গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হাওড়া, উদ্ধার ৫০০ রাউন্ড কার্তুজ সহ বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র

Jun 16, 2017 07:57 PM IST | Updated on: Jun 16, 2017 07:57 PM IST

#হাওড়া: গ্যাংওয়ারে উত্তপ্ত হাওড়ার জয়পুর। জয়পুরে গোষ্ঠী সংঘর্ষে মৃত ২, আহত ৩ ৷ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার ৫০০ রাউন্ড কার্তুজ, ৩টি ওয়ান এমএম পিস্তল, ৩টি ওয়ান শটার, ৩টি ৯ এমএম পিস্তল, ৫টি তলোয়ার ও একটি করাত ৷ এছাড়া উদ্ধার বেশ কয়েকটি মোবাইল ৷ সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার ১৩জন ৷ গ্রেফতার বিল্লু ও ইমতিয়াজ দুই গোষ্ঠীরই ছেলে ৷ ধৃতদের মধ্যে ৩ জন ভাঙলপুরের বাসিন্দা, একজন উঃ ২৪ পরগনার, বাকিরা জয়পুরের বাসিন্দা ৷

নদীর উপর বাঁশের পোল। তার থেকে আদায় করা টোল নিয়েই যত অশান্তি। অশান্তি থেকে রুদ্ধশ্বাস গ্যাংওয়ার। মাত্র দেড় ঘণ্টার অপারেশন। তাতেই উত্তাল মুণ্ডেশ্বরী, দামোদর, রূপনারায়ণ দিয়ে ঘেরা হাওড়া জয়পুরের ঘোড়াবেড়িয়া , চিতনান আর ভাটোরা গ্রাম। চলল গুলি। গুলিতে নিহত শেখ লালচাঁদ ও তার ভাই শেখ শাজাহান । দুজনেই কুখ্যাত সমাজবিরোধী বলে এলাকায় পরিচিত। গুলিবিদ্ধ বেশ কয়েকজন । তিন ঘণ্টা পর পুলিস সুপার সুমিত কুমারের নেতৃত্বে পুলিশ ঢোকে গ্রামে । আসে ফরেনসিক টিম। বন্ধ হয়ে যায় ব্যাঙ্ক , স্কুল, দোকানবাজার , পঞ্চায়েত অফিস। দেওয়ান ঘাট থেকে গ্রেফতার করা হয় বিলু-সহ ১৩ দুষ্কৃতীকে । উদ্ধার হয় এগারটি ধারালো অস্ত্র। থানায় দুষ্কৃতীদের ছিনিয়ে নিতে যায় নিহতের পরিবার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।

গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হাওড়া, উদ্ধার ৫০০ রাউন্ড কার্তুজ সহ বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র

file picture

মুণ্ডেশ্বরী, দামোদর, রূপনারায়ণ দিয়ে ঘেরা ঘেরা ঘোড়াবেড়িয়া , চিতনান আর ভাটোরা। পুরোটাই দ্বীপ এলাকা। নৌকা ছাড়া গ্রামে ঢোকার উপায় নেই।

দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্য

---এলাকায় একটা সময়ে রাজ ছিল কুখ্যাত দুষ্কৃতী জুটি বালা-বিলুর

-- অস্ত্রভাণ্ডার ছাড়াও ভিন জেলার দুষ্কৃতীদের নিশ্চিন্ত আশ্রয়

---২০১১-র পর গ্রেফতার করা হয় বালা -বিলুকে

---উঠে আসে শেখ ইমতিয়াজ ও শেখ লালচাঁদ

--বালা-বিলুকে গ্রেফতারে পুলিশকে সাহায্য করে লালচাঁদ

---তারপর থেকেই গ্রামের মুখ হয়ে ওঠে লালচাঁদ

নিজের উদ্যোগে চাঁদা তুলে কুলিয়া ঘাটের ধারে বাঁশের পোল বানায় লালচাঁদ। লাগানো হয় আলো, সিসিটিভি। পোল থেকে আদায় করা হত টোল। প্রতিদিন রোজগার দশ থেকে পনের হাজার টাকা। পঞ্চায়েতকে দিয়েও নিজের জন্য থেকে যেত বেশ বড় একটা অঙ্ক। গ্রামে একচেটিয়া রাস্তা তৈরি, পুকুর কাটার কাজ করতে শুরু করে লালচাঁদ। আর এই নিয়েই শুরু গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব। তার প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে শেখ ইমতিয়াজ।

জামিনে মুক্তি পেয়ে ইমতিয়াজের সঙ্গে হাত মেলায় বালা-বিলু। পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি থেকে লোক জড়ো করতে শুরু করে গ্রামে। শুক্রবার সকালে শুরু হয় অ্যাকশন। টার্গেট শেখ লালচাঁদ ।

রুদ্ধশ্বাস অ্যাকসন

---সকাল ৭ প্রথমে ভাটোরা গ্রামে লালচাঁদের বাড়িতে হামলা

---সেই সময়ে বাজার থেকে ফিরছিল ভাই শাজাহান

---লালচাঁদকে না পেয়ে ভাইকেই লক্ষ করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা

--পালানোর চেষ্টা করলে রাস্তায় ফেলে ফের গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ

---নদীর ধারে গুলি করে কুপিয়ে খুন করা হয় লালচাঁদকে

----গুলিবিদ্ধ হয় ৩ জন

-----এরপর গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে বাইকে চেপে যে যেদিকে পারে চম্পট দেয়

তিন ঘণ্টা দেহ পড়ে থাকে গ্রামে। পুলিস সুপার সুমিত কুমারের নেতৃত্বে পুলিশ ঢোকে গ্রামে । আসে ফরেনসিক টিম। বন্ধ হয়ে যায় ব্যাঙ্ক , স্কুল, দোকানবাজার , পঞ্চায়েত অফিস। আতঙ্কে ঘরবন্দী মানুষ। দেওয়ান ঘাট থেকে গ্রেফতার করা হয় বিলু-সহ ছয় দুষ্কৃতীকে । উদ্ধার হয় এগারটি ধারালো অস্ত্র। জয়পুর থানায় ঢেকানোর সময়ে নিহত লালচাঁদের পরিবার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ধৃত বিলুকে।

গ্রামে বসেছে পুলিশ পিকেট। রয়েছে র‍্যাফ ও কমব্যাটফোর্স। এখনও ফেরার বালা ও ইমতিয়াজ। ফের আক্রমণের ভয়ে গ্রাম ছাড়ছেন গ্রামবাসীরা।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES