পুলিশের জালে খাগড়াগড় কাণ্ডের অন্যতম পাণ্ডা ! বাংলাদেশে গ্রেফতার হাতকাটা নাসিরুল্লা

Jul 08, 2017 07:19 PM IST | Updated on: Jul 08, 2017 07:19 PM IST

#ঢাকা: বাংলাদেশে ধৃত বর্ধমানের খাগড়াগড়কাণ্ডের অন্যতম পাণ্ডা সোহেল মেহফুজ ওরফে হাতকাটা নাসিরুল্লা। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ ওই জঙ্গিনেতার উপরে ১০ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুষ্কনী গ্রাম থেকে সোহেল মাহফুজসহ মোট চারজন জেএমবি জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জেরা করতে ঢাকায় যাচ্ছে এনআইএ।

পুলিশের জালে খাগড়াগড় কাণ্ডের অন্যতম পাণ্ডা ! বাংলাদেশে গ্রেফতার হাতকাটা নাসিরুল্লা

২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের খাগড়াগড়ে জঙ্গিদের একটি ডেরায় বিস্ফোরণ ঘটে। দু’জন মারা যায়। তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতে জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি-এর বিশাল নেটওয়ার্কের কথা জানা যায়। এ-পার বাংলার মাটিকে ব্যবহার করে ও-পার বাংলার গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার জন্য ধারাবাহিক নাশকতার প্রস্তুতি চলছিল বলে চার্জশিটে জানায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ।

তদন্তে নেমে দুই কুখ্যাত জামাত নেতা কওসর ও নাসিরের নাম পান তদন্তকারীরা। হাতকাটা নাসির অর্থাৎ নাসিরউল্লা ছিল জামাত উল মুজাহিদিনের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ও বোমা বিশেষজ্ঞ। নাসিরুল্লার আসল নাম সোহেল মাহফুজ। বাড়ি বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায়। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙাতেও বেশ কিছুদিন থেকেছে নাসিরুল্লাহ ওরফে সোহেল। বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুষ্কনী গ্রামের একটি আমবাগান থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোহেলের সঙ্গে ধরা পড়েছে হাফিজুর রহমান, জামাল এবং ইসমাইল নামে তিন জেএমবি জঙ্গি। সোহেল মাহফুজ ৷

ঢাকার গুলশনে হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলারও নেপথ্য নায়ক। ২০০০ সালের পয়লা জুলাই ঢাকার ওই রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। ১৭ জন বিদেশি-সহ মোট ২০ জনকে হত্যা করে তারা। গুলশনকাণ্ডে জঙ্গিদের হাতিয়ার আর গ্রেনেড সরবরাহ করেছিল সোহেল। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের দাবি, শনিবার ভোররাতে আমবাগানে বৈঠক করার সময় গ্রেফতার করা হয়েছে সোহেলকে। কিন্তু অন্য একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৯ জুনই ওই জঙ্গিনেতাকে জালে পুরেছে ঢাকার সন্ত্রাসদমন শাখা।

২৯ জুন ঢাকার মীরপুরের কাছে একটি সন্দেহভাজন অটো রিকশাকে থামতে বলে পুলিশ। কিন্তু সেই অটো থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। পুলিশের পালটা গুলিতে জখম হয় খোরশেদ আলম রুবেল নামে এক জেএমবি জঙ্গি। তাকে জেরা করেই হাতকাটা নাসিরুল্লা ওরফে সোহেল মাহফুজের সন্ধান পান ঢাকার গোয়েন্দারা। সেদিনই বাংলাদেশের বগুলা থেকে গ্রেফতার করা হয় সোহেলকে।

তাহলে এতদিন সব কথা গোপন রাখা হল কেন? সূত্রের খবর, জেএমবি জঙ্গি তালহা ওরফে শ্যমলের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল সোহেলের। কিন্তু পুলিশের জাল কেটে অল্পের জন্য বেরিয়ে যায় তালহা। খাগড়াগড়কাণ্ডে তালহা ওরফে শ্যামলেরও নাম রয়েছে। তবে কী তাকে ধরতেই সোহেলের গ্রেফতারির খবর গোপন রাখা হয়েছিল ? এ নিয়ে ধন্দ রয়েছে।

গত বছর ১৬ জুলাই খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডের চার্জশিট পেশ করেছে এনআইএ। তাতে প্রধান অভিযুক্ত হিসাবে নাম রয়েছে নাসিরুল্লা ওরফে সোহেলের। সোহেল মাহসুদকে জেরা করতে ঢাকায় যাচ্ছে এনআইএ।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES