কলিযুগের বাল্মিকীর খোঁজ মিলল কুলতলিতে !

Jul 09, 2017 09:49 AM IST | Updated on: Jul 09, 2017 09:49 AM IST

#কুলতলি:  এ যেন দস্যু রত্নাকরের বাল্মিকী হয়ে ওঠার গল্প। যাঁর নামে এক সময়ে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত। তাঁর টিকিও ছুঁতে ভয় পেত পুলিশ। ভয়ঙ্কর সেই গোকুল ডাকাত-ই এখন গোকুল মহারাজ। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কুলতলির মেরিগঞ্জের যে ডোঙ্গাজোড়া এক সময়ে তাঁর ভয়ে থরথর করে কাঁপত, আজ সেখানেই গোকুল মহারাজের আশ্রমে শিশুদের ভিড়। পুজোআচ্ছা, ভিক্ষা করেই দিন কাটছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার দস্যু রত্নাকরের।

গোকুল মহারাজ। এক ডাকে তাঁকে চেনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কুলতলির ডোঙ্গাজোড়া। তাঁর শ্রী শ্রী ঠাকুর সত্যানন্দ কৃষ্ণকলি সেবাশ্রমে পড়ে এলাকার দুঃস্থ শিশুরা। স্থানীয়দের সাহায্য আর ভিক্ষা করে আশ্রম চালান মহারাজ। বয়সের ভারে শরীর ভেঙেছে। শিশুদের নিয়েই এখন সময় কাটে একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ গোকুল ডাকাতের।

কলিযুগের বাল্মিকীর খোঁজ মিলল কুলতলিতে !

সালটা ১৯৭৭ । পিয়ালি ও মাতলা নদী দিয়ে ঘেরা ডোঙ্গাজোড়া। এলাকায় গাড়ি ঢুকত না। বারো-চোদ্দজন সঙ্গী নিয়ে এই এলাকাই দাপিয়ে বেড়াত গোকুল ডাকাত। সঙ্গী দুটি বোমার ব্যাগ। পাঁচটি দোনলা বন্দুক। জয়নগরের ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয় এক সঙ্গীর। পায়ে গুলি লেগে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন গোকুল। সকলের সামনে কোমরে দড়ি পরিয়ে টানতে টানতে পুলিশ যখন নিয়ে যাচ্ছিল, তখনই প্রথম ডাকাতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন গোকুল।  কিন্ত তাঁকে বিশ্বাস করেনি পুলিশ।

অপরাধ না করেও বিনা কারণে জেল খাটতে হত। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে জামিন পেয়েও দু বছর কুলতলি থানা চত্বরে কাটান গোকুল ডাকাত। ধীরে হলেও আস্থা জন্মায় পুলিশের। মেরিগঞ্জে পিয়ালি নদীর ধারে দুটি পুকুর চাষের জন্য দেওয়া হয় তাঁকে। নিজের উদ্যোগে তৈরি করেন শ্রী শ্রী ঠাকুর সত্যানন্দ কৃষ্ণকলি সেবাশ্রম। ডাকাত থেকে মহারাজ হওয়ার পিছনে স্ত্রীর অবদান কখনই অস্বীকার করেননি গোকুল।

গ্রামের মানুষ আর তাঁকে ডাকাত বলে না। ভালবাসে। শ্রদ্ধা করে। সময়ের সঙ্গে শরীর ভেঙেছে। এসেছে ক্লান্তি। আজ আর সেভাবে খরচ যোগাতে পারেন না। কমেছে শিশুর সংখ্যাও। পুজোপাঠ আর ভিক্ষা করেই এখন দিন কাটছে কুলতলির ডাকাত মহারাজের।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES