চাকরি করেন স্বামী, বেতন পান স্ত্রী!

Mar 05, 2017 04:29 PM IST | Updated on: Mar 05, 2017 04:29 PM IST

#বাঁকুড়া: এ যেন উলটপুরাণ ৷ চাকরি করা সত্ত্বেও পকেটে নেই কোনও টাকা ৷ তাদের বেতনের টাকা পান তাদের স্ত্রী ৷  না না,  কোনও জোর জুলুম নয় বা এহল অত্যাচার বন্ধের দাওয়াই ৷  মাসের শুরুতে স্ত্রীর কাছে  হাত পেতে মাসোহারা নেওয়াটাই হল অপরাধের উচিত শাস্তি ৷

দুজনেই সরকারি চাকুরে। দুজনেই বাঁকুড়ার বাসিন্দা। আরও একটা জায়গায় মিল দুজনের । দুই সরকারি চাকুরিজীবীদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তাঁরা সংসারে টাকা দেন না। দীর্ঘদিন স্বামীদের এমন ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে দুই স্ত্রী দ্বারস্থ হন মহকুমা শাসকের। সব শুনে বাঁকুড়ার সদর মহকুমাশাসকের নিদান, মাসপয়লার বেতনের একাংশ যাবে দুই স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে।

চাকরি করেন স্বামী, বেতন পান স্ত্রী!

বাঁকুড়া সদর থানার জুনবেদিয়া এলাকার বাসিন্দা দিপালী সিংহবাবু । দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক অশান্তিতে ভুগে জেরবার। দিপালীর অভিযোগ, দুই সন্তানের দেখভাল থেকে পরিবারের খুঁটিনাটি সবেতেই তাঁর শিক্ষক স্বামীর প্রবল অনিহা। টাকা চাইলেই নাকি মারধর করতেন সরোজকান্তি সিংহ। আর পেরে না উঠে বাধ্য হয়েই বাঁকুড়া সদর মহকুমা শাসকের কাছে গিয়ে নিজের সমস্যার কথা জানান তিনি।

বাঁকুড়া সদর থানার কানটাকাটার বাসিন্দা পদ্মা পালের সমস্যাও এক-ই। স্বামী কংসাবতী সেচ দফতরের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী। কিন্তু স্ত্রী-সংসারের দিকে নজর দেওয়া তো দূর, টাকা পয়সা সব নিজের কাছেই রাখতেন সরকারি চাকুরে পার্থসারথি পাল।

সব কিছু দেখে-শুনে বাঁকুড়া সদর মহকুমাশাসক অসীমকুমার বালার নিদান, স্বামীদের মাস মাইনের অংশ যাবে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে। যেই কথা সেই কাজ, শিক্ষকের অ্যাকাউন্টের ষাট শতাংশ টাকা এখন দিপালীদেবীর অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে।

স্ত্রীর আনা অভিযোগ একেবারেই মানতে চাননি শিক্ষক স্বামী সরোজকান্তি সিংহ। মহকুমাশাসকের এই বিচারে স্বস্তি ফিরেছে দিপালী ও পদ্মার জীবনে। কিন্তু মহকুমাশাসকের এই নিদানে প্রশাসনিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। তবে মহকুমাশাসক অসীমবাবুর দাবি, এক্তিয়ারের মধ্যে থেকেই তিনি এই কাজ করেছেন।

RECOMMENDED STORIES