কন্যাসন্তান হওয়ার ‘শাস্তি’, স্ত্রী-কন্যাকে বাড়ি আনতে নারাজ স্বামী

May 15, 2017 07:40 PM IST | Updated on: May 15, 2017 07:40 PM IST

#তমলুক: কন্যাসন্তান হওয়ায় শাস্তি। স্ত্রী কন্যাকে নার্সিংহোমে ফেলেই পালাল কীর্তিমান। পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের ঘটনা। টাকা মেটাতে না পারায় নার্সিংহোমেই বন্দি দশায় দিন কাটছে মহিলার। ভগবানপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে মহিলার পরিবার।

দেড় বছর আগে সাহানা বিবির সঙ্গে বিয়ে হয় ভগবানপুরের হিংচাগেরিয়ার বাসিন্দা ইমরান আলির। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য সাহানার পরিবারের ওপর চাপ দিতে থাকে ইমরান ও তার পরিবার। এর মাঝেই অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়ে সাহানা। তার পরও পণ নিয়ে অশান্তি লেগেই থাকত। ৬ মে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে তমলুকের একটি নার্সিংহোমে ভরতি হন সাহানা। ৭ মে কণ্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। ফোনে সেই খবর দেওয়ার পর, সদ্যোজাত এবং স্ত্রীর দায়িত্ব নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় ইমরান।

কন্যাসন্তান হওয়ার ‘শাস্তি’, স্ত্রী-কন্যাকে বাড়ি আনতে নারাজ স্বামী

মেয়ে হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই বেপাত্তা ইমরান। ফোন বন্ধ। ১১ তারিখ রিলিজ পাওয়ার পরও টাকা না মেটানোয় নার্সিংহোমেই কার্যত বন্দি দশায় দিন কাটছে সাহানার।

ইমরানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সাহানার দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন তারাও। ছেলে কোথায়, সেই সংক্রান্ত কোনও তথ্যও দিতে পারেননি তারা। বাধ্য হয়ে ভগবানপুর থানায় জামাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন সাহানার বাবা। ঘটনায় ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন এলাকার মানুষও।

কেন্দ্রের বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও থেকে রাজ্যের কণ্যাশ্রী। কন্যা সন্তানদের জন্য চালু হয়েছে একাধিক প্রকল্প। কিন্তু সত্যিই কি তার কোনও প্রভাব পড়ছে সমাজে? ভগবানপুরের ঘটনা ফের তুলে দিল সেই প্রশ্ন।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES