নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে কোটি টাকার বালি চুরি

Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Mar 26, 2017 03:26 PM IST
নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে কোটি টাকার বালি চুরি
Photo : AFP
Akash Misra | News18 Bangla
Updated:Mar 26, 2017 03:26 PM IST

#দুর্গাপুর: নিয়ম নীতি আছে কিন্তু সেসব মানে কে ? খোদ প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে দিনের পর দিন কোটি কোটি টাকার বালি চুরি হচ্ছে । অবৈজ্ঞানিক ভাবে বালি তোলায় দামোদর নদ ক্রমশ এগিয়ে আসছে দুর্গাপুর সংলগ্ন মানা চরের দিকে । এই ভাবে বালি তোলা হলে সামনের বর্ষাতেই দামোদর নদ তাঁর নিজস্ব গতিপথ পরিবর্তন করে গ্রাস করে নেবে প্রায় দশ হাজার মানুষের বসতি মানা চর । প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরেও বন্ধ কড়া যায়নি অবৈধ বালির কারবার। বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার থেকে বালি খাদানের পাশেই অনশন মঞ্চ তৈরি করে ৫৫ জন মানুষ শুরু করেছেন আমরন অনশন ।

দুর্গাপুর ব্যারেজ লাগোয়া এলাকায় বেশ কয়েকটি বৈধ বালি খাদান থাকলেও দুর্গাপুরের দিকে দামোদরের পাড়ে কোনও বৈধ বালি খাদান নেই । কিন্তু ব্যারেজের পাশেই থাকা সীতারামপুর থেকে শ্রীরামপুর পর্যন্ত প্রায় দশ কিলোমিটার দামোদরের পাড় দীর্ঘদিন ধরেই এক শ্রেণীর বালি মাফিয়াদের স্বর্গ রাজ্য । নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের চোখের সামনে বছরের পর বছর ধরে দামোদর নদ ও তার শাখানদীর মাঝখানের চর কেটে শয়ে শয়ে ট্রাক বোঝাই করে বালি নিয়ে বালি মাফিয়ারা পাচার করছে দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকায় । এক সময় চরের দু পাড়ে ভাঙন রোধে সরকারী উদ্যোগে লাগানো হয়েছিল লক্ষ লক্ষ গাছ । বালি মাফিয়ারা দিনের আলোয় সেই গাছ কেটেও সাফ করে দিচ্ছে । বালি মাফিয়াদের এই দউরাত্মে চর জুড়ে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য গভীর বালি খাদ । এই খাদের মধ্য দিয়েই দামোদর ও তার শাখানদীর খাত ক্রমশ একে অপরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে । এর ফলে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে প্রায় দশ কিলোমিটার বিস্তৃত উর্বর মানা চর ।

এই মানা চরেরই বিভিন্ন অংশে প্রায় দশ হাজার মানুষের বসবাস । চর হারিয়ে গেলে তাঁদেরও অস্তিত্ব বিপন্নতার পথে এগিয়ে যাবে এই আশঙ্কায় একাধিক বার বালি মাফিয়াদের রোখার চেষ্টা করেছিলেন চরের মানুষ । কিন্তু বালি মাফিয়াদের হুমকির মুখে পড়ে বারবার সেই প্রতিবাদের পথ থেকে সরে এসেছিলেন চরের মানুষ । এবার তাই সকলে জোটবদ্ধ ভাবে বালি খাদের পাশেই রীতিমত অনশন মঞ্চ করে ৫১ জন গ্রামবাসী অনশন শুরু করেছেন ।

অনশন শুরু হতেই পিছু হটতে শুরু করেছে অবৈধ বালি কারবারিরা । আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এলাকার সব কটি বালি খাদান । কিন্তু এখনও বহু খাদানে পড়ে রয়েছে বালি তোলার বেশ কিছু যন্ত্র পাতি । অবৈধ এই বালির কারবারের কথা মানছেন স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বড়জোড়া ব্লক দফতর ও ভুমি রাজস্ব দফতর । কিন্তু বালির কারবার বন্ধের ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে তেমন কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি । স্বাভাবিক ভাবেই নিজেদের অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এলাকার মানুষ ।

First published: 03:26:56 PM Mar 26, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर