মা ও ছেলে পাশ , তবে উচ্চমাধ্যমিকে ফেল করলেন বাবা !

May 30, 2017 05:44 PM IST | Updated on: May 30, 2017 06:35 PM IST

#নদিয়া:  মা ও ছেলে পাশ করলেও পাশ করতে পারল না বাবা। এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় নদিয়ার আড়ংঘাটা হাজরাপুর হাইস্কুলে পাটিকাবাড়ির মন্ডল পরিবার। মাধ্যমিকে একসঙ্গে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করতে পারলেও উচ্চ মাধ্যমিকে একটি বিষয়ে ফেল করায় তার কলেজে পড়বার সুযোগ হাতছাড়া হল। অন্যদিকে স্ত্রী কল্যানী মন্ডল ২২৮ পেয়ে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ ও পুত্র বিপ্লব মন্ডল ২৫১ নং পেয়ে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়। স্বপ্ন ছিল তিনজন একসঙ্গে কলেজ যাওয়ার কিন্তু মাঝপথে পরীক্ষার এই ফল বাধ সাধল ৷ বলরামের কথায়, ‘প্রয়োজনে আগামী বছর আবার পরীক্ষা দেব।’

ছোটোবেলায় বাবা মা মারা যাবার পর তার আর পড়াশোনা করবার সুযোগ হয়নি। ছেলে যখন ক্লাস এইটে পড়ছে তখন বলরাম ও তার স্ত্রী কল্যাণী মন্ডলের পড়াশোনার ইচ্ছে জাগে। এরপর আড়ংঘাটা হাজরাপুর স্কুলে বিশেষ অনুমোদনে স্কুলে ভর্তি হন। তারপর তিনজন একসাথে স্কুলে যেতেন নিয়ম করে। কল্যানী মন্ডল সংসার সামলে পড়াশোনা করে মাধ্যমিকে ২০১৪ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন। একই সাথে পাশ করে বলরাম ও তার ছেলে বিপ্লব। তবে উচ্চমাধ্যমিকে আর পাশ করা হল না ৷ বউ ও সন্তান পাশ করলেও, নিজের পাশ করা হল না ৷

মা ও ছেলে পাশ , তবে উচ্চমাধ্যমিকে ফেল করলেন বাবা !

খুব ছোট বয়সে বাবা-মা মারা যাওয়ায় পড়াশোনা বন্ধ রেখে রোজগারের পথ বেছে নেন বলরাম ৷ নবম শ্রেণী পর্যন্তই পড়া হয়েছিল তাঁর ৷ বিয়ের পর ছেলে হওয়ার পর সংসারের প্রতি দায়িত্ব আরও বেড়ে যায় ৷ তাই ইচ্ছা থাকলেও আর লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলরামের ৷ একই অবস্থা স্ত্রী কল্যানী মণ্ডলের ক্ষেত্রেও ঘটে ৷ খুব ছোটবেলায় বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তাঁর পক্ষেও আর লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি ৷ এরপর ২০১৪ সালে উষাগ্রাম শিক্ষা নিকেতন থেকে ৩৭৭ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক পাশ করেন বলরাম ৷ স্বামীর ইচ্ছা শক্তির উপর ভর করে স্ত্রী কল্যাণীদেবীরও ইচ্ছা হয় লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার ৷ ২০১৫-তে তিনিও পাশ করেন মাধ্যমিক ৷ সে বছরই মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয় বলরামবাবুর ছেলেও ৷ মাধ্যমিক পাশ করার পর মা-বাবা ও ছেলে তিনজনেই ভর্তি হন হাজরাপুর হাইস্কুলে ৷ ওই স্কুলে এক বছর ধরে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন মণ্ডল পরিবার ৷

স্ত্রী কল্যাণী মণ্ডল বাড়িতে ছাগল পুষে গরুর দুধ দুইয়ে সংসার সামলান পাশাপাশি পৈর্তৃক ১ কাঠা জমিতে ফসল ফলিয়ে এবং পরের জমিতে কাজ করেন মণ্ডল দম্পতি ৷ বাবা-মা ও ছেলে দৈনন্দিন আট ঘণ্টা পড়াশোনা করেন ৷ বাবা-মায়ের সঙ্গে স্কুলে যেতেও তার ভাল লাগে বলে জানিয়েছে ছেলে বিপ্লব মণ্ডল ৷ ছেলের জন্য গৃহশিক্ষক রাখা হলেও বলরাম এবং কল্যাণীদেবী নিজেদের জন্য কোনও গৃহশিক্ষক রাখেননি ৷ ছেলে নিজে পড়ে বাবা-মা-কে পড়ায় ৷ স্কুলের শিক্ষকরাও লেখাপড়ায় যথেষ্ট সাহায্য করেন মণ্ডল পরিবারকে ৷ বয়স বেশি বলে স্কুলে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রেও প্রথমে সমস্যা হয়েছিল মণ্ডল দম্পতির ৷ তখন কাউন্সিলের সঙ্গে কথা বলে বলরামবাবুদের স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ করে দেন শিক্ষকরা ৷

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES