আম জনতা ৷

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES