শরীরে সুচ, যৌনাঙ্গে একাধিক ক্ষত, শিশুকন্যার উপর নারকীয় অত্যাচার প্রৌঢ়ের !

Jul 15, 2017 07:08 PM IST | Updated on: Jul 15, 2017 07:08 PM IST

#পুরুলিয়া:  শরীরের ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে সাতটি সুচ। যৌনাঙ্গে একাধিক ক্ষত। চোখের তলায় পুরু কালো দাগ । সারা শরীরে অসংখ্য কালশিটে। শিশুর বয়স মাত্র সাড়ে তিন বছর। শিশুটির মা-কে চেপে ধরতে জানা যায়, এই নারকীয় অত্যাচার চালিয়েছে ৬৫ বছরের সনাতন ঠাকুর। যার সঙ্গেই থাকত শিশুটির মা। মঙ্গলবার শিশুকন্যাকে দেখে শিউরে উঠেছিলেন পুরুলিয়া সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা। অভিযুক্তের খোঁজ মেলেনি। অবস্থার অবনতি হওয়ায় শিশুটিকে এসএসকেএমে আনা হয়।

মঙ্গলবার। পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যাকে জ্বর নিয়ে ভর্তি করতে যায় মা। শিশুর গায়ে অসংখ্য ক্ষত, সারা শরীরে কালশিটে দাগ, এমনকী যৌনাঙ্গেও বীভৎস ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট। চিকিৎসকরা একনজরেই বুঝতে পারেন, শিশুটি মানসিক ও শারীরিকভাবে চরম নির্যাতনের শিকার। যদিও চুপ ছিল মা। হাসপাতাল থেকেই সদর থানায় ঘটনা জানানো হয়। কিন্তু কোনও অভিযোগ না পেয়ে ফিরে যায় পুলিশ। পরে সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে বেরিয়ে আসে মূল অভিযুক্ত সনাতন ঠাকুরের নাম।

শরীরে সুচ, যৌনাঙ্গে একাধিক ক্ষত, শিশুকন্যার উপর নারকীয় অত্যাচার প্রৌঢ়ের !

মেয়ের উপরে এরকম অত্যাচারের পরেও কেন মুখ খোলেননি মা ? জানা গিয়েছে, স্বামী পরিত্যক্তা ওই মহিলা পুরুলিয়ার মফস্বল থানার সতরো এলাকায় থাকত। বছর পঁয়ষট্টির বিপত্নীক সনাতন নদিয়াড়ায় গ্রামের বাড়িতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহিলাকে নিয়ে থাকতে শুরু করে। অভিযুক্তকে বাঁচাতেই মহিলা প্রথমে নাম বলেননি বলে অভিযোগ। শিশুটি সনাতনকে পছন্দ না করায় চলত নির্যাতন। মারধর তো বটেই, সাড়ে তিন বছরের শিশু রেহাই পায়নি বৃদ্ধের বিকৃত লালসা থেকেও। যৌনাঙ্গে একাধিক ক্ষত থেকেই তা স্পষ্ট। এক্স-রে রিপোর্ট বলছে, শিশুর শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে সাতটি সুচও। পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে বোর্ড গড়ে শুরু হয় শিশুর চিকিৎসা। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পাঠানো হয় বাঁকুড়া মেডিক্যালে। সেখান থেকে কলকাতার এসএসকেএমে পাঠানো হয় তাকে।

নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য শিশুর উপর অত্যাচার হলেও কীভাবে চুপ ছিল মা ? কীভাবে এক বিকৃতকাম বৃদ্ধকে সঙ্গ দিয়ে যায় শিশুরই মা ? তার ভূমিকা নিয়েও তাই প্রশ্ন উঠছে।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES