শরীরে পোড়া দাগ, তাই নববধূকে প্রকাশ্যে বিবস্ত্র করে মারধর

Jul 15, 2017 04:03 PM IST | Updated on: Jul 15, 2017 04:03 PM IST

#কাটোয়া: শরীরে পোড়া দাগ । এরকম মেয়েকে কিছুতেই বিয়ে করতে পারে না তাদের ছেলে। বিয়ের প্রমাণও নেই। ছেলেও এই মূহূর্তে মিসিং । তাই নতুন বউকে শ্বশুরবাড়িতে ঢুকতেই দিল না শ্বশুরবাড়ির লোকজন। উল্টে শরীরের কোথায় পোড়া দাগ , তা দেখতে প্রকাশ্যে বিবস্ত্র করে মারধর করা হল। এমনই অভিযোগ আক্রান্ত মহিলার ও তাঁর পরিবারের। মারধরে অজ্ঞান মহিলা কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শ্বশুরবাড়ির আটজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে মেয়ের পরিবার।

এ গল্প হার মানায় সিনেমাকেও। মনে করিয়ে দেয় সত্যম শিবম সুন্দরমের কথা। সিনেমার রূপার মতই ছোটবেলায় ধূপের আগুনে পুড়ে যায় কাটোয়ার সিঙ্গি গ্রামের মেয়েটি । পুড়ে যায় ডান চিবুকের নীচ থেকে নাভিকুণ্ডুর নীচ পর্যন্ত। প্লাস্টিক সার্জারি হলেও দাগ পুরোপুরি যায়নি। শরীরের কোথায় পোড়া দাগ দেখতে এই মেয়েকেই প্রায় বিবস্ত্র করে মারধরের অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে।

শরীরে পোড়া দাগ, তাই নববধূকে প্রকাশ্যে বিবস্ত্র করে মারধর

বছর পাঁচেক আগে চুড়পুনি গ্রামের অমিত দাসের সঙ্গে ফোনে আলাপ। দু’বছর পর সামনাসামনি দেখা। তারপর কাটোয়া রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, বাজারে নিয়মিত দেখা সাক্ষাৎ। ২ জুলাই ক্ষেত্রপাল পুজো উপলক্ষে মেয়েটির বাড়িতে আসে অমিত। মেয়ের মায়ের দাবি, সেদিনই বাড়ির ঠাকুরকে সাক্ষী রেখে দুজনের বিয়ে হয়। তারপর পাঁচদিন এই বাড়িতেই ছিল অমিত।

বিয়ের কথা ফোনে জামাইবাবু সঞ্জয় মণ্ডলকে জানায় সে। পাঁচদিন পর সঞ্জয়ের ফোন পেয়েই মায়ের শরীর খারাপ বলে চলে যায় অমিত। আর ফেরেনি। এর মধ্যে বাবা-মায়ের কথা অমান্য করে ৪৫ হাজার টাকা, দু’ভরি সোনা , মোবাইল নিয়ে একাই চুড়পুনি গ্রামের দাসপাড়ায় শ্বশুরবাড়ি চলে যায় সদ্য বিবাহিত মেয়ে।

কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে এসে চূড়ান্ত হেনস্থা হতে হয় মহিলাকে। তাঁর অভিযোগ, বিয়েটা মানতেই চায়নি তাঁরা। টাকা, গয়না, মোবাইল, সব কেড়ে নেওয়া হয়। তারপর চরম অপমান। শরীরের কোথায় পোড়া দাগ দেখতে প্রকাশ্যে প্রায় বিবস্ত্র করে মারধর করা হয় তাঁকে।

বাড়ির বাইরে ড্রেন থেকে অজ্ঞান অবস্থায় মেয়েকে উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন পরিবারেরের লোকজন। মেয়ের শ্বশুরবাড়ির আটজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে অমিতের পরিবার।

জামাইকে ক্লিনচিট দিচ্ছে মেয়ের পরিবার। অমিতকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। দুদিন আগেই ছেলের মিসিং ডায়েরি করেছে অমিতের পরিবার। ঘটনার তদন্তে পুলিশ।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES