আসানসোলে বউভাতের অনুষ্ঠানে গুলি চালনার ঘটনায় পুলিশের হাতে এল নয়া তথ্য

Jul 03, 2017 08:04 PM IST | Updated on: Jul 03, 2017 08:05 PM IST

#আসানসোল: আসানসোলে বউভাতের অনুষ্ঠানে গুলি চালানোর ঘটনায় নয়া তথ্য। পুলিশের সন্দেহের তালিকায় ধৃত অলোক সাহির আরও এক সঙ্গী পরেশ। এই দু'জনের সঙ্গেই মোবাইল টাওয়ারে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করত গুলিবিদ্ধ কিষাণ বাউড়ি। মোবাইল টাওয়ারের জমির মালিকের দাবিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিশের অনুমান, অভিযুক্ত অলোক সাহির আরও সঙ্গী ছিল। সন্দেহের তালিকায় রয়েছে পরেশ নামে এক যুবকও। ঘটনার পর থেকেই খোঁজ নেই তাঁর। পরেশ-অলোকের সঙ্গেই কাজ করতেন গুলিবিদ্ধ কিষাণ। পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন একসঙ্গে মদ্যপান করে ওরা তিন জন। তারপরেই বউভাতের অনুষ্ঠানে যায় তারা। এখনও উদ্ধার হয়নি খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র।

আসানসোলে বউভাতের অনুষ্ঠানে গুলি চালনার ঘটনায় পুলিশের হাতে এল নয়া তথ্য

যে জমিতে টাওয়ার বসানো হয়েছে সেই জমির মালিক রাজু সাহি ৷ ১ তারিখ তিন বন্ধু একসঙ্গে বসে মদ খায় ৷ তিন বন্ধুই টাওয়ারে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করত ৷ কিষাণ বাউড়ি (সাগর বাউড়ির দাদা কিষাণ ওরফে গুড্ডু - গুলিবিদ্ধ), আলোক সাহি (গণপিটুনি খেয়ে হাসপাতালে) এবং পরেশ বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে গানের তালে একসঙ্গে নাচেনও ৷ এরপরই গুলি চালানোর ঘটনা ৷ বিয়ে বাড়ির লোকরা অলোককে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও ঘটনার পর থেকে পলাতক পরেশ ৷ ২০০৪ সালে রাজু সাহি গ্রামের ছেলে অলোককে কাজের জন্য নিয়ে আসে ৷ তারপর থেকে মোবাইল টাওয়ারে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করে সে ৷ বেশ কয়েকমাস আগে থেকেই অলোক সাহি রাজু সাহিকে দুবাই যাওয়ার কথা বলে ৷ কিন্তু দুবাইয়ের কিছু অশান্তির জেরে মালিক বারন করে যেতে ৷ তারপরই এই ঘটনা ৷ পুলিশের অনুমান, টাকার সমস্যা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে বিবাদ রয়েছে, নয়তো এটি দুর্ঘটনাবশতও ঘটতে পারে ৷ কারন বিহার-উত্তরপ্রদেশে বিয়ের অনুষ্ঠানে বন্দুক চালানোর রেওয়াজ রয়েছে ৷ এখানে তেমনটাও ঘটতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে ৷ তদন্তে আপাতত এইসব অনেক তথ্যই উঠে আসছে ৷

অন্যদিকে ঘটনাস্থল থেকে একটি কার্তুজের খোল উদ্ধার হলেও, ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ ৷ পুলিশের অনুমান অলোক বন্দুক নিয়ে গুলি চালায়, যদিও হাসপাতালে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি ৷ পরেশের বাড়ি ঝাড়খণ্ডে, তাই ভিন রাজ্যেও যেতে পারে আসানসোলের পুলিশ ৷

শনিবার ছিল সাগর বাউরির বউভাতের অনুষ্ঠান। ভাইয়ের বউভাতে সহকর্মী অলোক সাহিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলন সাগরের কিষন বাউরি। অনুষ্ঠান চলাকালীন আচমকাই অলোক সাহি বন্দুক বের করে গুলি চালাতে থাকেন। তাঁকে আটকাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন কিশন বাউরিও।

গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁদের আত্মীয় অনিতা বাউরির। একটি গুলি ছুঁয়ে যায় লক্ষ্মী বাউরির পেট ঘেঁষে। ঘটনার পরই এলাকাবাসীরা অভিযুক্ত অলোক সাহিকে ধরে ফেল। চলে গণপিটুনি। পরে আসানসোল দক্ষিণ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

RECOMMENDED STORIES