ছেলের সঙ্গে এবার উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসছেন বাবা-মাও !

Siddhartha Sarkar | News18 Bangla
Updated:Mar 14, 2017 08:55 PM IST
ছেলের সঙ্গে এবার উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসছেন বাবা-মাও !
Photo : AFP
Siddhartha Sarkar | News18 Bangla
Updated:Mar 14, 2017 08:55 PM IST

#নদিয়া : শিক্ষার যে কোনও বয়স বাধা মানে না, তা হাতে কলমে দেখিয়ে দিলেন নদিয়ার মণ্ডল দম্পতি ৷ হ্যাঁ, ৪২ বছরের বলরাম মণ্ডল এবং তাঁর ৩২ বছরের স্ত্রী কল্যাণী মণ্ডল এবছর ছেলের সঙ্গে বসতে চলেছেন উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৷

সংসার-সংগ্রামের ফাঁকেই তাই নিয়মিত জমিয়ে চলছে পড়াশোনা ৷ বুধবার থেকে শুরু হতে চলা উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় বলরামদের সিট পড়েছে বহিরগাছি হাইস্কুলে ৷ অভাবের তাড়নায় মাঝপথেই লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় বলরামের ৷ খুব ছোট বয়সে বাবা-মা মারা যাওয়ায় পড়াশোনা বন্ধ রেখে রোজগারের পথ বেছে নেন বলরাম ৷ নবম শ্রেণী পর্যন্তই পড়া হয়েছিল তাঁর ৷ বিয়ের পর ছেলে হওয়ার পর সংসারের প্রতি দায়িত্ব আরও বেড়ে যায় ৷ তাই ইচ্ছা থাকলেও আর লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলরামের ৷ একই অবস্থা স্ত্রী কল্যানী মণ্ডলের ক্ষেত্রেও ঘটে ৷ খুব ছোটবেলায় বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তাঁর পক্ষেও আর লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি ৷ এরপর ২০১৪ সালে উষাগ্রাম শিক্ষা নিকেতন থেকে ৩৭৭ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক পাশ করেন বলরাম ৷ স্বামীর ইচ্ছা শক্তির উপর ভর করে স্ত্রী কল্যাণীদেবীরও ইচ্ছা হয় লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার ৷ ২০১৫-তে তিনিও পাশ করেন মাধ্যমিক ৷ সে বছরই মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয় বলরামবাবুর ছেলেও ৷ মাধ্যমিক পাশ করার পর মা-বাবা ও ছেলে তিনজনেই ভর্তি হন হাজরাপুর হাইস্কুলে ৷ ওই স্কুলে এক বছর ধরে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন মণ্ডল পরিবার ৷

স্ত্রী কল্যাণী মণ্ডল বাড়িতে ছাগল পুষে গরুর দুধ দুইয়ে সংসার সামলান পাশাপাশি পৈর্তৃক ১ কাঠা জমিতে ফসল ফলিয়ে এবং পরের জমিতে কাজ করেন মণ্ডল দম্পতি ৷ বাবা-মা ও ছেলে দৈনন্দিন আট ঘণ্টা পড়াশোনা করেন ৷  বাবা-মায়ের সঙ্গে স্কুলে যেতেও তার ভাল লাগে বলে জানিয়েছে ছেলে বিপ্লব মণ্ডল ৷ ছেলের জন্য গৃহশিক্ষক রাখা হলেও বলরাম এবং কল্যাণীদেবী নিজেদের জন্য কোনও গৃহশিক্ষক রাখেননি ৷ ছেলে নিজে পড়ে বাবা-মা-কে পড়ায় ৷ স্কুলের শিক্ষকরাও লেখাপড়ায় যথেষ্ট সাহায্য করেন মণ্ডল পরিবারকে ৷ বয়স বেশি বলে স্কুলে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রেও প্রথমে সমস্যা হয়েছিল মণ্ডল দম্পতির ৷ তখন কাউন্সিলের সঙ্গে কথা বলে বলরামবাবুদের স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ করে দেন শিক্ষকরা ৷

বয়স যাই হোক না কেন, পড়াশোনার চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর মণ্ডল পরিবার ৷ স্কুলের গণ্ডি টপকে কলেজে যাওয়ারও ইচ্ছা রয়েছে বলরামবাবুদের ৷ নিজেদের সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছেন তাঁরা ৷

First published: 08:46:29 PM Mar 14, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर