হাওড়ার জয়পুরে ধৃত ‘ভুয়ো’ ডাক্তার

Jul 04, 2017 08:11 PM IST | Updated on: Jul 04, 2017 08:13 PM IST

#হাওড়া: ফের পুলিশের জালে ভুয়ো ডাক্তার। আজ হাওড়ার জয়পুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মৃণাল ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তিকে। এলাকায় দাঁতের ডাক্তার নামে পরিচিত তিনি। স্থানীয়দের থেকে অভিযোগ পেয়ে আজ হানা দেয় পুলিশ। তাঁর ডাক্তারি পাসের শংসাপত্র দেখতে চায় পুলিশ। তা না দেখাতে পারায় গ্রেফতার করা হয় মৃণালকে।

হাওড়ার জগাছায় সেন্ট্রাল ক্যালকাটা মেডিক্যাল কলেজের নামে সংস্থা। দীর্ঘদিন ধরেই সংস্থা থেকে মিলছে সার্টিফিকেট। ধৃত কলেজ মালিক, কাকদ্বীপ সরকারি হাসপাতালের কর্মী অমল খাটুয়া।

হাওড়ার জয়পুরে ধৃত ‘ভুয়ো’ ডাক্তার

কেঁচো খুঁড়তে মিলল কেউটের খোঁজ। বাউড়িয়ার ভুয়ো চিকিৎসক রমাশংকর সিং-এর খোঁজ প্রথম দেয় ইটিভি নিউজ বাংলাই। পাঁচই জুন রমাশংকরকে গ্রেফতার করে সিআইডি। তার সার্টিফিকেট ঘেঁটেই খোঁজ মিলল আস্ত একটি ভুয়ো মেডিক্যাল কলেজের। জগাছার কামারডাঙায় হাওড়া সেন্ট্রাল ক্যালকাটা মেডিক্যাল কলেজ। তা শুনে হতভম্ব হাওড়া পুরসভার ৪৮ নম্বরের প্রাক্তন কাউন্সিলর।

ভুয়ো ডাক্তার রমাশংকরের কাছ থেকে মেডিক্যাল কলেজের নাম জানতে পেরে হাওড়া সিটি পুলিশকে জানায় সিআইডি। মঙ্গলবার রাতে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় ওই কলেজের মালিক, কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালের ECG বিভাগের কর্মী অমল খাটুয়াকে। তদন্তে জানা গেছে, ১৯৭৪ সালে রামরাজাতলা স্টেশনের কাছে তৈরি হয় কলেজ।

মেডিক্যাল কলেজের নাম জানতে পেরে হাওড়া সিটি পুলিশকে জানায় সিআইডি। মঙ্গলবার রাতে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় অমল খাটুয়াকে। সামনে এসেছে তাঁর মেডিক্যাল কলেজের নানা কীর্তিও।

-মেডিক্যাল কলেজটির রেজিস্ট্রেশনই ভুয়ো

-১৫ বছর আগে কলেজটি কামারডাঙার বাড়িতে সরিয়ে আনা হয়

- ক্ষিতীশের পর কলেজের দায়িত্ব নেয় ছোট ছেলে অমল

- চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে কলেজ চালাত অমল

- সপ্তাহে শুধুমাত্র রবিবার ক্লাস হত

- ৩ বছরের কোর্স চলত

-পড়ানো হত ফিজিওথেরাপি, নার্সিং, হোমিওপ্যাথি ও অলটারনেটিভ মেডিসিন

- ফি মাসে সাড়ে ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা

- ইতিমধ্যে কমপক্ষে আড়াই হাজার জন পাস করেছেন

-মূলত পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশে ওই ভুয়ো ডাক্তাররা ছড়িয়ে

- রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মেডিক্যাল কলেজের অফিস

যদিও নাকের ডগায় ভুয়ো মেডিক্যাল কলেজ চললেও, তা টের পাননি এলাকাবাসী এবং নেতা-নেত্রীরা।

ধৃত অমল খাটুয়াকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে হাওড়া আদালত। পুলিশের মাথাব্যথা এখন সেইসব ভুয়ো চিকিৎসকদের নিয়েই, যারা ওই কলেজ থেকে পাস করে বিভিন্ন জায়গায় চেম্বার খুলে বসে আছেন।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES