অভিযুক্তের পাল্টা অভিযোগ, খুনের দায়ে ধৃত শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীকে গ্রেফতার পুলিশের

May 18, 2017 07:06 PM IST | Updated on: May 18, 2017 07:06 PM IST

#লিলুয়া: প্রথমে খুনের অভিযোগে শারীরিক ও মানসিক এক প্রতিবন্ধীকে আদালতে পেশ। এক ঘণ্টার মধ্যেই ভুল স্বীকার করে ফের আসামীকে থানায় ফিরিয়ে আনা। প্রশ্নের মুখে লিলুয়া থানার পুলিশের ভূমিকা। মঙ্গলবার লিলুয়ায় ভাই রবির বিরুদ্ধে দাদা সোনা বিশ্বাসকে খুনের অভিযোগ ওঠে। নাম জড়ায় স্থানীয় কাউন্সিলরের শাগরেদদেরও। অভিযুক্ত রবি পালটা খুনের অভিযোগ আনে মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী আরেক ভাই ষষ্ঠীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় কাউন্সিলরকে নিয়ে লিলুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করে রবি। এরপরই অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ।

অভিযুক্তের পাল্টা অভিযোগ, খুনের দায়ে ধৃত শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীকে গ্রেফতার পুলিশের

একেই বলে ইউ-টার্ন । খুনের অভিযোগে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীকে গ্রেফতার করে কোর্টে পাঠানোর এক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ফিরিয়ে আনল পুলিশ। পুরো ঘটনায় প্রশ্নের মুখে লিলুয়া থানার পুলিশের ভূমিকা।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। লিলুয়ার পঞ্চানন তলায় দুই ভাই সোনা ও রবির মধ্যে দীর্ঘদিনের ঝগড়া চরমে পৌঁছয় সেদিন।

স্থানীয়দের অভিযোগ

-- ঝামেলা মেটাতে দুজনকে ডাকা হয় ছেষট্টি নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় তৃণমূল পার্টি অফিসে

-- কাউন্সিলর নারায়ণ মজুমদারের উপস্থিতিতে ঝামেলা মেটানোর চেষ্টা হয়

-- সালিশিতে যোগ দেন কাউন্সিলরের ভাগনে নান্টু মজুমদার ও তার দুই শাগরেদ বুবাই, বাবাই

-- এরপরই কার্যালয়ের সামনে বাঁশ, লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয় সোনা বিশ্বাসকে

-- মারধরের পর গুরুতর আহত সোনাকে বাড়িতে ফেলে আসা হয়

--পরদিন মৃত্যু হয় সোনার

অভিযোগ ওঠে মৃতের ছোট ভাই রবি বিশ্বাস ও কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ শাগরেদদের বিরুদ্ধে। যদিও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। পোস্টমর্টম রিপোর্ট দেখা যায় সোনার চোয়াল ও পাঁজরের হাড় ভাঙা। ফুসফুসেও গভীর আঘাতের চিহ্ন। এরপরই বুধবার রাতে ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নারায়ণ মজুমদারকে সঙ্গে নিয়ে লিলুয়া থানায় গিয়ে ছোট ভাই ষষ্ঠী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সোনাকে মারধরের অভিযোগ করে রবি।

প্রশ্নে পুলিশের ভূমিকা-

-লিখিত অভিযোগের দশ মিনিটের মধ্যে তুলে আনা হয় ষষ্ঠী বিশ্বাসকে

---ঠিক করে হাটতে বা কথা বলতে পারেন না ষষ্ঠী

--সারারাত থানার লকআপে রেখে সকালে হাওড়া কোর্টে পাঠানো হয় ষষ্ঠীকে

---খবর জানাজানি হতেই তৎপর হয় পুলিশ

---এক ঘণ্টার মধ্যে ফের কোর্টে গিয়ে ভুল হয়েছে বলে ষষ্ঠীকে থানায় ফিরিয়ে আনে পুলিশ

যে নিজেই অভিযুক্ত, তার লিখিত অভিয়োগের ভিত্তিতে কিভাবে গ্রেফতার করা হল শারীরিক ও মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়া একজনকে? কেন কোনও খোঁজ নিল না পুলিশ? রাজনৈতিক চাপ? না কী নিছক-ই গাফিলতি? উঠছে প্রশ্ন।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES