দাদুর বিরুদ্ধে সুচ বিঁধিয়ে তিন বছরের শিশুর উপর নির্মম অত্যাচারের অভিযোগ, ‘শাস্তি’ ভোগ করছেন নাতি-নাতনি!

Aug 04, 2017 04:59 PM IST | Updated on: Aug 04, 2017 04:59 PM IST

#পুরুলিয়া: নাতি -নাতনিদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ। আসছেন না গৃহশিক্ষক। বন্ধ হতে বসেছে নিত্যপুজো। বাড়িতে ঢুকতে নারাজ পুরোহিতও। আটকে গেছে স্ত্রীর বাৎসরিক কাজ। উলটে বাড়িতে যখন তখন পুলিশ, সাংবাদিকদের আনাগোনা। চরম আতঙ্কে সনাতন ঠাকুরের পরিবার। শিশুকে সূচবিদ্ধ করার ঘটনায় সনাতন গ্রেফতারের পর কার্যত একঘরে তার পুরো পরিবার। এদিকে এই ঘটনায় শুক্রবার পুরুলিয়া জেলা আদালতে গোপন জবানবন্দি দেন সনাতনের পূত্রবধূ এবং প্রতিবেশী।

কখনও গলা ছেড়ে গান। কখনও আবার নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি। তিন বছরের শিশুর শরীরে সুচ ফুটিয়ে খুনের পরও চোখে মুখে কোনও মনস্তাপের ছাপ নেই ধৃত সনাতন ঠাকুরের। কিন্তু দোষ না করেও শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে তার পরিবারকে। আজ তাঁরা কার্যত একঘরে।

দাদুর বিরুদ্ধে সুচ বিঁধিয়ে তিন বছরের শিশুর উপর নির্মম অত্যাচারের অভিযোগ, ‘শাস্তি’ ভোগ করছেন নাতি-নাতনি!

গত চব্বিশ দিনে ঝড় বয়ে গেছে সনাতন ঠাকুরের পরিবারের উপর দিয়ে। সনাতনের আট নাতি নাতনি। কেউ স্কুলে যেতে পারছে না । স্কুলে গেলেই নানা অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। আসছেন না গৃহশিক্ষকরা । পড়াশোনা শিকেয়। প্রভাব পড়ছে শিশুমনে। বন্ধ হতে বসেছে নিত্য পুজো। পুরোহিত বাড়িতে ঢুকতে চাইছেন না। সনাতনের স্ত্রীর বাৎসরিক কাজও মাঝপথে আটকে। যখন তখন পুলিশ আসছে বাড়িতে। রীতিমত আতঙ্কে গোটা পরিবার।

ঘরবন্দি জীবনযাপন। সনাতন যে এমন কুকর্ম করতে পারে এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না পরিজনদের। দিনভর চোখ আটকে টিভিতে। এতকিছুর মধ্যেও দাদুর জন্য একটু মন খারাপ নাতি নাতনিদের। মোবাইলেও দাদুর গাওয়া গান শুনেই কাটছে সময়।

গ্রেফতারির পরই তদন্তকে ভুল পথে চালানোর চেষ্টা করে সনাতন। শিশুকে সূচ ফোটানোর দায় চাপিয়ে দেয় পূত্রবধুর উপর। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেন সনাতনের পুত্রবধূ রিঙ্কি ঠাকুর। পুরুলিয়া জেলা আদালতে গোপন জবানবন্দি দেন সনাতনের দুই পুত্রবধূ রিনা ও রিঙ্কি। গোপন জবানবন্দি দেন প্রতিবেশী পাগলচন্দ্র রায়ও।

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES