সমুদ্রের ৫০০ মিটার গভীরের ছবি তুলবে দুর্গাপুরের বিজ্ঞানীদের তৈরি এই যন্ত্র !

Apr 06, 2017 02:58 PM IST | Updated on: Apr 06, 2017 02:58 PM IST

#দুর্গাপুর: জলের নীচের পরিবেশ জানাও এবার আরও সহজ হতে চলেছে ৷ মার্চের ৪ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত গোয়া উপকূল থেকে ৯০ নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে সিএসআইআর-সেন্ট্রাল মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইন্সট্রিটিউট-এর (CSIR-CMERI) বিজ্ঞানীরা একটি পরীক্ষামুলক অভিযান চালান "Autonomous Underwater Vechcal (AUV-500)-এর । ৫০০ মিটার পর্যন্ত গভীর সমুদ্রের নীচে কি কি সম্পদ রয়েছে সেসম্পর্কে জানতে AUV-500-এর সফল পরীক্ষা চালানো হয় গোয়ার উপকূলে ।

প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন বছর ন’মাস সময়ে সিএমইআরআইয়ের বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন এই AUV-500 যান । এই যানটির বৈশিষ্ট হল গভীর সমুদ্রে ৫০০ মিটার গভীর পর্যন্ত ছবি তুলতে সক্ষম । সমুদ্রের নীচে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের (লিভিং ও নন লিভিং) হদিস দেবে এই বাহনটি । এই বাহনটি দেশের নৌসেনাও নজরদারির জন্য ব্যবহার করতে পারবে ।

প্রায় ২০ ফুট লম্বা এবং ৮ ফুট চওড়া এই বাহনটির ব্যাটারি একবার সম্পুর্ণ চার্জ দিলে পাঁচ থেকে ছ’ঘণ্টা টানা কাজ করতে পারে । বাহনটিতে কোনও চালক বা যাত্রী না থাকায় সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে জাহাজের উপরে তৈরি করা অস্থায়ী কন্ট্রোলরুম থেকে । দেশের ৭৫০০ কিলোমিটার সমুদ্র উপকূল এলাকায় ৫০০ মিটার গভীর পর্যন্ত নজরদারি চালাতে সক্ষম এই বাহন । ১১ মার্চ সকাল ৯টা ২৪ মিনিট ২৯ সেকেন্ড গোয়ার সমুদ্র উপকূলে আরভি সিন্ধু সাধনা জাহাজ থেকে ২৮৬.১৪ মিটার গভীরতা পর্যন্ত সফল ভাবে তথ্য সংগ্রহ করে এটি । এই রোবটিক বাহনটি আরও আধুনিক করতে উদ্যোগ নিচ্ছে সিএসআইআর-সেন্ট্রাল মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইন্সট্রিটিউটের (CSIR-CMERI) বিজ্ঞানিরা । আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০০০ মিটার গভীর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহে সক্ষম বাহন তৈরী করতে চায় বিজ্ঞানীরা ।

দুর্গাপুরে প্রাথমিক ভাবে পরীক্ষা করার পরেই  এই চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষা হয় বলে জানান, রিসার্চ সেন্টারের ডিরেক্টর হরিশ হিরানি। তাঁর কথায়, “ আমাদের তৈরি মেশিন খুব বড় সাফল্য পেয়েছে। গোয়ার সমুদ্রে ১১ মার্চ যন্ত্রটির পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষায় সেটি সাফল্য পায়। সমুদ্রের নীচে ২৮৮ মিটার গভীরে গিয়েছে যন্ত্রটি। ভবিষ্যতে আরও গভীরে যাওয়ার কাজ চলবে। সমুদ্রের নীচে হারিয়ে যাওয়া সম্পদ খুঁজে পেতেও  সাহায্য করবে যন্ত্রটি ,তার সঙ্গে সমুদ্রের অজানা মাছ যা থেকে মানুষ পুষ্টি লাভ করবে তাঁরও সন্ধান দেবে এই যন্ত্র।’’ এই যন্ত্রটি  ভারতীয় নৌসেনাদের বিশেষ ভাবে সাহায্য করবে বলেও দাবি ডিরেক্টর হরিশ হিরানির।

RECOMMENDED STORIES