খাবারে মাছ বা তারপর সুখটানের সিগারেট, উদয়নের আবদার মেটাতে নাজেহাল বাঁকুড়া পুলিশ

Dolon Chattopadhyay | News18 Bangla
Updated:Feb 09, 2017 03:54 PM IST
খাবারে মাছ বা তারপর সুখটানের সিগারেট, উদয়নের আবদার মেটাতে নাজেহাল বাঁকুড়া পুলিশ
Photo : AFP
Dolon Chattopadhyay | News18 Bangla
Updated:Feb 09, 2017 03:54 PM IST

#বাঁকুড়া: উদয়নের আবদার মেটাতে নাজেহাল বাঁকুড়া পুলিশ। দুপুরের খাবারে মাছ বা তারপর সুখটানের সিগারেট। পুলিশের কাছে লাগাতার নানা বায়না করে চলেছে উদয়ন দাস। নিয়ম করেই তাকে জেরা চালাচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে তার অপরাধী মানসিকতার হদিশ পেতে উদয়নকে রাখা হয়েছে সিসিটিভির আওতায়।

তিন খুনের আসামি। কিন্তু, উদয়ন দাসের আবদারে অস্থির বাঁকুড়া জেলা পুলিশ। একসময় বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত উদয়ন। তাই পুলিশ হেফাজতেও নানা দাবিদাওয়া তুলছে সে। বেলা করে ঘুমনো অভ্যাস হলেও, হাজতে সকাল সাতটার মধ্যেই ঘুম ভাঙছে উদয়নের।

উদয়নের প্রাতরাশ

- সকালে চা ও ২টি করে টোস্ট দেওয়া হচ্ছে উদয়নকে

দুপুরের খাবারেও উদয়নের বায়না কম নয়। বারবার দুপুরে মাছ খাবার দাবি তুলছে সে। কিন্তু, গলায় কাঁটা ফুটে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে মাছ খাওয়াতে নারাজ বাঁকুড়া জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার তার দুপুরের মেনুতে ছিল, ভাত, পটলভাজা, আলুভাজা, বেগুনভাজা, আলুর চোখা, ফুলকপির তরকারি ও ওমলেট।

খাওয়া মিটতেই সুখটানের জন্য সিগারেটও চাইছে উদয়ন। সাধারণত, বিকেল চারটে থেকে রাত এগারোটা পর্যন্ত উদয়নকে জেরা করা হয়। বাঁকুড়া জেলা পুলিশ সুপারের অফিসের তিনতলার একটি জানালাহীন ঘরে তাকে জেরা করেন পুলিশকর্তারা। জেরার গোটাটাই ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়। জেরায় উদয়নের বিলাবহুল জীবন নিয়ে হালকা চালে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন পুলিশকর্তারা।

প্রশ্ন: আপনার ব্লেজারগুলি এত ঢোলা কেন?

উত্তর: জুলাই মাসের আগে পর্যন্ত আমি যথেষ্ট মোটা ছিলাম, আমার চেহারার মাপেই ব্লেজারগুলি কেনা।

প্রশ্ন: কেন আপনি কিছু কাজ করেন না?

উত্তর: কাজ করতে ভাল লাগে না

প্রশ্ন: এতগুলি খুন করলেন অনুতাপ হয় না?

উত্তর: আমি মা-বাবার কাছে ক্ষমা চাই। বন্ধুদের কাছেও ক্ষমা চাইছি।

পুলিশ জানিয়েছে, উদয়নের বাড়ি থেকে ২০ জোড়া জুতো মিলেছে ৷ ভোপালের বাড়িতে ৫৬ ইঞ্চি ৩টি কালার টিভি, ও এলএক্সে কেনা মার্সিডিজ বেঞ্চ, হোন্ডা সিটি গাড়ি, একটি স্পোর্টস বাইক পাওয়া গিয়েছে ৷ জুলাই মাস পর্যন্ত ফ্রিজে সবসময় মিনারেল ওয়াটার থাকত ৷

ধরা পড়ার এর আগে রোজ সিঙ্গাড়া খেত ও ২ বোতল সস্তার মদ ৷ তাকে একা ঘরের মধ্যে রাখা হচ্ছে ৷ সিসিটিভির মনিটরি-এর আওতায় আছে, যাতে বুঝতে পারা যায় সে কী করছে, কী ভাবছে ৷ প্রত্যেকদিন জেরার বেশির ভাগ সময়ই বিকেল ৪ টে থেকে রাত ১১টা ৷ এসপি অফিসের তিনতলায় তাকে জেরা করা হচ্ছে, জানালা নেই ৷ জেরার মাঝে মুড়ি ও বেগুনিও খেয়েছে উদয়ন ৷

ভোপালের বাড়িতে আমেরিকার পোস্টার ও ফ্ল্যাগ টাঙিয়ে রাখত ৷ জুলাইয়ের পর থেকে টাকা কমতে থাকে, তার আয়েসও কমতে থাকে বলে জানিয়েছে পুলিশ ৷

First published: 03:54:23 PM Feb 09, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर