আকাঙ্খা সংক্রান্ত জেরা এড়িয়ে যাচ্ছে উদয়ন !

Siddhartha Sarkar | News18 Bangla
Updated:Feb 08, 2017 09:39 AM IST
আকাঙ্খা সংক্রান্ত জেরা এড়িয়ে যাচ্ছে উদয়ন !
Photo : AFP
Siddhartha Sarkar | News18 Bangla
Updated:Feb 08, 2017 09:39 AM IST

#বাঁকুড়া: আকাঙ্খা খুন কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত উদয়ন দাস পুলিশের জেরাতেও নির্বিকার ৷ আকাঙ্খা সংক্রান্ত সমস্ত জেরা এড়িয়ে যাচ্ছে উদয়ন ৷ তদন্তকারীদের বারবার বিভ্রান্ত করারও চেষ্টা করছে সে ৷ এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ ৷ মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় উদয়নকে ৷ ২৩ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত কোথায় ছিলেন আকাঙ্খা ? তা এখনও পর্যন্ত পুলিশকে জানায়নি উদয়ন ৷ পুলিশ হেফাজতে মঙ্গলবার রাতে ভাত-ডাল-সয়াবিনের তরকারি সঙ্গে ডিম সেদ্ধও দেওয়া হয় উদয়নকে ৷ আজ সকালে চা-টোস্ট-বিস্কুট খেয়ে দিব্যি রয়েছে সে ৷ বেশিরভাগ কথাই নাকি হিন্দিতে বলছে উদয়ন ৷

তদন্তকারীদের হাতে সময়ও বেশ কম ৷ হাতে সময় মাত্র আট দিন। তারমধ্যেই যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ যোগাড় করতে হবে। তাই কোন পথে তদন্ত এগোবে, তা ঠিক করতে বৈঠক করেন বাঁকুড়া পুলিশ সুপার। মঙ্গলবারই উদয়নের মোবাইলের সূত্রে তার ১২ জন গার্লফ্রেন্ডের হদিশ মিলেছে। মহিলা আসক্তিতে ভরপুর উদয়নের হাতে আকাঙ্খা খুনের তদন্তে তাই ফের ভোপাল যেতে পারে বাঁকুড়া পুলিশ।

সাধারণ আইনে কোনও অভিযুক্তকে সর্বাধিক ১৪দিনের বেশি পুলিশ হেফাজতে রাখা যায় না। ট্রানজিট রিমান্ডে ৬ দিন কেটে যাওয়ায় মাত্র ৮ দিন হাতে রয়েছে বাঁকুড়া পুলিশের। এই আট দিনে আকাঙ্খা খুনের মোটিভ জানাটাই চ্যালেঞ্জ তদন্তকারীদের কাছে। উদয়নের দাবি, সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতির কারণেই আকাঙ্খাকে খুন করে সে। কিন্তু তার এই যুক্তি মানতে নারাজ পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, বিভ্রান্তি ছড়াতেই একথা বলছে উদয়ন। আকাঙ্খা খুনের পিছনে কোনও আর্থিক কারণ রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

টাকার লোভেই কি খুন আকাঙ্খা ?

- ২০১৬-র জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা তোলে উদয়ন

- আকাঙ্খার অ্যাকাউন্টে ১৮ লাখ টাকা ছিল

- সেবিষয়ে ওয়াকিবহল ছিল উদয়ন

- আকাঙ্খার অ্যাকাউন্টের টাকা হাতাতেই খুন কিনা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা

- খতিয়ে দেখা হচ্ছে ব্যাঙ্কের নথি

- তদন্তের প্রয়োজনে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে ফের ভোপাল যেতে পারে বাঁকুড়া পুলিশ

- খতিয়ে দেখা হচ্ছে আকাঙ্খা ও উদয়নের পাসপোর্টও

অন্যদিকে, সিরিয়াল কিলার উদয়নের একাধিক মহিলাসঙ্গ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। উদয়নের মোট ১২ জন গার্লফ্রেন্ডের হদিশ পেয়েছে ভোপাল পুলিশ। যারমধ্যে রিনা ও পূজা নামে দুই তরুণীকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। ভোপালে উদয়নের বাড়িতে এদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলেও জানা গিয়েছে। তালিকার বাকি ১০ জনের খোঁজে চলছে তল্লাশি ৷

পুলিশের ধারণা, মা-বাবা এবং আকাঙ্খা ছাড়াও উদয়নের সিরিয়াল কিলিংয়ের তালিকায় আরও অনেক নাম থাকতে পারে। সিরিয়াল কিলিং রহস্যের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছতেই উদয়নের গার্লফ্রেন্ডদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারীরা।

এদিকে উদয়ন দাসের কঠোরতম শাস্তি চাইলেন তার কাকা ৷ হাওড়ার সালকিয়ায় উদয়ন দাসের কাকা রবিন দাসের আসবাবপত্রের দোকান আছে  ৷ তিনি জানান, ‘‘ চার বছর বয়সে উদয়ন একবার এসেছিল এখানে ৷ তারপর থেকে উদয়নের সঙ্গে যোগাযোগ নেই ৷ ২০০৯ সালে যোগাযোগের চেষ্টা করি ৷ ছেলের বিয়ের সময় যোগাযোগের চেষ্টা করি ৷ ওরা ফোন কেটে দেন ৷দাদা-বৌদির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না ৷ দাদা-বৌদির মৃত্যুতে শোকাহত ৷ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কঠোর শাস্তি চাই ৷ ’’

First published: 09:28:38 AM Feb 08, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर